প্রেম করে বিয়ে, অতঃপর স্ত্রীকে খুন করে পালালেন স্বামী

0

ঝাউতলার বাসিন্দা রোজি আক্তার (২৩)। নগরের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি। চাকরির সুবাধে তার পরিচয় হয় একই ইউনিভার্সিটির সহকর্মী রেজাউল করিমের (৩০) সঙ্গে।

পরিচয়টা একটা সময় প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। এরপর ভালোবাসার মানুষটিকে বিয়ে করেন রোজি। তবে বিয়েতে রোজির পরিবারের সবাই উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না রেজাউল করিমের পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে বিয়ের আট মাসের মাথায় লাশ হতে হয় রোজিকে। তাকে খুন করে স্বামী রেজাউল করিম পালিয়ে যায় বলে জানা যায়। সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকালে খুলশী থানা পুলিশ ঝাউতলার ডিজেল কলোনির ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

পরিবার ও প্রতিবেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১ বছর প্রেমের পর রোজি ও রেজাউল আট মাস আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করে। বিয়ের পর রেজাউল ও রোজি ঝাউতলার ডিজেল কলোনিতে তার বোনের বাসার পাশে আবুল কাশেমের বাসায় ঘর ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করে।

কিন্তু বিয়ের দুই মাস পর রেজাউলের মুঠোফোনে অচেনা নাম্বার থেকে কল আসলে সে বাসা থেকে বের হয়ে কথা বলে। এ নিয়ে রোজি প্রতিবাদ করলে দু’জনের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। তখন রোজিকে মারধর করে রেজাউল। নির্যাতন সইতে না পেরে একপর্যায়ে সংসার করবে না বলে বাবার বাসায় চলে যায় রোজি।

পরে রেজাউল ক্ষমা চেয়ে রোজিকে তার ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এরপর আবারও টাকা-পয়সা দাবি করে নির্যাতন করতে থাকে রোজিকে। আর সোমবার সকালে রোজির হাত বাঁধা ও গলায় রশি পেঁচানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

রোজির বড় বোন মনি আক্তার জয়নিউজকে বলেন, আমার বোন আলাদা বাসায় থাকলেও তারা প্রতিদিন রাতে খাবার খেতে আমার মায়ের কাছে আসত। চাকরিতে যাওয়ার আগে সে প্রতিদিন সকালে আমার মা থেকে খাবার নিয়ে যেত।

‘প্রতিদিনের মতো কাল রাত সাড়ে ১০টায়ও তারা রাতের খাবার খেয়ে তাদের বাসায় যায়। কিন্ত সকালে খাবার নিতে না আসলে আমি রোজি ও তার জামাইকে ফোন করি। কিন্ত তাদের দুইজনের ফোন বন্ধ পাওয়াতে আমি তাদের বাসায় ডাকতে যাই। তখন তাদের বাসায় গিয়ে দেখি বাসা তালাবদ্ধ। বিষয়টি তখন আমার স্বামীকে আমি জানাই। পরে তার অফিসে ফোন করলে তারা জানায়, দুজনই আজ অফিসেও যায়নি। তাদের বাসার একটি চাবি আমার মায়ের কাছে থাকতো, আর সে চাবি দিয়ে আমরা তালা খুলে বাসায় ঢুকি।’

তিনি আরো বলেন, আমি আর আমার স্বামী রোজির বাসায় ঢুকে দেখি পুরো বাসা এলোমেলো। খাটের উপর দেখি মশারি, বেডসিট এবং সব কাপড়চোপড় ফেলে রাখা। তখন এগুলো সরাতে গেলে দেখি রোজির পা। এরপর কাপড়চোপড় সরানোর পর দেখি ওর হাত, পা ও মুখ বাধা। তখন আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। এরপর আমার আর কিছু মনে নেই।

এদিকে রোজির বড় বোনের স্বামী মো রাসেল জয়নিউজকে বলেন, রোজির  হাত-পা বাঁধা লাশ দেখে ওর বড় বোন জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন আমি নিজেও স্তব্ধ হয়ে যাই। পরে সবাই আসে কিন্তু ‍ওর জামাইকে ফোন করে আমরা পাইনি। সে খুন করে রাতেই পালিয়েছে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রণব চৌধুরী জয়নিউজকে বলেন, স্থানীয়দের থেকে খবর পেয়ে ঝাউতলার ডিজেল কলোনির স্থানীয় আবুল কাশেমের ভাড়া ঘর থেকে রোজি আক্তার নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, রেজাউল করিম সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের মছজিদ্দা গ্রামের আবুল মনসুরের ছেলে। তার খোঁজ পেলেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

জয়নিউজ/রিফাত/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...