মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে আ’লীগ: প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, মেহনতি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করাই আওয়ামী লীগের নীতি। এ নীতি নিয়ে আমরা সরকার পরিচালনা করি। আমাদের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। আওয়ামী লীগই এদেশের মানুষকে কিছু দিতে পেরেছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়নের জন্য কাউকে তাগাদা দিতে হয় না। আওয়ামী লীগ উন্নয়নের রাজনীতি করে। দেশের জন্য, দেশের জনগণের জন্য কাজ করে। এই এগার বছরে যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ দমনসহ সব ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নয়ন সাধন করেছে।

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ সব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত এসেছে বারবার। জাতির পিতাকেও কতবার হয়রানি করা হয়েছে, মিথ্যা মামলা হয়েছে, ফাঁসির আদেশ হয়েছে। তারপরও তিনি সততার সঙ্গে এগিয়ে গিয়েছিলেন বলেই বাঙালি একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগকে শেষ করার অনেক চেষ্টা হয়েছে। যখনই আঘাত এসেছে, সবার আগে এসেছে আওয়ামী লীগেরেউপরই। কিন্তু জাতির পিতার হাতে গড়া এই সংগঠন ধ্বংস করতে পারেনি কেউই।

এরআগে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে বলেন, জাতির পিতা একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশেকে পূর্নবাসন করতে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে গেছেন।

সেই সব কর্মকাণ্ড তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের ৮২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচে বাস করত। জাতির পিতা তা কমিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করেছেন। তিনি বন্ধ হওয়া শিল্প-কারখানা চালু করেছিলেন। সর্বোপরি শ্রমিকেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বঙ্গবন্ধু কাজ করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তখন দেশে ১৯টি জেলা ছিল, সেখান থেকে ৬০ জেলায় উন্নীত করে তৃণমূলের মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে বঙ্গবন্ধু কাজ করেছিলেন। অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের লক্ষ্যে দেশের সব শ্রেণির মানুষকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ ঐক্যের নাম বাকশাল, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ। বাকশাল ছিল ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম কিন্তু বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য যে বঙ্গবন্ধু কাজ শেষ করতে পারলেন না।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাবা-মা, ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছি। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কি হারিয়েছে? বাংলাদেশের মানুষ হারিয়েছে তাদের ভবিষৎ, হারিয়েছে সঠিক ইতিহাস। বাংলাদেশ চলে গিয়েছিল আবার হত্যা, খুনে। অস্ত্রের মাধ্যমে জনগণকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।

জয়নিউজ/কাউছার/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...