বিআরটিএ: দালালে মুশকিল আসান

0

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দালাল চক্র। আইন প্রয়োগ করেও এসব দালাল চক্রকে নিয়ন্ত্র করা যাচ্ছে না। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সেবা নিতে আসা সাধারণ গ্রাহকদের। বর্তমানে বিআরটিএ অফিসের অভ্যন্তরে তাদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিআরটিএ কার্যালয়ে সরেজমিনে ঘুরে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।

সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হওয়ার পর বিআরটিএ’র  কাজের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুন বেড়েছে। প্রাতিদিন শত শত গাড়ি ফিটনেস হালনাগাদ এবং লাইসেন্স নবায়নের জন্য আনা হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্রটি।

সেবা নিতে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মনিরুজ্জমান মিথুন জয়নিউজকে জানান, বিআরটিএ’তে এখন পর্যন্ত পাঁচবার এসেছি।  একবারও কাঙ্খিত সেবা পাইনি। বিআরটিএ’তে আসলে মানুষ প্রথমে তথ্য কেন্দ্রে যায়। কিন্তু তথ্য কেন্দ্রে গেলে সেখানে বিআরটিএর কোন ব্যাক্তিকে পাওয়া যায় না। তথ্য বুথ খালি থাকে। অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। সরকারি প্রক্রিয়ায় লাইসেন্সেরে জন্য আবেদন করেছিলাম। লাইসেন্সের জন্য দুই দফায় পরীক্ষা দিয়ে পরীক্ষা দিয়েও উর্ত্তীণ হতে পারিনি। পরে বাধ্য হয়ে দালাল ধরে পুনরায় আবেদন করে মাত্র একবার নামমাত্র পরীক্ষা দিয়ে পাস করি। দালাল ধরলে তারাই শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে পাশ করিয়ে দিতে পারে। যা বৈধ প্রক্রিয়ায় সম্ভব হয় না।

তিনি আরো জানান, এজন্য দালালদের দিতেও হয় মোটা অঙ্কের টাকা। সরকার নির্ধারিত ফি তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার হলেও দালালকে দুই দফায় আমার নয় হাজার টাকা দিতে হয়েছে। তারপরই চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রাপ্তি রশিদ পেয়েছি। এসব অনিয়ম দেখে গাড়ির নাম্বার প্লেটের জন্য নিজ উদ্যোগে আর আবেদন করিনি। দায়িত্ব শো-রুম কর্তৃপক্ষকে দিয়ে দিয়েছি। দুই হাজার টাকা বেশি খরচ হলেও যথাসময়ে নাম্বার প্লেটও পেয়ে গেছি। যা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গেলে ভোগান্তি ছাড়া পেতাম না।

পরিচয় গোপন করে এক দালালের সাথে কথা হয় জয়নিউজের এই প্রতিবেদকের। তখন তিনি জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে সব সহায়তা তিনি করে দিবেন। কিন্তু তার জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। কাগজপত্র কি কি লাগবে জানতে চাইলে তিনি জানান, শুধু জাতীয় পরিচয় পত্রের এক কপি ফটোকপি আর দুই কপি ছবি দিলেই হবে। নাগরিকত্ব সনদ লাগবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন চট্টগ্রামের সিটি কর্পেরেশন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হলে লাগবে না। আমি ম্যানেজ করে নিবো। তবে সিটির বাইরে হলে আপনার স্থানীয় ওয়ার্ড থেকে একটি সনদ দিতে হবে। একই পদ্ধতিতে গাড়ির রেজিস্ট্রেশনও করে দেওয়া যাবে। রেজিস্ট্রেশন করাতে গুনতে হবে আঠারো থেকে বিশ হাজার টাকা।

এই দালাল আরও জানান, এখানে সব ধরনের সেবা পাবেন। শুধু টাকা খরচ করতে হবে। সেবা নিতে এতো টাকা কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, টাকাটা বিভিন্ন্ পর্যায়ে বিআরটিএর লোকদের দিতে হবে। আমি একা তো আর সব টাকা নিতে পারবো না।

অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে টাকা জমা দেওয়ার জন্যে থাকা ব্যাংকের বিরুদ্ধেও। টাকা জমা দিতে আসা ভুক্তভোগী আকরাম হোসেন নামে একজন জয়নিউজকে জানান, লাইনে দাড়িয়ে আছি এক ঘন্টারও বেশি। লাইন আগায়নি এক কদমও। হঠাৎ করে দু একজন লাইনের মাঝখানে ঢুকে পরে। এসময় তাদের হাতে থাকে দশ পনেরটি করে টাকা জমাদান স্লিপ। এরা সবাই দালাল। একজন লোক যদি দশ পনেরটি স্লিপ নিয়ে সামনের লাইনে ঢুকে পড়ে তখন স্বাভাবিকভবে পেছনের লাইনগুলো সামনে যেতে সময় লাগে। সাধারন সেবা প্রার্থীরা প্রতিবাদ করলে বাকবিতন্ডা থেকে হাতাহাতির ঘটনা পর্যন্ত ঘটে।

এসব অভিযোগ বিষয়ে বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (লাইসেন্স শাখা) বেগম রায়হানা আক্তার উর্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দালাল প্রসঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করতে বলে ফোনের সংযোগ কটে দেন।

সহকারী পরিচালক (রেজিস্ট্রেশন শাখা) মো. তৌহিদুল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযেগে করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিআরটিএ ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল হক বিআরটিএ কার্যালয়ে অভিযান চালান। এসময় তিনি ৫দালালকে কারাদণ্ডসহ জরিমানা করছিলেন। এতে কিছুদিন দালালের দৌরাত্ম্য কমলেও। বর্তমানে ফের সক্রিয় হয়ে পড়েছে দালাল চক্র।

জয়নিউজ/কামরুল/পিডি

সরাসরি আপনার ডিভাইসে নিউজ আপডেট পান, এখনই সাবস্ক্রাইব করুন।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...