শক্তি কপূর: সিনেমার ভিলেন, বাস্তবের নায়ক

0

বলিউডের জনপ্রিয় মুখ শক্তি কপূর। জন্ম ১৯৫২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, ভারতের দিল্লিতে। আসল নাম সুনীল সিকন্দরলাল কপূর।

অসচ্ছল পরিবারে তাঁর জন্ম, বাবা ছিলেন দর্জি। দিল্লির কটন প্লেসে তাঁর বাবার দর্জির দোকান ছিল।

ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া থেকে পাস করা সুনীলের অভিনয়জীবন শুরু ১৯৭৫ সালে। প্রথম ছবি ছিল ‘দো জাসুস। তবে পরিচিত পেতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয় আরও কয়েক বছর।

ছেলে সঞ্জয় দত্তকে লঞ্চ করার জন্য ‘রকি’ তৈরি করছিলেন সুনীল দত্ত। সেই ছবিতে খলনায়কের চরিত্রে উপযুক্ত মুখ খুঁজছিলেন তিনি। ওই সময় তাঁর চোখে পড়ে সুনীল সিকন্দরলাল। তাঁকেই খলনায়ক চরিত্রে মনোনীত করেন সুনীল দত্ত।

কিন্তু নবাগতের নাম বদলে দেন সুনীল দত্ত। তাঁর মনে হয়েছিল খলনায়কের জন্য ‘সুনীল’ নামটি ঠিক মানানসই নয়। তিনি তাঁর নতুন নাম দেন ‘শক্তি’। সেই নামেই পরিচিত হন হিন্দি ছবির আইকনিক খলনায়ক।

আশির দশক শক্তির কাছে খুবই লাকি। এ সময় ‘কুরবানি’, ‘রকি, ‘হিরো’ এবং ‘হিম্মতওয়ালা’ বক্স অফিসে সুপারহিট হয়। সব ছবিতেই খলনায়ক হিসেবে দুর্দান্ত অভিনয় করেন শক্তি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১ হাজার ৭শ’রও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন শক্তি। আশি ও নব্বইয়ের দশকে কাদের খানের সঙ্গে তাঁর জুটি বেশ জনপ্রিয় ছিল। কখনো খলনায়ক, কখনো কমেডির ছোঁয়ায় চিত্রনাট্যে তাঁদের অভিনয় আলাদা মাত্রা যোগ করতো।

১৯৮০ সালে মুক্তি পায় ‘কিসমত’। এই ছবিটি আক্ষরিক অর্থেই শক্তি কপূরের ভাগ্যে বড় ভূমিকা পালন করে। প্রথমে ছবিতে মিঠুন চক্রবর্তীর নায়িকা হওয়ার কথা ছিল পদ্মিনী কোলাপুরীর। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ছবি থেকে সরে আসেন তিনি। সুযোগ পান পদ্মিনীর দিদি শিবাঙ্গী কোলাপুরী।

ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি নায়িকা শিবাঙ্গীর মন জিতে নেন শক্তি। সম্পর্ক গাঢ় হতে সময় লাগেনি। ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়লেও শক্তি-শিবাঙ্গী সম্পর্ক ঠিকই থেকে যায়।

প্রায় দু’বছর সবার অজান্তে এগোয় প্রেম। তারপর দু’জনেই বাড়িতে জানান। কিন্তু দুই তরফেই প্রবল আপত্তি। বাড়ির সম্মতি না পেয়ে ১৯৮২ সালে পালিয়ে শক্তিকে বিয়ে করেন শিবাঙ্গী।

স্ত্রী শিবাঙ্গীর সঙ্গে শক্তি

শক্তির পরিবার শিবাঙ্গীকে মেনে নিয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত কোলাপুরী পরিবার কিছুতেই শক্তিকে জামাই হিসেবে মেনে নেবে না। শিবাঙ্গীর সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ করে দেয় তাঁর বাড়ির লোক।

এই বিচ্ছেদ চলেছিল বেশ কয়েক বছর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত হন শক্তি। শিবাঙ্গীও ততদিনে সিদ্ধান্ত আর শ্রদ্ধার মা। এবার আর তাঁদের থেকে মুখ ঘুরিয়ে থাকতে পারেনি কোলাপুরী পরিবার। নিজের হারানো জায়গা ফিরে পান বাড়ির বড় মেয়ে শিবাঙ্গী।

শক্তি-শিবাঙ্গীর দাম্পত্যে আবার ঝড় ওঠে ২০০৫ সালে। ইন্ডিয়া টিভিতে একটি স্টিং অপারেশন দেখানো হয়। সেখানে তরুণী সাংবাদিক শক্তির মুখোমুখি হন উঠতি নায়িকা সেজে। গোপনে রেকর্ড করা ভিডিওর ফুটেজে দেখা যায়, শক্তি তাঁকে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার বদলে কুপ্রস্তাব দিচ্ছেন।

বিতর্কের জেরে শক্তিকে নির্বাসিত ঘোষণা করে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন প্রোডিউসার্স গিল্ড অব ইন্ডিয়া। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এক সপ্তাহের মধ্যে শাস্তির কোপ থেকে মুক্তি পান তিনি।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে শক্তির দাবি ছিল, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। ওই তরুণী-ই তাঁকে ব্ল্যাকমেল করেছেন।

জীবনের সেই কঠিন মুহূর্তে পরিবারকে পাশে পেয়েছিলেন শক্তি। স্ত্রী শিবাঙ্গী, সন্তান শ্রদ্ধা ও সিদ্ধান্ত বাবার বক্তব্যকেই সমর্থন করেছেন।

শক্তি-শিবাঙ্গীর দুই সন্তানই এখন ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিত নাম। ছেলে সিদ্ধান্ত অভিনয়ের পাশাপাশি বেশকিছু ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। আর মেয়ে শ্রদ্ধা নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় নায়িকা। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার।

জয়নিউজ

সরাসরি আপনার ডিভাইসে নিউজ আপডেট পান, এখনই সাবস্ক্রাইব করুন।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...