শুক্লাম্বর দীঘিতে পূণ্যার্থীদের পাপের নিরঞ্জন

0

চন্দনাইশ ঐতিহাসিক শুক্লাম্বর দীঘির মেলায় বুধবার (১৫ জানুয়ারি) নেমেছিল পূণ্যার্থীদের ঢল। সকাল থেকে তীব্র শীতের মধ্যে শুধু আশেপাশের গ্রাম থেকেই নয় ভারত-ভুটান-নেপাল থেকেও হাজার হাজার পূণ্যার্থীরা এসেছিলেন এ মেলায়।

প্রায় ২০০ বছর ধরে উত্তরায়ণের এ দিন মেলা বসে শুক্লাম্বর দিঘীর পাড়ে। এ দিঘীর পাড়েই রয়েছে একটি মন্দির। ইতিহাস থেকে জানা যায়, তৎকালীন ভারতের নদীয়া জেলা থেকে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন শুক্লাম্বর ভট্টাচার্য ত্রিপাঠী নামে এক সাধক। তবে শুক্লাম্বর ভট্টাচার্যের নামে এ মেলা শুরু করেছিলেন প্রয়াত নিত্যানন্দ বৈলয়।

স্থানীয়রা জানান, শুক্লাম্বর ভট্টাচার্য এ দীঘির পাড়ে বসে ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। দীর্ঘদিন ধ্যানে মগ্ন থাকার পর সেখানেই তিনি পরলোকগমন করেন। সাধক শুক্লাম্বর ভট্টাচার্যকে তাকে এ দীঘির পাড়েই দাহ করা হয়। তার দাহস্থানেই একটি বটবৃক্ষ বিশাল জায়গা জুড়ে শুক্লাম্বর ভট্টাচার্যের স্মৃতি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। পূণ্যার্থীরা এ বটবৃক্ষের ডালে সুঁতা বাঁধে, কবুতর ছেড়ে দেয়। বিভিন্ন দান মন্দিরে উৎসর্গ করে।

হিন্দুধর্মালম্বীদের বিশ্বাস, এই দীঘিতে শুক্লাম্বর ভট্টাচার্য ত্রিপাঠী এখনো সদা জাগ্রত অবস্থায় লুপ্ত রয়েছেন। এ দিন পূণ্যার্থীরা শুক্লাম্বর দিঘীতে নিজের মন-বাসনা পূর্ণ করার জন্য স্নান করে থাকেন। তারা বিশ্বাস করেন এ স্নানের ফলে অতীত জীবনের সব পাপ ধুয়ে মুছে যায়।

সাতকানিয়া কালিয়াইশ থেকে আসা পূণ্যার্থী ঝর্ণা চৌধুরী জানান, পূণ্যার্থীরা বোতল ভর্তি তরল দুধ দীঘিতে ঢেলে শুক্লাম্বর ভট্টাচার্য ত্রিপাঠীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন। তাদের বিশ্বাস দীর্ঘির পানিতে উৎসর্গিত দুধ পানিতে মিশে না। সরাসরি দীর্ঘির গভীরে পৌছে যায়। ধর্মীয় রীতি পালনের মধ্যে দিয়ে তারা মনের বাসনা পূরণের জন্য প্রার্থনা করেন।

জয়নিউজ/পিডি

সরাসরি আপনার ডিভাইসে নিউজ আপডেট পান, এখনই সাবস্ক্রাইব করুন।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...