বিদেশিদের হাতে বন্দর তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে

সাইফ পাওয়ারটেকের তরফদার রুহুল আমিনের অভিযোগ

0

চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে বন্দরের টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। তরফদার রুহুল আমিন চট্টগ্রাম বন্দরের শীর্ষস্থানীয় টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিক অপারেটরের কাছে হস্তান্তর করা উচিত’এমন প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাইফ পাওয়ারটেকের এমডি তরফদার রুহুল আমিন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিক অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনা করা উচিত বলে বিদেশীরা যে মতামত দিয়েছেন তা কাম্য হতে পারে না। তারা কিসের ভিত্তিতে এমন মতামত দিলেন তা আমার বোধগম্য নয়।

লোকাল অপারেটররা আন্তর্জাতিক নিয়মে বন্দর পরিচালনা করে আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ জনবল দিয়ে বন্দর পরিচালনা হচ্ছে। এ কারণে বন্দরের কার্গো হ্যান্ডেলিং বেড়ে চলেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের আয় কখনও কমছে না, বরং বাড়ছে। প্রবৃদ্ধি বাড়ছে।

বন্দরের কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করে রুহুল আমিন বলেন, ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্গো হ্যান্ডেলিং ছিল ১ দশমিক এক মিলিয়ন টিইউএস। ২০১৮ সালে কার্গো হ্যান্ডেলিং হচ্ছে ২ দশমিক আট মিলিয়ন টিইউএস। লোকাল অপারেটরদের হাতেই এ উন্নতি সাধন হয়েছে। কোনো বিদেশি অপারেটর এসে তা করেনি।

দেশীয় অপারেটররা বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বন্দরকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশীয় অপরাটেররা দক্ষতার সাথে কাজ করছে বলেই বন্দরের কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজন পড়েছে। বে-টার্মিনাল, নতুন গ্যান্ট্রি ক্র্যান এ কারণেই আনা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যদি চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটরকে দেওয়া হয় তাহলে আমাদের দেশি অপারেটরদের কী হবে? আমরা প্রমাণ করেছি এখন আমাদের সব কাজে বিদেশিদের প্রয়োজন নেই। এতোকিছুর পরও যখন কেউ চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর লাগবে বলে মন্তব্য করেন তখন খুব কষ্ট হয়। আমি মনে করি এই মতামত বন্দরকে পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের একটি অংশ।

জয়নিউজ/এফও/জেডএইচ

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...