সন্তানের নিরাপত্তায়…

0

মা-বাবার কাছে সন্তানের চেয়ে দামি আর কি আছে! তাইতো সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা সমসময়ই দুশ্চিন্তায় থাকেন। আর বর্তমান সময়ে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রশ্নবিদ্ধ। আধুনিক জীবনযাত্রায় মা-বাবা দুজনেই ব্যস্ত থাকায় দিনের অনেকটুকু সময় অন্য কারও সান্নিধ্যে কাটায় সন্তানেরা। তাই শৈশব থেকেই তাদের নিরাপদ থাকার সাধারণ কিছু নিয়ম শেখাতে হবে।

পথ চলার সহজ পাঠ:
পথ চলা দিয়েই শুরু করুন শিশুর নিরাপত্তার শিক্ষা। পথ চলার নিয়ম যেমন: রাস্তা পার হওয়ার সময় দু’দিকে দেখে পার হওয়া, সিগন্যালিং সিস্টেম, ট্রেনে ওঠার ক্ষেত্রে কী করবে আর কী করবে না সবকিছুই ছেলেবেলা থেকে শিখিয়ে দিন তাকে। কখনও ট্রেন বা বাসে কোনো সমস্যায় পড়লে কী করবে তাও বলে রাখুন।
গাড়িতে চড়ার সময় সন্তানের নিরাপত্তা:
সন্তানকে নিয়ে মোটর সাইকেলে চড়ার সময় নিজের মাথায় হেলমেট পরার সঙ্গে তার মাথাকেও সুরক্ষিত করুন। গাড়িতে উঠলে সিট বেল্ট বাঁধা, বাইকের ক্ষেত্রে হেলমেট পরা এই সুঅভ্যাসগুলো সন্তানের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই গড়ে তুলুন।

একটু একটু করে আত্মবিশ্বাস গড়তে হবে:
একা একা কোথাও ঘুরে বেড়ানোর বিষয়েও শৈশব থেকে সর্তক করতে হবে। শিশু যত বড় হতে থাকবে তখন একটু একটু করে ছেড়ে দেখুন, সে আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে কি না। একা ছাড়তে হলে প্রথমে একটু দূরত্ব রেখে তাকে অনুসরণ করুন। তার মধ্যে একা পথ চলার সাহস ও বিশ্বাস এসেছে বুঝলে তবেই একা ছাড়ন। ছোট বেলা থেকেই এটা সেটা আনতে দোকানে পাঠাবেন না। বাড়ির দরজায় কলিং বেল বাজলেই দৌড় দিয়ে বাচ্চারা দেখতে যায় কে এল। এই অভ্যাস যাতে কিছুতেই না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শেখাতে হবে বাড়ির বড় কেউ না আসা অবধি দরজা খোলা যাবেনা।

বিদ্যালয়ে রাখুন যোগাযোগ:
যে বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করছেন, সেখানে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। স্কুলে আপনার সন্তান যেন কোনো রকম হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে নজর রাখুন। কোন মানুষকে সে বিশ্বাস করতে পারে এ বিষয়ে তাকে ছেলেবেলা থেকেই সচেতন করতে হবে। অপরিচিত কারও থেকে জিনিস বা খাবার নেওয়ার স্বভাব থাকলে তা পরিত্যাগ করতে হবে খুব দ্রুত।

বাড়িতে সন্তান একা রেখে  যাবেন কি?

সন্তানকে কখনোই বাড়িতে একা রেখে যাওয়া উচিত নয়। কিন্তু অনেক সময় পরিস্থিতির চাপে সন্তানকে একা রেখে বেরোতে হয়। সে ক্ষেত্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোর দিন, প্রতিবেশীকে তার উপর খেয়াল রাখার অনুরোধ করুন। একা থাকাকালীন কোনও অসুবিধা হলে কীভাবে কার সঙ্গে যোগাযোগ করবে তাও স্পষ্ট করে শিখিয়ে দিন। সে সময় বাড়িতে কেউ এলে দরজা খোলার আগে দেখে নিতে বলুন, কে এসেছেন। অন্তত কিশোর বয়স না হওয়া পর্যন্ত পারতপক্ষে শিশুকে বাড়িতে একা ফেলে যাওয়া উচিত নয়। শিশুর নিরাপত্তায় বাবা মায়ের সচেতনতাই সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

জয়নিউজ/এডি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...