কুম্ভমেলায় সনাতনীদের সর্ববৃহৎ মিলনমেলা

0

৮০ একর এলাকাজুড়ে শুধু মানুষ আর মানুষ। কেউ এসেছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে, আবার কেউ অন্য প্রান্ত থেকে। ভিনদেশ থেকেও এসেছেন অনেকে। ভিনদেশের অতিথিদের মধ্যে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রয়েছে সাধু-সন্ন্যাসীও!

কুম্ভমেলাকে কেন্দ্র করে বাঁশখালীতে তৈরি হয়েছে উৎসবের এই আবহ। ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ মেলার পর্দা নামবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকালে।

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী ভারতের চারটি স্থানে কুম্ভমেলা হয়। স্থানগুলো হলো ভারতের হরিদ্বার, প্রয়াগ, নাসিক ও উজ্জয়িনী। তিন বছর পর চক্রাকারে চারটি স্থানে কুম্ভমেলা বসে। সে হিসাবে একেকটি স্থানে ১২ বছর পরপর এই মেলা ঘুরে আসে। বাংলাদেশে একমাত্র ঋষিধামেই তিন বছর পরপর  কুম্ভমেলার আয়োজন করা হয়।

শাস্ত্রমতে, কুম্ভ মানে কলস। অমৃতের কলস। অমরত্ব লাভের আশায় একবার দেবতাদের সঙ্গে অসুরকুলের সমুদ্রমন্থন হয়েছিল। সমুদ্রমন্থনের ফলে উঠে এলো বহু মূল্যবান সামগ্রী। উঠল একটি অমৃতের ভাণ্ডও। অসুরদের এই অমৃতকুম্ভ না দেওয়ার জন্য দেবরাজ ইন্দ্রপুত্র জয়ন্ত একসময় সেটি নিয়ে পালালেন। পালানোর সময় অমৃত ভাণ্ড রাখা হয়েছিল চারটি স্থানে (হরিদ্বার, প্রয়াগ, ত্রিম্বকেশ্বর-নাসিক ও উজ্জয়িনী)। এই চারটি স্থানে কলস থেকে কয়েক ফোঁটা অমৃত রস পড়েছিল বলে ধারণা। তাই এই চারটি স্থানে অমৃত সুধারস আস্বাদনের জন্য বসে কুম্ভমেলা। সেই কুম্ভের অনুকরণে শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজ ১৯৫৭ সাল থেকে বাঁশখালীতে ঋষিকুম্ভ মেলা শুরু করেন।

এবারের কুম্ভমেলায় থাকছে মহানামযজ্ঞ, গঙ্গাপূজা ও মহাস্নান, বিশ্বকল্যাণে পঞ্চাঙ্গ স্বস্তায়ন, শান্তি হোম ও অঞ্জলী প্রদান, অন্নকুট উৎসব, শ্রীশ্রী গুরু মহারাজের ভোগরাগ এবং সমবেত প্রার্থনা। অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করছেন ঋষিধামের মোহন্ত শ্রীমৎ স্বামী সুদর্শনানন্দ পুরী মহারাজ।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নবম দিনে ঋষিকুম্ভ মেলায় ছিল লাখো মানুষের ঢল। মেলা ঘুরে দেখা যায়, ঋষিধামের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে প্যান্ডেল। প্যান্ডেলজুড়ে চলছে আলোর খেলা। দেশ-বিদেশের সাধু, সন্ন্যাসী ও ভক্তদের জন্য টাঙানো হচ্ছে তিন হাজার অস্থায়ী ত্রিপল।

পুণ্যার্থীতে জমজমাট ঋষিকুম্ভ মেলা

লায় আগতদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থাও রেখেছে আয়োজকরা। যজ্ঞ দেখার পাশাপাশি প্রসাদ আস্বাদন করতে দেখা গেছে অসংখ্য পুণ্যার্থীকে।

যশোর, দিনাজপুর, ঢাকা, ফরিদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য ব্যবসায়ী এসেছেন মেলায়। বিভিন্ন পণ্যেল তারা সাজিয়েছেন স্টল। কেউ দিয়েছেন পুতুলের দোকান, কেউ প্রসাধনীর, আবার কেউ খেলনার। কুটিরশিল্প ও কারুশিল্পের পসরাও সাজিয়ে বসেছেন অনেকে।

আয়োজকরা জানান, সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ৮০ একর এলাকায় বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। রয়েছে ১ হাজার ৭শ’ জন নিজস্ব কর্মী। এছাড়া মেলা মনিটরিংয়ে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তিন শতাধিক সদস্য।

ঋষিকুম্ভ মেলার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট অনুপম বিশ্বাস জয়নিউজকে বলেন, মেলাকে প্রাণবন্ত করতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে যাবতীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে।

কুম্ভমেলায় এসেছেন দেশ-বিদেশের অসংখ্য সাধু

ঋষিধামের পরিচালনা কমিটি ও শ্রীগুরু সংঘের সভাপতি লায়ন প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহ জয়নিউজকে বলেন, কুম্ভমেলা ভারতের চারটি জায়গায় হয়। কিন্তু আমাদের দেশের সব মানুষের পক্ষে ভারতে গিয়ে এ পূণ্য অর্জন করা সম্ভব হয় না। তাই ভক্তদের সুবিধার্থে ভারতের সন্ন্যাসীদের বাঁশখালীতে আনার ব্যবস্থা করে এ মেলার প্রচলন করেন স্বামীজি অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজ। মেলায় সমগ্র বিশ্বের কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করা হয়। স্বামীজির পূজা-অর্চনা করা হয়। দশ দিনব্যাপী এই মেলায় ২০ লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ঘটবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জয়নিউজ/বিআর

সরাসরি আপনার ডিভাইসে নিউজ আপডেট পান, এখনই সাবস্ক্রাইব করুন।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...