বোর্ড সভাপতিকে না জানিয়ে সিদ্ধান্ত নয়

0

সাধারণত ম্যাচের একাদশ, টস নিয়ে সিদ্ধান্ত— এসব দায়িত্ব পালন করে থাকে টিম ম্যানেজমেন্ট। এমনকি ক্রিকেটারদের ব্যাটিং পজিশন নিয়েও সিদ্ধান্ত নেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকে স্বয়ং ক্রিকেট বোর্ড।

হ্যাঁ, বিশ্বকাপ পর্যন্ত এমনটাই হয়েছে। কিন্তু ইংল্যান্ড থেকে ফেরার পর থেকে দলীয় পরিকল্পনা থেকে কিছুটা দূরে বোর্ড। জাতীয় দলও ভাসছে ব্যর্থতার সাগরে। বিশ্বকাপ থেকে ফিরে শ্রীলঙ্কায় হোয়াইটওয়াশ, ঘরের মাঠে আফগানদের বিপক্ষে টেস্টে হার, ভারতে ব্যর্থতা— সব মিলিয়ে খারাপ সময় যাচ্ছে জাতীয় দলের।

এমন পরিস্থিতিতে আবারও দলীয় পরিকল্পনায় সংযুক্ত থাকতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সামনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

তিনি বলেন, বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ থেকেই এমন হচ্ছে, তারপর আফগানিস্তান সিরিজ। পুরো বদল। আমি যা জানতাম, তার কিছুই হয়নি। আমরা দেখেছি, যারা জীবনে (ব্যাটিং অর্ডারে) উপরে খেলেনি, তাদের উপরে খেলানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলো হঠাৎ করে খেলার মধ্যে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানে টি-টোয়েন্টিও আমি দেখতে গেলাম, ওখানেও আমি দেখলাম। ব্যাটিং অর্ডার চেঞ্জ, কে কোথায় আসছে, না আসছে, এই জিনিসগুলো আমি যেটা জানতাম, তা হয়নি। মানে আমাকে যেটা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে কোনো মিল নেই।

এরপর সভাপতি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, এই ধরনের জিনিস (বিষয়) নিয়েই বলেছি। আমি ঠিক করছি না সেরা একাদশ কী হবে। আমি ঠিক করছি না যে আমরা ব্যাটিং নেব, না বোলিং নেব। এই সিদ্ধান্তগুলো অধিনায়ক, কোচ মিলেই করুক, সেটাতে আমার আপত্তি নেই। আমাকে যদি বলা হয়, এই হলো ব্যাটিং সিকোয়েন্স, গিয়ে দেখি যদি উল্টো, সেটা যেন আর না হয়। সেটা হতে পারবে না।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারিও সভাপতি জানান, দলীয় পরিকল্পনায় সংযুক্ত হবেন তিনি। নাজমুল হাসান বলেছিলেন, আগে টসে জিতলে কী নেব, কে কোথায় নামবে, সব ছিল আমার মুখস্থ। আমার সঙ্গে আগেই কথা হয়ে থাকত। এখন কিন্তু তা নেই। এখন উল্টো হচ্ছে। আমাকে যদি বলে টসে জিতলে ফিল্ডিং নেবে, খেলা শুরুর পর দেখি ব্যাটিং নিয়েছে। আমি কিছু বুঝি না। এমন শুরু হয়েছে ভারত সফর থেকে। এমনকি এর আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টেও যা বলে গেলাম, এসে দেখি সব উল্টো।

‘এ জন্য আমি মনে করি, সবচেয়ে বড় দায়ী আমি নিজে। খুব বেশি এখান থেকে সরে আসতে চাচ্ছিলাম। ভেবেছিলাম অনেক হয়েছে। আস্তে আস্তে ওরা নিজেরাই ঠিক হয়ে যাবে। এখন দেখছি, না আবার আগের মতো হতে হবে।’

হাসির ছলে বিসিবি সভাপতি বলেন, যখন আমার ভূমিকা সবকিছুতে থাকত, তখন আপনারা আমার নাম দিয়েছিলেন ‘মিস্টার ইন্টারফেয়ারার’ (হস্তক্ষেপকারী)। এখন দেখছি যে, আবার আগের মতো ওই রকম একটা নাম পড়তে যাচ্ছে। হঠাৎ করেই ছন্দপতন হচ্ছে গত বিশ্বকাপের পর থেকে। সাকিব ছাড়া তেমন কোনো দলগত পারফরম্যান্সও কিন্তু পাইনি। তারপর তো যাচ্ছেতাই অবস্থা। আমার তো মনেই হয় না, এটা বাংলাদেশ দল। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। অনেক পরিকল্পনা করতে হবে। সে অনুযায়ী চলতে হবে।

জয়নিউজ/এসআই

সরাসরি আপনার ডিভাইসে নিউজ আপডেট পান, এখনই সাবস্ক্রাইব করুন।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...