ছয় টেস্ট পর টাইগারদের স্বস্তির জয়

0

একটা টেস্ট ম্যাচ জিততে টাইগারদের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ এক বছর। সবশেষ এই মাঠেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। মাঝে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হার। আফগানিস্তানের কাছে হেরে ভারত সফরেও দুই ম্যাচের সিরিজে ইনিংসে হারে মুমিনুলের দল।

রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের কাছেও ইনিংস ব্যবধানে হারের পর নিজেদের ফিরে পাবার একমাত্র পথ ছিল এই জিম্বাবুয়ে। আর তাদের বিরুদ্ধে জয় পেতে বেশি সময় অপক্ষো করতে হয়নি টাইগারদের

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) টেস্টের চতুর্থ দিনে স্পিনার নাঈমের ঘূর্ণিতে জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ও ১০৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে টানা ছয় ম্যাচ পর টেস্টে জয়ের স্বাদ পেল লাল-সবুজের দল।

স্বাগতিকদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১৮৯ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। বল হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে নাঈম নেন পাঁচ উইকেট। প্রথম ইনিংসের ৪ উইকেটসহ মোট ৯টি উইকেট নিয়ে সেরা বোলার হয়েছেন নাঈম। এছাড়া ব্যাট হাতে ডাবল সেঞ্চুরি করেন মুশফিকুর রহিম ও সেঞ্চুরি করেন অধিনায়ক মুমিনুল হক।

গতকাল সোমবার শেষ বিকেলেই স্পিন দিয়ে জিম্বাবুয়েকে চেপে ধরেন নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৯ রানের মাথায় দুই উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। আজ চতুর্থ দিনও শেরেবাংলায় দাপট দেখিয়েছেন স্পিনাররা। দিনের প্রথম ঘণ্টায় অতিথিদের দুই উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশি স্পিনাররা।

জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস: ২৬৫/১০

দিনের শুরুতে জিম্বাবুয়ে শিবিরে আঘাত হানেন তাইজুল। মাঠে নামার ২২ মিনিটের মাথায় তাইজুলের বলে মিঠুনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান জিম্বাবুয়ে ওপেনার কাসুজা। ফেরার আগে ১০ রান করেন তিনি। এরপর ব্রেন্ডন টেইলরকে ফিরিয়ে অতিথিদের টপঅর্ডার গুঁড়িয়ে দেন নাঈম। এই নিয়ে তিনটি উইকেট শিকার করলেন তরুণ এই অফস্পিনার। এরপর রানআউটে কাটা পড়েন আরভিন। বিরতির আগে মোট তিনটি উইকেট হারায় অতিথিরা।

বিরতির পর দ্বিতীয় সেশনে বাকি উইকেটগুলো নিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন। প্রথম ইনিংসেও সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৫৬০/৬ (তামিম ৪১, শান্ত ৭১, মুমিনুল ১৩২, মুশফিক ২০৩, লিটন ৫৩, ; সিকান্দার ৩০-২-১১১-১, ট্রিপিয়ানো ৩০-৬-৯৬-১, নাইছু ২৭-৩-৮৭-১, তসুমা ২৫-২-৮৫-১, আন্ডিলুগু ৪২-৪-১৭০-২)।

এর আগে টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পান মুশফিকুর রহিম। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় দিনে ৭ম টেস্ট সেঞ্চুরি উদযাপন করেন মুশফিক। দাপুটে ব্যাটিংয়ে শতককে ডাবল সেঞ্চুরিতে পরিণত করেন তিনি।

এইন্সলে এনদুলুভুর করা ১৫৩ ওভারের দ্বিতীয় বলে চার মেরে ডাবল সেঞ্চুরি করেন ‘মিস্টার ডিপেন্ডবল।’ তার অপরাজিত ইনিংসটি ৩১৮ বলে ২৮ চারে ২০৩ রানের সাজানো ছিল।

মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরির পর ১৫৪ ওভারে ৬ উইকেটে ৫৬০ রান নিয়ে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। টাইগাররা লিড নিয়েছে ২৯৫ রানের।

এর আগে দলীয় ৩৯৪ রানে দিনের প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নিজের বলে নিজেই ক্যাচ ধরে মুমিনুল হককে ফেরান এনদুলুভু।

প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে প্রায় ১ বছর ৩ মাস এবং ১৪ ইনিংস পর টেস্ট ক্যারিয়ারের ৯ম সেঞ্চুরি তুলে নেন মুমিনুল। টাইগারদের মধ্যে লাল বলের ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি এখন তার। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের ২৩৪ বলে ১৩২ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৪ চারে।

মুমিনুল ফেরার পর বড় ইনিংস খেলার আভাস দিলেও ২৩ বলে ৩ চারে ১৭ রান নিয়ে এইন্সলে এনদুলুভুর দ্বিতীয় শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরে যান মোহাম্মদ মিথুন। তবে জোড়া ধাক্কা সামলে দাপটের সঙ্গে ব্যাট করেন মুশফিক।

তাকে সঙ্গ দেন লিটন দাস। সিকান্দার রাজার চলে রেগিস চাকাবার গ্লাভসে বন্দী হওয়ার আগে ফিফটি তুলে নেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। লিটনের ৯৫ বলে ৫৩ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৫ চারে।

এর আগে ২৫ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিন শুরু করে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ২৬৫ রানে।

জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস: ১৮৯/১০ (কেভিন ১০, আরভিন ৪৩, সিকান্দার ৩৭, টেইলর ২৭, চাকাভা ৪২; নাঈম ২৪-৬-৮২-৫, তাইজুল ২৪.২-৭-৭৮-৩)।

সরাসরি আপনার ডিভাইসে নিউজ আপডেট পান, এখনই সাবস্ক্রাইব করুন।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...