বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে রাইফার প্রথম জন্মদিন

0

রাফিদা খান রাইফা- সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য পৃথিবীতে আসা এক শিশু। যার মৃত্যুতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল চট্টগ্রামের সাংবাদিকসমাজ। বিক্ষোভের সেই অনল ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে সাংবাদিককন্যা রাইফার প্রথম জন্মদিন আজ শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি)।

২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেছিল রাইফা। তাই চার বছর পর আজ তার প্রথম জন্মদিন। মেয়ের প্রথম জন্মদিনটা ঘটা করেই পালনের পরিকল্পনা ছিল মা-বাবার। লাল-নীল বাতিতে স্পেশাল কেকে মেয়ের জন্মদিন উদ্‌যাপনের কথা ছিল।

রাইফার বাড়িতে আজ লাল-নীল বাতি নয়, শোকের অন্ধকার। মেয়ের ছবি হাতে বসে রয়েছেন সন্তানহারা মা-বাবা। আজতো নয়ই, আর কোনোদিন যে তারা মেয়ের জন্মদিন পালন করতে পারবেন না!

ড্রইংরুমেই কথা হয় রাইফার শোকাহত মা রুমানা খানমের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার মেয়ে কেক খুব পছন্দ করতো। তাই প্রায়সময় ওর বাবা বাসায় কেক নিয়ে আসতো। কেক পেয়ে ভীষণ খুশি হতো সে। আজ আমার মেয়ের প্রথম জন্মদিন। ইচ্ছে ছিল সবাইকে নিয়ে এটি পালনের। কিন্তু চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসায় সব স্বপ্ন হারিয়ে গেছে। আমার মতো আর কোনো মায়ের স্বপ্ন যাতে হারিয়ে না যায় সেজন্য ওই চিকিৎসকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

পাশেই বসে ছিলেন রাইফার হতভাগ্য বাবা সাংবাদিক রুবেল খান। কথা বলতেই তিনি হারিয়ে গেলেন স্মৃতির অতলে।

বললেন, ‘সামান্য গলা ব্যাথা নিয়ে আমার মেয়েকে ২০১৮ সালের ২৮ জুন ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু ভর্তির পর থেকেই তাকে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং চিকিৎসায় সীমাহীন অবহেলা করা হয়। আমি নিষেধ করার পরও চিকিৎসকরা আমার মেয়েকে রফিসিন নামের একটি অ্যান্টিবায়োটিক পুশ করেন। আমার আপত্তির মুখে চিকিৎসকরা বলেন, এই অ্যান্টিবায়োটিক পুশ করা হলে আপনার মেয়ের কোনো ক্ষতি হবে না, বরং ওর গলা ব্যাথা দ্রুত ভালো হয়ে যাবে। অথচ ওই অ্যান্টিবায়োটিক পুশ করার পরই আমার মেয়ের শরীরের অবস্থা দ্রুত খারাপের দিকে যেতে থাকে।

সাংবাদিক রুবেল খান বলেন, পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি, ওভারডোজ অ্যান্টিবায়োটিক পুশ করায় আমার মেয়ের শরীরে রিঅ্যাকশন হয়েছিল। ওই রিঅ্যাকশনের কারণে তার শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনি হয়। খিঁচুনির কারণে আমার মেয়ের যখন মুমূর্ষু অবস্থা, তখন আবারও ভুল চিকিৎসার শিকার হয় সে। তাকে এনআইসিইউতে না নিয়ে কেবিনের ভেতর ওভারডোজ সেডিল পুশ করা হয়। এভাবে বারবার অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করে আমার একমাত্র শিশুকন্যা রাইফা।

তিনি বলেন, এ মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটিও ম্যাক্স হাসপাতালের ১১টি ত্রুটি চিহ্নিত করেছে।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা যদি সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদন দুটির সহায়তা নেন তাহলে মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি জানান, চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের স্বার্থেই রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট প্রদানের।

সাংবাদিক খান অভিযোগ করেন, চট্টগ্রামের কতিপয় বিএমএ নেতা এবং ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বাঁচাতে নানা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা টাকার জোরে সবকিছু নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন রাইফার বাবা সাংবাদিক রুবেল খান।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৯ জুন মধ্যরাতে চট্টগ্রামের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুকন্যা রাইফা। ওই বছরের ১৮ জুলাই ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নগরের চকবাজার থানায় এজাহার দায়ের করেন রুবেল খান।

দু’দিন পর এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলায় ডা. বিধান রায় চৌধুরী, ডা. দেবাশীষ সেনগুপ্ত, ডা. শুভ্র দেব ও ম্যাক্স হাসাপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী খানকে আসামি করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন চকবাজার থানার ওসি (তদন্ত) রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী।

জয়নিউজ

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...