ভূমি অধিগ্রহণের কোটি টাকার চেকসহ দালাল আটকে তোলপাড়

0

প্রায় পনের লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত হিসাবের চেক এবং কোটি টাকার কাছাকাছি ভূমি অধিগ্রহণের চেকসহ তিন দালাল আটকের ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বেশ আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আইয়ুব আলী, তপন নন্দী ও আবদুল্লাহ নামে ওই তিন দালাল আটকের পর থেকে জেলা প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার মধ্যে এখন রীতিমতো আতংক বিরাজ করছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোঃ ইলিয়াছ হোসেন জয়নিউজকে বলেন, আমি উপজেলা পর্যায়ে গিয়ে ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে হাতে চেক দিয়ে এসেছি। চেক দেয়ার সময় বলে আসলাম, চেক ক্যাশ করতে যদি কোন সহায়তা প্রয়োজন হয় তাও জেলা প্রশাসন থেকে ফ্রিতে দেয়া হবে। তারপরও ভূমি মালিকগণ দালাল কেন ধরলেন সেটা বোধগম্য নয়। এটা একান্তই ভূমি মালিকদের ব্যাপার।

তিনি আরো বলেন, আমরা তদন্ত করে দেখছি। আমাদের অফিসের কেউ দালালদের সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। দালালদেরও আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জয়নিউজকে জানান তিনি।

জানা যায়, ২০১০ সালে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে কক্সবাজারের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বাড়াতে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে মিয়ানমারের ঘুনধুম সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে পাস হয়।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রথমে সিঙ্গেল লাইন মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় এবং ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৫২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় রেলপথটি ডুয়েলগেজ নির্মাণের নির্দেশনা দেয়া হয়। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৬ সালে প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা।

এর মধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা দেবে এডিবি এবং বাকি ৬ হাজার ৩৪ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার। এডিবি প্রথম ধাপে ২ হাজার ৪০০ কোটি, দ্বিতীয় ধাপে ৩ হাজার ২০০ কোটি, তৃতীয় ধাপে ৪ হাজার কোটি ও চতুর্থ ধাপে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা দেবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলায় প্রকল্পের জন্য জমি প্রয়োজন ৩৬৪ দশমিক ৪৪ একর। ২০১০-১১ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের মধ্যে রেলওয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে অধিগ্রহণের জন্য সর্বমোট ৭৫৪ কোটি টাকা বুঝিয়ে দেয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে শত কোটি টাকার বেশী ভূমি মালিকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

 

জয়নিউজ/হোসেন

 

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...