সবার মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই

0

করোনাভাইরাস আতঙ্কে ভুগছে বিশ্ব। ভয়ঙ্কর এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচতে মানুষ হরেক কাজ করছে। এর মধ্যে কোনোটি বিজ্ঞানসম্মত, আবার কোনোটি স্রেফ গুজবের সংক্রমণ।

করোনার আক্রমণের পর থেকে হঠাৎ বেড়ে যায় মাস্কের চাহিদা। ৫ টাকার মাস্ক বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত! সবার মধ্যে একটা ধারনা তৈরি হয়, মাস্ক পরলেই যেন ঠেকানো যাবে করোনা!

অথচ প্রয়োজন ছাড়া মাস্ক পরলে হিতে বিপরীত হবে- বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এরপরও থেমে নেয় ‘মাস্ক হুজুগ’। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে গণপরিবহন- সবখানেই মাস্ক পরে ঘোরাফেরা করছেন অজস্র মানুষ। এর মধ্যে অনেকেই আবার ব্যবহার করছেন সার্জিক্যাল মাস্ক।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবার মাস্ক পরে ঘোরাঘুরির কোনো প্রয়োজন নেই। এটা একেবারেই অর্থহীন। এতে হিতে বিপরীতও পারে। যেমন ‘এন-৯৫’ জাতীয় মাস্ক বেশিক্ষণ পরে থাকলে হতে পারে শ্বাসকষ্ট।

চিকিৎসকরা বলছেন, মাস্ক পরলেও নাক আর মুখের মধ্যে যে জায়গা থাকে তা দিয়েই অনায়াসেই ঢুকে যেতে পারে জীবাণু। সেটা হতে পারে করোনার জীবাণুও। তাই মাস্ক কখনোই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ নয়।

অপর কয়েকজন চিকিৎসক বলেন, অনেক মানুষ না বুঝে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করছেন। ১০-১৫ মিনিটের বেশি এই জাতীয় মাস্ক পরে থাকলে শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগ হতে পারে।

কাদের পরতে হবে মাস্ক

যারা প্রায়সময় সর্দি-কাশিতে ভোগেন তাদের সবসময় মাস্ক পরতে হবে। তাহলে তাদের সংক্রমণ থেকে অন্যরা রক্ষা পাবে। কারণ হাঁচি-কাশির সময় নাক-মুখ থেকে বের হয় ড্রপলেটস। যাতে করোনাসহ নানা ধরনের ভাইরাস ও জীবাণু থাকতে পারে। করোনা কিংবা যক্ষা মূলত এই ড্রপলেটসের মাধ্যমেই ছড়ায়।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও সবসময় মাস্ক পরে থাকতে হবে। একইসঙ্গে সার্বক্ষণিক মাস্ক পরতে হবে করোনা আক্রান্ত কিংবা সন্দেহভাজনদেরও। তবে সেটা সাধারণ সার্জিকাল মাস্ক হলেও চলবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন

মাস্ক নিয়ে গুজব বন্ধে এগিয়ে এসেছেন দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক পরে শুধু করোনা কেন, কোনো ভাইরাস বা জীবাণুর আক্রমণ ঠেকানো সম্ভব নয়। কারণ মাস্ক তো আর নাক-মুখের মতো পুরোপুরি চেপে বসে না। এর মধ্যে দিয়ে তো আমরা শ্বাস নিই। অর্থাৎ বাতাস আসা-যাওয়ার রাস্তা আছে। মাস্কের কাপড় আর নাক-মুখে জায়গা দিয়েই ভাইরাস বা জীবাণুরা অনায়াসে ঢুকে পড়তে পারে।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, বাতাসের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় না। শুধু যারা সংক্রমিত হয়েছেন তাদের সংস্পর্শে গেলেই অন্যদের সংক্রমণের শঙ্কা আছে।

জয়নিউজ

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...