করোনায় ভয় নয়, বলছে পরিসংখ্যান

0

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন (২১ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত) ২ লাখ ৮৪ হাজার ৫১৫ জন। মারা গেছেন ১১ হাজার ৮৩৮ জন। অর্থাৎ মৃত্যুহার ৪.১৬।

এর চেয়ে বড় ব্যাপার, আক্রান্তদের মধ্য থেকে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৬৬ জন। অর্থাৎ করোনাভাইরাস মরণব্যাধি হিসেবে যে প্রচার পেয়েছে, তা সত্যি নয়। কারণ ইতোমধ্যেই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩২.৮৮ শতাংশ রোগী।

এই হিসাবটি করোনায় আক্রান্ত ১৭৩ দেশের গড় হিসাব। যদি প্রতিটি দেশকে আলাদা করে ভাগ করে হিসাব করা হয়, তাহলে পরিসংখ্যানটা আরো আশাব্যঞ্জক। ইতালি ছাড়া আর কোনো দেশেই ভয়াবহ আকারে থাবা বসাতে পারেনি করোনা।

পাঠকরা হয়ত এ মুহূর্তে ভ্রু কুঁচকে বলবেন- তাহলে চীন কোথায় গেল।

হ্যাঁ, চীন প্রসঙ্গেই আসছি। চীনে আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ৮ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩ হাজার ২৫৫ জন। মৃত্যুহার ৪ শতাংশ। যে দেশটি থেকে করোনার উৎপত্তি সেই দেশের মৃত্যুহার কিন্তু গড় মৃত্যুহারের কম!

এর চেয়ে বড় ব্যাপার, আক্রান্তদের ৭১ হাজার ৭৪০ জন ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে গেছেন। অর্থাৎ ৮৮.৫৬ শতাংশ রোগীর দেহ থেকে দূর হয়ে গেছে ভয়াবহ এই ভাইরাস!

একটি রোগের উৎপত্তিস্থলেই যখন আক্রান্তদের সাড়ে ৮৮ শতাংশ সুস্থ হয়ে যান, তাহলে তা নিশ্চয়ই আশাব্যঞ্জক।

করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক পরিসংখ্যান আরো অনেক ভালো হতো যদি ইতালির ভয়াবহতাটা কমানো যেত। শুধু এক ইতালিতেই মারা গেছে ৪ হাজার ৩২ জন। মৃত্যুহারটাও এখানে অনেক বেশি, ৮.৫৭ শতাংশ। সুস্থতার হারটাও কম। কারণ এ পর্যন্ত আক্রান্ত ৪৭ হাজার ২১ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ১২৯ জন।

চীনে যেখানে সুস্থতার হার সাড়ে ৮৮ শতাংশ, সেখানে ইতালিতে মাত্র ১০.৯০ শতাংশ!

এ কারণেই বলছিলাম, ইতালির কারণেই করোনাভাইরাসের পরিসংখ্যান আরও ভালো হতে পারেনি।

করোনায় হাজারের উপর মৃত্যু ছাড়িয়েছে আর মাত্র দুটি দেশে। ইরানে ১ হাজার ৫৫৬ জন এবং স্পেনে ১ হাজার ৩২৬ জন।

ইরানে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৬১০ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ৬৩৫ জন। এখানে মৃত্যুহার ৭.৫৫ এবং সুস্থতার হার ৩৭.০৪।

স্পেনে মোট আক্রান্ত ২৪ হাজার ৯২৬ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১২৫ জন। মৃত্যুহার ৫.৩২ এবং সুস্থতার হার ৮.৫২।

পরিসংখ্যান থেকে যদি ইতালিকে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হবে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৪৯৪ জন। আর মৃত্যুর সংখ্যা হবে ৭ হাজার ৮০৬ জন। সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা হবে ৮৮ হাজার ৪৩৭ জন।

এবার এই পরিসংখ্যানকে যদি ভাগ করি তাহলে একটি আশাব্যঞ্জক চিত্র পাওয়া যাবে। ইতালি বাদে বিশ্বে করোনায় মৃত্যুহার মাত্র ৩.২৯! আর সুস্থতার হার ৩৭.২৪।

সর্বোচ্চ সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে করোনা ঠেকানো যে সম্ভব, তা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করতে শুরু করেছে চীন। ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, আমেরিকা, সুইজারল্যান্ডও দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে আগাম সতর্কতায় করোনা মোকাবেলা করতে হয়।

চিকিৎসার জন্য খ্যাতি রয়েছে জার্মানির। সেই জার্মানিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৫৮১ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২০৯ জন।

প্রশ্ন জাগতে পারে, সাড়ে বিশ হাজার মানুষের মধ্যে দুইশ’ জনের সুস্থতা এ আর এমন কী। তবে অবাক হতে হবে এর পরের পরিসংখ্যানে। কারণ এ ভাইরাসে এখানে মারা গেছে মাত্র ৭২ জন। মৃত্যুহার মাত্র ০.৩৫ শতাংশ!

এবার আসা যাক বাংলাদেশ প্রসঙ্গে। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এখনো সেভাবে ভয়াবহতা সৃষ্টি করতে পারেনি করোনা। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩ জন।

করোনা ঠেকাতে ইতোমধ্যেই বেশকিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বিদেশফেরতদের রাখা হয়েছে কঠোর নজরদারিতে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কারণ এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আক্রান্তদের হয় বিদেশ থেকে এসেছেন, নয়ত তাদের সংস্পর্শে এসেছেন।

প্রবাসীদের মাধ্যমেই ছড়াতে পারে করোনা। তাই এই দিকটিতেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এটি নিঃসন্দেহে সরকারের দূরদর্শিতার পরিচয়। এভাবেই কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সরকার দেশকে করোনামুক্ত করবেন- এটাই এখন দেশবাসীর একমাত্র চাওয়া।

লেখক: সম্পাদক, জয়নিউজ।

সরাসরি আপনার ডিভাইসে নিউজ আপডেট পান, এখনই সাবস্ক্রাইব করুন।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...