ইয়েমেনের ৫০ লাখ শিশুর মুখে খাবার দেবে কে!

0

ভয়াবহ অপুষ্টিতে ভোগা কঙ্কালসার শিশুদের চেহারা দেখে কষ্ট সহ্য করতে পারছেন না অনেকে। কিন্তু পাল্টানো যাচ্ছে না আধুনিক বিশ্বের মারাত্মক এই দুর্ভিক্ষের চিত্র। এখন কান্নার শক্তিটুকুও নেই এই শিশুদের শরীরে।

একটি ব্রিটিশ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দাবি, ইয়েমেনে ৫০ লাখ শিশু দুর্ভিক্ষের শিকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হোদেইদাকে কেন্দ্র করে সৌদি জোট অভিযান চালানোয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা।

হুথি জঙ্গিদের হাতে থাকা হোদেইদা নামে ওই বন্দরের দখল নিতে চায় সৌদি জোট। এই বন্দরের ক্ষতি হলে অথবা সাময়িকভাবে এটি বন্ধ হলে তেল আর খাবারের দাম মাত্রাতিরিক্ত হারে বাড়বে। এতে আরও ১০ লাখ শিশুর জীবন বিপন্ন হতে পারে।

ইয়েমেনের শিশুদের খাদ্য সংকট নিরসনে কাজ করছে ইউএনএইচসিআর। সংগঠনটি থেকে জানানো হয়, লক্ষ লক্ষ শিশু জানে না পরেরবারের খাবারটা তারা পাবে কি-না। বাচ্চাদের শরীরে কান্নার শক্তিটুকুও নেই। খিদেয় শরীরটাও নাড়াতে পারছে না তারা। ইয়েমেনের যে কোনও হাসপাতালে গেলেই একই দৃশ্য দেখা যাবে। হোদেইদায় বন্দর বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ত্রাণ আসতে পারছে না। তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইয়েমেনের শিশুদের উপরে। গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরের মাধ্যমে খাবার, জ্বালানি আর সব রকম ত্রাণসাহায্য আসে। খাবার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় অসংখ্য অপুষ্ট শিশু মারা যেতে পারে। কারণ বেঁচে থাকতে গেলে যেটুকু খাবার লাগে, সেটাও এর পরে ওরা আর পাবে না।

এক অসহায় শিশুর মা বলেন, ওর হাড়গুলো দেখতে পাচ্ছি। কিছু করতে পারছি না। কোথাও যাওয়ার কোনো সামর্থ্য নেই আমার। অর্থ ধার করে গ্রাম থেকে বহুদূরের হাসপাতালে একবার নিয়ে গেছি মেয়েকে। দিনে শুধু দু’বার খাওয়া। সকালে রুটি-চা। দুপুরে টমেটো আর আলু। নিজে না খেয়ে বাচ্চাদের জন্য রাখি। তাতে খাবারের চাহিদা মিটছে না।

এই সংকটে জ্বালানির দাম এত বাড়তে পারে যে বিধ্বস্ত পরিবারগুলো শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে যেতেও পারবে না। ইয়েমেনি রিয়াল-এর পতনে গত কয়েক দিনে খাবারের দাম প্রচণ্ড বেড়েছে। তাই এখনও পর্যন্ত বাজারে খাবার মিললেও অনেক পরিবারের পক্ষে এতবেশি দামে খাবার কেনা সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাসোলিন এবং রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যমতে, বন্দর-শহরটির উপরে আরও আঘাতের অর্থ, আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া। যার ফলে আড়াই লক্ষ মানুষ মারা যেতে পারে। লোহিত সাগরের এই বন্দর দিয়ে ৭০ শতাংশ সাহায্য পাঠানো হয়। গত জুন থেকে সেনা অভিযান চলছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে তৃতীয়বার থাবা বসাচ্ছে কলেরাও। কলেরা ঠেকাতে সেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাঠানো ওষুধ পৌঁছানো যাচ্ছে না। গত বছরও এ দেশে ১১ লাখ মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়েছিল।

জয়নিউজ

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...