দৃষ্টান্তটা হোক সবার জন্য

0

খাজা এনাম এলাহী, মা-বাবা হারানো পুলিশের এক উপপরিদর্শক। প্রয়াত পিতামাতার জন্য প্রতিবছরই তিনি একটি আয়োজন করেন। যে আয়োজনের অতিথি থাকে স্বজন থেকে শুরু করে সমাজের বঞ্চিতরা। তবে এ বছর এমন কোনো আয়োজন করেননি তিনি।

এ পর্যন্ত পড়ে পাঠকরা হয়ত ভাবছেন প্রয়াত মা-বাবার জন্য আয়োজন বাদ দিয়েছেন এটাতে বলার কী আছে? বলার আছে; কারণ গল্পের পরের অংশটা নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য অনন্য এক দৃষ্টান্ত।

এলাহী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, প্রয়াত মা-বাবার স্মরণে আয়োজনের জন্য যে প্রতি মাসে যে টাকাটা তিনি জমিয়ে রেখেছিলেন তা দিয়ে তিনি ত্রাণসামগ্রী কিনবেন এবং দুস্থদের দিবেন। সিদ্ধান্ত নিয়েই মাঠে নেমে পড়লেন এলাহী। সহায়তা নিলেন কমিউনিটিং পুলিশিংয়ের। দুই-তিন ধরে তৈরি করলেন তালিকা। সমাজের দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ৫০টি পরিবার স্থান পেল সেই তালিকায়।

এরপর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সোমবার (৩০ মার্চ) সবার ঘরে ঘরে গিয়ে এলাহী পৌঁছে দিলেন ত্রাণসামগ্রী।

যোগাযোগ করা হলে খুলশি থানার এসআই খাজা এনাম এলাহী জয়নিউজকে বলেন, করোনায় কঠিন সময় পার করছে দেশ। সচেতন নাগরিক হিসেবে সবার উচিত কর্মহীন দরিদ্র পরিবারগুলোকে সহায়তা করা।

তিনি বলেন, খুলশি থানার মতিঝর্ণা, পোড়া কলোনি, টাঙ্কির পাহাড়, টাইগারপাস, ডেবারপাড় ও ঝাউতলা এলাকার ৫০টি একেবারে গরিব পরিবারকে আমি বেছে নিয়েছি। প্রতিটি পরিবারকে ৪ কেজি চাল, ১ কেজি মসুর ডাল, ১ লিটার তেল, ১ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি আলু ও ১টি ডেটল সাবান দিয়েছি। ভ্যানে করে এসব পণ্য নিয়ে গেছি এবং আমি নিজের হাতে তাদের তুলে দিয়েছি।

এ বছর আমার প্রয়াত মা-বাবার বার্ষিক আয়োজনের জন্য জমানো টাকা দিয়েই আমি এটি করেছি। যাতে পূর্ণ সম্মতি ছিল আমার স্ত্রীরও। কোনো পাবলিসিটি জন্য আমি এটি করিনি- যোগ করেন এলাহী।

জয়নিউজ/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...