চাল কেলেংকারী: ইউএনওসহ ৯ জনকে তলব

0

পেকুয়ায় চাল কেলেংকারীর ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈকা সাহাদাত ও সাময়িক বরখাস্তকৃত টইটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীসহ নয়জনকে তলব করা হয়েছে। তাদেরকে স্থানীয় সরকারের বিভাগীয় পরিচালক চট্টগ্রামের কার্যালয়ে তলব করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার (১০ মে) সকালে ১০টায় তাদের তলব করা হয়।

জানা যায়, ৭ মে তদন্ত কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবন্তী রায় স্বাক্ষরিত একটি পত্রের মাধ্যমে তাদেরকে বিভাগীয় কার্যালয়ে তলব করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, পেকুয়ার টইটং ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ১৫ মে. টন চাল আত্মসাতের বিষয়ে অধিকতর শুনানির জন্য তদন্ত কমিটির বিগত ৪ মের তদন্ত কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের গৃহীত বক্তব্য এবং প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত সমূহের কতিপয় বিষয়াদি সুষ্পষ্টকরণের জন্য এ নয়জনকে ডাকা হয়েছে। যাদেরকে তলব হয়েছে তাঁরা হলেন-কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার। তিনি ১৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন।

তলবকৃত অন্যরা হলেন ইউএনও সাঈকা শাহাদাত, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা কামাল পাশা, সাবেক পিআইও সৌভ্রাত দাশ, বর্তমান পিআইও আমিনুল ইসলাম, চাল আত্মসাতের দায়ে বরখাস্ত টইটং ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, টইটং ইউপি সচিব আবদুল আলিম, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কার্য সহকারী শামিম ও উপজেলা ভূমি অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. রাজিব।
এদিকে শনিবার (৯ মে) আলোচিত ১৫ মে. টন ত্রাণের চালের বরাদ্দপত্রে স্বাক্ষর করা পেকুয়ার সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সৌভ্রাত দাশ, বর্তমান প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম নোটিশ প্রাপ্তির বিষয়টি এ প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেছেন।

টইটং ইউপি কার্যালয়ের সচিব আবদুল আলিম জয়নিউজকে বলেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে পাঠানো নোটিশ তিনি গ্রহণ করেছেন এবং চেয়ারম্যান না থাকায় তার নোটিশটি তার স্ত্রী গ্রহণ করেছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা শাহাদাত জয়নিউজকে বলেন, ‘আমার বক্তব্য একটাই আমি নিয়ম মেনে বরাদ্দ দিয়েছি। আর যাকে বরাদ্দটি দিয়েছি তিনি আমাকে মাস্টাররোল বুঝিয়ে দিবেন এটিই আমার বক্তব্য। আর যেকেউ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলে সেটা তাদের ব্যক্তিগত মতামত কিন্তু এধরনের কোনো কাজ আমি করিনি। সঠিক তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা যে কাউকে ডাকতে পারেন। সবকিছুর একটি অফিসিয়াল নিয়ম আছে। সেগুলো মেন্টেইন করতে হয়। এর বাইরে তদন্তাধীন বিষয়ে আমি এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।’

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক দীপক চক্রবর্তীর কাছে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মেইলে এ বিষয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য চাওয়া হলেও তিনি কোনো প্রকার সাড়া দেননি।

উল্লেখ্য, পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন থেকে গত ৩১ মার্চ টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর নামে বরাদ্দকৃত ১৫ টন ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগে ২৮ এপ্রিল তাকে আসামি করে পিআইও আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেন। পরদিন স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এক আদেশে জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরে ৩০ এপ্রিল একই ঘটনার রেশ ধরে ইউএনও সাঈকা সাহাদাতকে বদলি করা হয়। পরে ১ মে তার বদলি আদেশ স্থগিত করা হয়। পরে এ ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) দীপক চক্রবর্তীকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে। তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্যরা হলেন কক্সবাজার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবন্তী রায় ও কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম।

পরবর্তীতে গত ৪ মে মন্ত্রণালয় গঠিত উক্ত তদন্ত কমিটি পেকুয়া উপজেলায় এ বিষয়ে দিনভর শুনানি শেষে ৩৬ জনের সাক্ষ্য নেয় বলে জানায় সাংবাদিকদের।

জয়নিউজ/গিয়াসউদ্দীন/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...