‘ভাই আর পারছি না, চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না’

0

গরমের সাথে আবুধাবির শিশির বাংলাদেশ শিবিরকে জ্বালিয়েছে খুব। বোলাদের বল গ্রিপ করতে কষ্ট হচ্ছিলো। সাকিবকেও দেখা গেছে কয়েকবার হাতে মাটি মাখাতে। তাতেও কাজ হয়নি। তার উপর মুস্তাফিজের সমস্যা শুনে স্থির থাকেননি- বাংলাদেশ অধিনায়ক। ফিজের কাঁধে হাত রেখে অধিনায়ক বলেন,

“অন্তত ছোট রান আপে আস্তে আস্তে দৌঁড়ে গিয়ে হলেও কাটার দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে। চেষ্টা করেছি সাহস দিতে। তবে আমার কাজ তো ছিল স্রেফ বলা, আসল কাজ সে করেছে। এই অবস্থার মধ্যেও যেভাবে বোলিং করেছে, ওকে কৃতিত্ব দিতেই হবে।”

কাটার মাস্টারের বোলিংয়ের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রন থাকলেও এখনো শরীরের উপর তার বশ আসেনি। তার উপর আবুধাবির গরমে বারবার ক্রাম্প করছিল তার পা। কয়েক দফায় ডিহাইড্রেশন ট্যাবলেট খাওয়ার পরও শরীর তাকে সাপোর্ট দিচ্ছিল না। তাই মাশরাফি বাড়তি মনোযোগ দিলেন তার ওপর। মাথায় হাত বুলিয়ে উজ্জীবিত করে আদায় করে নিলেন আরো চার ওভার। এই এই চার ওভারের শেষ ওভারটিতে নিজেকে আগের সেই চেনা রুপে ফিরে পেলেন তিনি।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের দরকার ছিল মাত্র ৮ রানের। তখন উইকেটে ছিলেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি ও রশিদ খান, যাদের ব্যাটের হাত যথেষ্ট ভাল। কিন্তু ক্রাম্প করা পা নিয়ে মুস্তাফিজ যা দেখালেন তাতে মুগ্ধ সবাই। ৬ বলে দিলেন মাত্র ৪ রান। বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে নেয় ৩ রানে।

অথচ শেষ ওভারে ম্যাজিক দেখানো মুস্তাফিজের এমন শরীর নিয়ে বল করার কথা ছিল না। অন্য দেশের কোন বোলার হলে এই দুঃসাহস করতে পারত কিনা সেটা জানা নেই। ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক মাশরাফি আছে যেখানে উৎসাহ খোঁজার জন্য মনে হয়না অন্য কিছুর দরকার আছে। তাই পাঁচ ওভার বল করার পর মাশরাফির কাছে এসেই মুস্তাফিজ বললেন, ‘ভাই আর পারছি না, চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না।’

নিজের ব্যক্তিগত ৫ ওভারের পর থেকেই পা ক্র্যাম্প করছিল। শরীর টানছিল না, মন চাচ্ছিল না। কিন্তু মাশরাফি এতো কাছে এসে ফিরে যাবার পাত্র নয়। হাত রেখেছিলেন মুস্তাফিজের কাঁধে। সেই সময়ের ঘটনা বলতে গিয়ে মাশরাফি বলেন, “ওর ৫ ওভারের পর থেকেই বলছিল, ‘ভাই, আমি আর পারব না’। আমার তো মাথায় হাত! আজকে রুবেলও নেই। ম্যাচ তো জিততেই হবে, ওকে আমার লাগবেই। ওর ১০ ওভার তো হিসাব করা আমার। আমি বারবার ওকে বলেছি, পারতেই হবে। বলেছি নিজেকে পুশ করতে। চেষ্টা করেছি ছোট স্পেলে ওকে বোলিং করাতে।”

 

জয়নিউজ/শহীদ

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...