করোনা মোকাবিলায় সার্ক তহবিল গঠনের প্রস্তাব মোদির

0

নভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সার্ক তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় রোববার (১৫ মার্চ) দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) নেতাদের ভিডিও কনফারেন্সে এই প্রস্তাব দেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে আয়োজিত এই ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবে রাজাপাকসে, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জাফর মির্জা।

দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের একজোট হওয়ার দিনে ১৪১টি দেশ ও অঞ্চলে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে যায়। বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো এই রোগ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন সার্কের দেশগুলোর সরকার প্রধানরা। এসময় তারা নিজ নিজ দেশে নেওয়া কাজের অভিজ্ঞতাও বিনিময় করেন।

সার্ক নেতারা এক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বিনিময়ের ওপর জোর দেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি চীন থেকে প্রতিবেশি বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার কথাও বলেন।

মোদি ‘কোভিড-১৯ ইমারজেন্সি ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, প্রাথমিকভাবে ভারত ১ কোটি ডলার দিয়ে এই তহবিলের শুরুটা করতে পারে। এই তহবিলের অর্থ ব্যয় সমন্বয়ের কাজটি ভারতের দূতাবাসগুলো করতে পারে বলে প্রস্তাব দেন তিনি।

তিনি বলেন, আতঙ্কিত না হয়ে একজোট হয়ে রুখতে হবে করোনাভাইরাসকে। পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে। রোগ মোকাবিলায় সবাই প্রস্তুত থাকুন। কিন্তু আতঙ্ক নয়, এই আমাদের মন্ত্র হওয়া উচিত। আমাদের গা ছাড়া মনোভাব পরিহার করতে হবে। তাহলেই আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হবে।

এনডিটিভি জানায়, সার্কভুক্ত দেশগুলোতে এ পর্যন্ত ১৫০ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে। আর সারা বিশ্বে এ প্রাণঘাতি ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে পৌনে ছয় হাজারে।

ভিডিও কনফারেন্সে এই গোটা অঞ্চলের নেতৃত্ব দিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমরা এক হলে নিশ্চয়ই সুফল পাব। এ অঞ্চলের স্বাস্থ্য পরিষেবায় কিছু চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে একসঙ্গে তৈরি থাকতে হবে, একসঙ্গে কাজ করতে হবে। করোনাভাইরাস রুখতে ভারত সরকার কী কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তা-ও জানান তিনি।

মোদি বলেন, ধাপে ধাপে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করাটা করোনাভাইরাস আতঙ্ক দূর করতে ভারতের জন্য সহায়ক হয়েছে। গোটা দেশ জুড়েই করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার শুরু হয়েছে এবং চিকিৎসার সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর কাজও চলছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্ক্রিনিং, সংক্রমণ খুঁজে বের করা, কোয়ারান্টাইন এবং আইসোলেশন পরিষেবাও।

এ সমস্যাকে হালকাভাবে দেখলে চলবে না, আবার ভয় পেলেও চলবে না। ভাইরাস মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশকে যুগ্ম নীতি নেওয়ার আহ্বান জানান মোদি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্ক দেশগুলোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবদের নিয়ে এমন একটি ভিডিও কনফারেন্সের প্রস্তাব দেন, যাতে সবাই অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারেন। জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যেন একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সেজন্য একটি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন শেখ হাসিনা।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরে জরুরি এই পরিস্থিতিতে সার্ক নেতাদের দ্রুত উপায় খোঁজার তাগিদ দেন। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট গনি সাংহাই করপোরেশনে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারতের থাকার বিষয়টি তুলে ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীনের অভিজ্ঞতা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

টেলিমেডিসিন সেবার একটি অভিন্ন রূপরেখা প্রণয়নের জন্য সার্ক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান আফগান প্রেসিডেন্ট।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাফর মির্জাও সমন্বিত কাজের ওপর জোর দিয়ে বলেন, আমরা ভালোটা আশা করলেও সবচেয়ে খারাপ অবস্থার জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে।

এর আগে শুক্রবার সকালে এক টুইট বার্তায় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান মোদি।

তিনি বলেছিলেন, আমাদের নাগরিকদের কীভাবে সুস্থ রাখা যায়, সে বিষয়ে আমরা ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করতে পারি। একসঙ্গে আমরা বিশ্বের সামনে একটি উদাহরণ তৈরি করতে এবং একটি স্বাস্থ্যকর গ্রহ গড়ে তুলতে অবদান রাখতে পারি।

এরপর বাংলাদেশসহ সার্ক সদস্য দেশগুলো তার সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার কথা জানায়। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে এই ভিডিও কনফারেন্স সরাসরি সম্প্রচার করে।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...