প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা: ব্যাংকের তালিকাভুক্তিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের শঙ্কা

0

করোনায় সৃষ্টি হওয়া আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আবার প্যাকেজ বাস্তবায়নে যাতে অনিয়ম না হয় সেজন্য কঠোর মনিটরিং করবে মন্ত্রণালয়। এতকিছুর পরও অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সন্দিহান বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে।

তারা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসায় টিকে থাকার লক্ষ্যে প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে ব্যাংকের কাছ থেকে প্রণোদনা পেতে দেখা দিচ্ছে নানা জটিলতা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও নানা আইনি জটিলতায় অনেক ব্যবসায়ী এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি ব্যাংকের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার কথায়ও আভাস পাওয়া গেল এ শঙ্কার সত্যতা।

ওই কর্মকর্তা বলেন, করোনায় বিশ্বাসটাই চলে গেছে। এখন কেউ কাউকে বিশ্বাস করছে না। আসলে আমরা কেউ জানি না করোনা আদৌ কতদিন থাকবে। করোনার প্রকোপ যদি আরো দীর্ঘায়িত হয় তবে আর্থিক ঘূর্ণায়নের চাকাতো আর আগের মতো ঘুরবে না। তাই ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অনেক ভেবে-চিন্তে গ্রাহক বাছাই করতে হবে।

এ বিষয়ে এনআরবি ব্যাংক চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান মো. তারেকুজ্জামান জয়নিউজকে বলেন, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা কাকে দেওয়া যায় তা ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে দেখছে। তবে এটাও ঠিক, প্রণোদনা দেওয়ার আগে ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করবে ব্যাংক। কারণ দিন শেষে আমানতকারীদের টাকার হেফাজত করার দায়িত্ব কিন্তু ব্যংকেরই।

তবে আমি আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে অনুমান করতে পারি, অর্থনীতির বতর্মান অনিশ্চিত অবস্থায় এই প্রণোদনা সুবিধা, বিশেষ করে ব্যাংকের জন্য সম্পুর্ণ নতুন এসএমই গ্রাহকদের পাওয়ার খুব একটা সম্ভাবনা দেখছি না। তাছাড়া কোনো ঋণ খেলাপিরও এই প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ দেখিনা।

সোনালী ব্যাংকের চট্টগ্রাম জেনারেল ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, করোনায় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকটা স্থবির। আমরা কখনো চাই না খেলাপীর সংখ্যা বাড়ুক। তাই আমরা খুব সতর্কভাবেই প্রণোদনার টাকা বণ্টন করবো। মূলত তাকেই টাকা দেবো যিনি ফেরত দেবেন।

তবে আশার বাণী শুনালেন ইসলামী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের করপোরেট ইনভেস্টমেন্ট ডিভিশন-২ এর সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জিএম গিয়াস উদ্দিন কাদের। তিনি জয়নিউজকে বলেন, দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে সরকারের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে প্রত্যেক ব্যাংকারের ইতিবাচক মনোভাব থাকতেই হবে। কারণ ব্যাংকই সরকারের অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

তিনি বলেন, নিয়ম মেনে প্রণোদনার সুযোগটা পর্যায়ক্রমে যাতে সব গ্রাহক ভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে ইসলামী ব্যাংক । এছাড়া পরিস্থিতির কারণে কোনো গ্রাহক যদি সাময়িক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তাকেও আমরা প্রণোদনা সুবিধা দেবো। মোট কথা আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা শতভাগ ইউটিলাইজ করার লক্ষ্যে কাজ করছি।

জয়নিউজ/পিডি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...