করোনা চিকিৎসায় জীবন রক্ষাকারী প্রথম ওষুধের সন্ধান

0

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের জন্য জীবন রক্ষাকারী একটি ওষুধ খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তাদের দাবি, ডেক্সামেথাসন নামের স্টেরয়েড করোনা আক্রান্তদের শরীরে প্রয়োগের মধ্যদিয়ে দারুণ সাফল্য পাওয়া গেছে। এটি ভেন্টিলেটরে থাকা রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি এক তৃতীয়াংশ কমাতে পারে। আর অক্সিজেনে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে এ ওষুধ মৃত্যুঝুঁকি কমায় এক পঞ্চমাংশ। তাছাড়া ওষুধটি সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ীও। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের প্রতি ২০ জনের মধ্যে ১৯ জনই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে সুস্থ হয়ে যান। হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদেরও বেশিরভাগই সুস্থ হন, তবে কারো কারো ভেন্টিলেশন ও অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে। তাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ রোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ব্রিটিশ গবেষকদের দাবি, এসব রোগীর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে ডেক্সামেথাসন।

১৯৬০-এর দশক থেকে যুক্তরাজ্যে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অ্যাজমাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ডেক্সামেথাসন প্রয়োগ করে আসা হচ্ছে। সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে হাসপাতালে থাকা দুই হাজার করোনা রোগীর শরীরে এ ওষুধ প্রয়োগ করে পরীক্ষা চালানো হয়। ডেক্সামেথাসন প্রয়োগ করা হয়নি এমন ৪ হাজার রোগীর অবস্থার সঙ্গে তাদের অবস্থার তুলনা করা হয়।

এতে দেখা যায়, ভেন্টিলেটরে থাকা রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি ৪০ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ২৮ শতাংশ । আর অক্সিজেনে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যু ঝুঁকি ২৫ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশ হয়েছে।

গবেষকদের দাবি, যুক্তরাজ্যে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার প্রাথমিক পর্যায়ে এ ওষুধ প্রয়োগ করা হলে অন্তত ৫ হাজার মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো। তুলনামূলকভাবে এর দাম কম হওয়ায় দরিদ্র দেশগুলোও এ ওষুধ ব্যবহার করে অনেক সাফল্য পেতো।

প্রধান পরীক্ষক পিটার হরবি বলেন, এটিই এখন পর্যন্ত একমাত্র ওষুধ যা মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে সাফল্য দেখিয়েছে। উল্লেখযোগ্য হারেই তা কমেছে। এ এক যুগান্তকারী সাফল্য।

নেতৃত্বস্থানীয় গবেষক অধ্যাপক ল্যান্ড্রি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, এ ওষুধ প্রয়োগের মধ্যদিয়ে ভেন্টিলেটরে চিকিৎসা নেওয়া প্রতি আটজনের একজন রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব। আর অক্সিজেন গ্রহণকারী প্রতি ২০-২৫ জন রোগীর শরীরে এ ওষুধ প্রয়োগ করে একজনের জীবন রক্ষা করা যেতে পারে।’

তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, যেসব রোগীর মৃদু উপসর্গ রয়েছে এবং যাদের শ্বাস নিতে বাড়তি সরঞ্জামের প্রয়োজন পড়ে না, তাদের ক্ষেত্রে এ ওষুধ খুব একটা কার্যকরী হবে না।

ল্যান্ড্রি মনে করেন করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলো অনতিবিলম্বে এ ওষুধ প্রয়োগ করতে পারে। তবে রোগীদেরকে নিজে নিজে এ ওষুধ কিনে বাড়িতে ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...