টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগের গ্রাম অফিসেরচর

0

বৃষ্টি হলেই গ্রামে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। ধর্মপ্রাণ মুসল্লি যেতে পারে না মসজিদে। পানিতে ডুবে যাওয়া গ্রামের রাস্তা পার হয়ে স্থানীয়দের যেতে হয় হাটবাজারে। চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে অফিসেরচর গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার। এমনকি এসব পানি পার হয়ে স্কুলে যেতে হয় কোমলমতি শিশুদের।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল থেকে রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের অফিসেরচর গ্রামে চরপাড়া রাস্তা জলাবদ্ধতা হয়ে পড়ে।

চরপাড়ার বাসিন্দা আবছার মিয়া, সাজ্জাদ সরওয়ার, ফরিদুল আলম, নুরুল আমিন জয়নিউজকে বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে এলাকার অধিকাংশ ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। পাড়ার সড়কটি তলিয়ে যাওয়ায় মানুষজনকে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মসজিদগামী ধর্মপ্রাণ মুসল্লী, শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও শিশুদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এটি নিরসনে চরপাড়া সড়কের পাশে ৫/৬ শত ফুট অংশে একটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু করলে সমস্যার পুরোটাই সমাধান হয়ে যেত।

তারা আরও বলেন, অফিসেরচর চরপাড়া জামে মসজিদ থেকে পূর্ব দিকে আবদুল হাকিম সিকদারের বাড়ি পর্যন্ত দুইশত ফুটের বেশি রাস্তা ও মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থান থেকে উত্তর দিকে আজিজ মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত তিন শত ফুট সড়ক জলাবদ্ধতা হয়ে আছে। অনেকের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে বারবার এ দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারি বর্ষণে অফিসেরচর গ্রামের চরপাড়ার প্রায় ৫/৬ শত ফুট রাস্তা হাঁটুপানিতে ডুবে আছে। টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হলে সড়কের জলাবদ্ধ পানি পাড়ার বাড়িঘরেও ঢুকে যাবে বলে জানায় এলাকার বাসিন্দারা।

ইতোমধ্যে বেশ কিছু বাড়িঘরের আঙিনায় পানি প্রবেশ করেছে। চরপাড়া এলাকার লোকজনকে হাঁটুপানি মাড়িয়ে মসজিদ ও হাটবাজারে যেতে হচ্ছে। এলাকার প্রবেশের দুটি রাস্তা অপরিকল্পিতভাবে সংস্কার করার সময়ে কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। চরপাড়া এলাকার ভিতরের দুটো শাখা রাস্তা সংস্কার করা হয়নি। পানিপ্রবাহে কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নেই। বিভিন্ন বাড়ির পঁচানর্দমা রাস্তার ওই জলাবদ্ধতায় মিশে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পয়ঃনালার পানিও রাস্তায় চলে আসায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা আবছার মিয়া জযনিউজকে বলেন, গত মার্চ মাসে চরপাড়া এলাকার দুটি প্রবেশ পথ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে উঁচু করে সংস্কার করা হয়েছে। সড়ক সংস্কারের সময়ে রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারকে অনুরোধ করায়, তিনি চরপাড়া এলাকার সমস্যা সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখেন। ইউএনও স্থানীয় বাসিন্দাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন গ্রামবাসীকে। তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে ওই স্থান থেকে সরাসরি মোবাইল ফোনে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথাও বলেন। কিন্তু তিন মাস অতিবাহিত হলেও জলাবদ্ধতার জনদুর্ভোগ নিরসনে কোনো কার্যকর ভূমিকাই দেখা যায়নি।

ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র মুকিত আল শাকুর ও তার বোন রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী মুদ্রিকা শাহরিন ইমরি বলেন, বৃষ্টির পানিতে প্রায়ই জলাবদ্ধতা লেগে থাকে। এতে আমাদের চলাফেরা করতে অসুবিধায় পড়তে হয়। জলাবদ্ধতার পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পড়ালেখা করতে ও খাবার খেতে অসুবিধা হয়।

ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম জয়নিউজকে বলেন, স্থানীয় লোকজনের দুর্ভোগ লাঘবের স্বার্থেই দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিকল্পনা নিয়ে ওই এলাকায় উন্নয়ন কাজ করা হবে।

রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা জয়নিউজকে বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার বিষয়টি সরেজমিন খোঁজ নিয়েছি। করোনা পরিস্থিতির কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও, অফিসেরচরে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জয়নিউজ/খালেদ/বিআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...