৬ মাসে বাংলাদেশে ২৮ হাজার শিশুর মৃত্যুর শঙ্কা

0

স্বাস্থ্য ও পুষ্টিজনিত নানা সমস্যার কারণে আগামী ছয়মাসে বাংলাদেশে ২৮ হাজার শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সর্বোচ্চ পাঁচবছর বয়সের এই শিশুদের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জন হপকিনস ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষণার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের মৃত্যু হতে পারে করোনাভাইরাস মহামারিতে ক্ষুধা, অপুষ্টি ও অন্য রোগে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশে যানবাহন চলাচল সীমিত আকারে রয়েছে। ফলে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। দরিদ্র পরিবারগুলোর তিনবেলার খাবার জোগাড় করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে শিশুরা অপুষ্টির শিকার হচ্ছে।

আবার সংক্রমণের ভয়ে শিশুদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও নেওয়া হচ্ছে না। ফলে তারা জীবন রক্ষাকারী প্রয়োজনীয় টিকাও পাচ্ছে না। করোনার সময় অর্ধেক শিশু বিভিন্ন রোগের টিকা নিতে পারেনি। সব মিলিয়ে শিশুরা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মহামারির পরোক্ষ কারণে তাই আগামী ছয়মাসে বাংলাদেশে ২৮ হাজার শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা আছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা
এই সময়ে শিশুরা অন্য রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। কারণ গত  তিনমাস বলতে গেলে শিশুদের ১০টি রোগের ছয়টি জীবন রক্ষাকারী টিকা দেওয়া বন্ধ ছিল লকডাউনের কারণে। অনেক টিকাদান কেন্দ্রই বন্ধ ছিলো। আবার যখন শুরু হয় তখন অনেক শিশুর অভিভাবক করোনার কারণে তাদের শিশুদের টিকাদান কেন্দ্রে নেননি। এছাড়া শিশুরা বিশেষ করে নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুরা এখন সবচেয়ে বেশি অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

শিশুদের করোনাভাইরাস চিকিৎসা
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মারা গেছেন ১ হাজার ৫৮২ জন এবং শনাক্ত হয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ জন। আইইডিসিআর এর তথ্য মতে, বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ৩%, যাদের বয়স ১ থেকে ১০ বছরের মধ্যে৷ আর ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছে ৭%৷

এখন পর্যন্ত যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ১ থেকে ১০ বছর বয়সের ০.৮২%। ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছে ১.৪৯%।

শিশুদের করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য একমাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা ইউনিট করা হয়েছে। দেশের আর কোথাও শিশুদের জন্য আলাদা করোনাভাইরাস ইউনিট নেই। এমনকি শিশু হাসপাতালেও নয়। অন্যান্য হাসপাতালে বয়স্ক রোগীদের সঙ্গেই করোনা পজিটিভ শিশুদেরও চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে ঢাকা শিশু হাসপাতালে শিশুদের জন্য আটটি আইসোলেশন বেড আছে।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...