শিক্ষার্থীদের প্রতিমাসে ফ্রি ডাটা দিচ্ছে ইডিইউ

0

কভিড-১৯ এর দুর্যোগে অনলাইন পাঠদানে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি (ইডিইউ) শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে নিয়েছে নানা পদক্ষেপ। ক্যাম্পাস ক্লাস থেকে অনলাইনে রূপান্তরের এ যাত্রায় আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াও প্রতি মাসে মাথাপিছু ৩০ জিবি ইন্টারনেট ডাটা বিনামূল্যে দিচ্ছে ইডিইউ কর্তৃপক্ষ।

বর্তমান অবস্থায় অনলাইন সুবিধাগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ব্রেকিং দ্য ডিজিটাল ডিভাইড’শীর্ষক কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগ পেয়েছে নানামহলের ভূয়সী প্রশংসা। দেশের অন্যতম মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন সিম ও মোবাইল ডাটা সরবরাহের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে ইডিইউর এ যুগান্তকারী উদ্যোগে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার প্রথম দিন থেকেই কর্তৃপক্ষের পূর্ব-প্রস্তুতি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনুসারে ইডিইউ অনলাইনে ক্লাস গ্রহণ শুরু করে। পূর্বে ও পরে চালানো সমীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রশংসার পাশাপাশি কিছু সমস্যার কথাও উঠে আসে, যা সমাধানের উদ্যোগ নেন ইডিইউর প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান ও চিফ ইনোভেশনস অফিসার সাঈদ আল নোমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেহেতু সর্বত্র ইন্টারনেট সুবিধা সমান নয়, তাই সাধারণ ছুটিতে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আমাদের শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস গ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিমাসে ৩০ জিবি মোবাইল ডাটা দেওয়ার উদ্যোগ নিই। এতে আমরা পাশে পেয়েছি বাংলাদেশের অন্যতম কানেক্টিভিটি প্রোভাইডার গ্রামীণফোনকে। তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের সিমকার্ড দিচ্ছে, যেখানে প্রতিমাসে পৌঁছে যাবে ইডিইউর পক্ষ থেকে ত্রিশ জিবি ইন্টারনেট ডাটা।

গ্রামীণফোনের প্রথম বাংলাদেশি সিইও ইয়াসির আজমান ইডিইউর এ উদ্যোগে ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সকল ক্ষেত্রের মাঝে প্রযুক্তিগত বা ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন করে দেওয়াই আমাদের ভিশন। রাষ্ট্রের, সর্বোপরী জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের কানেক্টিভিটি প্রয়োজন, যা প্রদান করে গ্রামীণফোন। বর্তমান সময়ে এতোদিনের ধারাবাহিতা যাতে ভেঙে না পড়ে, আমরা সে লক্ষ্যে সর্বদা অটল ছিলাম। দেশের মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সব উদ্যোগে আমরা সামিল হতে চাই। ইডিইউর এ চমৎকার উদ্যোগে তাই আমরা সাগ্রহে সম্পৃক্ত হয়েছি।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ব্যাপক সাড়া ও প্রশংসা পাওয়া গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাদের অনেকেই নিজেদের একাউন্ট থেকে আপলোড করেছে ধন্যবাদমূলক পোস্ট।

বগুড়ায় শ্বশুর বাড়িতে থাকা ইডিইউর এক শিক্ষার্থী তার মনোভাব প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, সন্তানের দেখভাল ও সংসারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায়ই ক্যাম্পাসে যেতে পারতাম না। এক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস আমার জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। কিন্তু এখানে সবসময় ইন্টারনেটের ভালো সংযোগ পাওয়া যায় না। ইডিইউর পক্ষ থেকে ইন্টারনেট ডাটা পেয়ে ক্লাসে নিয়মিত অংশ নিতে পারছি সহজেই।

ইডিইউ ও গ্রামীণফোনের এ যুগলবন্দির ফলাফল সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে জানাতে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুপ্রেরণামূলক দিকনির্দেশনা প্রদানে প্রতিষ্ঠানদ্বয় এক যৌথ ওয়েবিনারেরও আয়োজন করে।

‘দি আউটলুক অব এডুকেশন এন্ড ক্যারিয়ার ইন নিউ নরমাল এরা’ শীর্ষক এ ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে সাঈদ আল নোমান ও ইয়াসির আজমান ছাড়াও যোগ দেন ইডিইউর উপাচার্য অধ্যাপক মু. সিকান্দার খান, গ্রামীণফোনের চিফ বিজনেস অফিসার কাজী মাহবুব হাসান, হেড অব কমিউনিকেশন খায়রুল বাশার এবং দি স্পিকইজি সোসাইটির কো-ফাউন্ডার, ভাইপারমিডিয়ার এইচআর ও ডিজিটাল মার্কেটার তাসফিয়া আজিম।

জয়নিউজ/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...