রাস্তার পাশে থাকবে না ডাস্টবিন : মেয়র

0

নগরের প্রধান প্রধান সড়কের দু’পাশে ময়লা-আবর্জনার ডাস্টবিনগুলো আগামী এক মাসের মধ্যে সরিয়ে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

বৃহস্পতিবার  (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিটি করপোরেশন কনফারেন্স হলে জাইকার সহযোগিতায় সিটি গভর্নেন্স প্রকল্পের অধীনে গঠিত সিভিল সোসাইটি কো-অডিনেশন কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র এ কথা জানান।

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নগরের প্রধান সড়কের কয়েকটি স্পটে ময়লা স্তুপের কথা উল্লেখ করে বলেন, সড়কে যত্রতত্র ময়লার স্তুপ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারী। পাশাপাশি নগরের সৌন্দর্যও বিঘ্নিত করছে। আমাদের এই প্রিয় নগরকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি গড়তে ইতিমধ্যে ১৩৫০টি ডাস্টবিনের মধ্যে ৬০০টি ডাস্টবিন অপসারণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৭৫০টি ডাস্টবিন আগামী ১ মাসের মধ্যে সড়ক থেকে সরিয়ে নেয়ার নিমিত্তে বিকল্প জায়গা খুঁজে বের করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নগরের সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে সিভিল সোসাইটি বিশেষজ্ঞ এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মেয়র বলেন, তারকা হোটেল, রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে হলে ক্রেতাদেরকে ভ্যাট দিতে হয়। সেখানে খাবারের মূল্যের সাথে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ সংযোজিত থাকে। হোটেল, রেস্টুরেন্টগুলোতে গিয়ে আমাদের অভিজাত সমাজকে সংযোজিত এই ভ্যাট প্রদান করতে হয়। সেক্ষেত্রে কোন ওজর-আপত্তি থাকে না। কিন্তু সিটি করপোরেশনকে গৃহকর প্রদান করার সময় হোল্ডারদের যত আপত্তি। সিটি করপোরেশন সরকার ধার্যকৃত গৃহকর আদায় করে থাকে। সরকার সিটিগুলোতে স্বতন্ত্র হারে গৃহকর ধার্য করেছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১৭ শতাংশ। কিন্তু ধার্যকৃত এই গৃহকর দিতে নগরবাসীর আপত্তি-আপিলের শেষ নেই। রাজধানী শহর ঢাকায় গত অর্থ বছরে গৃহকর আদায়ের হার প্রায় ৭০ শতাংশ। এখানে নানামুখী উদ্যোগ পরিকল্পনা গ্রহণের পরও গৃহকর আদায়ের হার মাত্র ৩৮ শতাংশ।

তিনি আরো বলেন, আইনি কাঠামো শতভাগ মেনে এ্যাসেসমেন্ট করা হলে চট্টগ্রামে গৃহকর বাবদ হাজার কোটি টাকা কর আদায় সম্ভব। কিন্তু নানামুখী সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করে চসিক সম্মানিত হোল্ডারদের কাছ থেকে গৃহকর আদায়ে গৃহকর মওকুফ, টোকেন গৃহকর প্রদানসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও একশ্রেণির ব্যক্তি চসিকের উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে নানামুখী অপতৎপরতায় লিপ্ত আছে।

অপপ্রচারে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানিয়ে মেয়র বলেন, চসিকের সেবা চলমান রাখতে হলে সময়মত তাদের গৃহকর প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে। নইলে চসিকের বিশাল কর্মযজ্ঞে স্থবিরতা নেমে আসবে।

সভায় জয়নিউজের সম্পাদক ও চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক অহীদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন নগরীতে জাইকার অর্থায়নে আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও পোর্ট কানেকটিং রোডের কথা উল্লেখ করে যত দ্রুত সম্ভব এই দু’টি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দেন।

আইইবি’র সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. হারুন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলাকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয়দের উপস্থিতি বাঞ্চনীয়। এতে কাজের গুণগত মান নিয়ে আলোচনার সুযোগ হয়। তিনি প্রকল্প কাজ চলাকালীন সময়ে সরেজমিন উপস্থিতি থাকার জন্য মেয়রকে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেন।

বিএমএ সভাপতি প্রফেসর ডা. মুজিবুল হক খাঁন ফ্লাইওভারের জন্য যে রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো দ্রুত মেরামত করার জন্য সিটি মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সাংবাদিক এম নাসিরুল হক ওয়াসাসহ অন্যান্য সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্ঘটনা এড়াতে রাস্তা কর্তনের সাথে সাথে মেরামতের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় আইইবি’র সহ সভাপতি এম এ রশিদ, অধ্যক্ষ আনোয়ারা আলম, সাবেক কাউন্সিলর রেখা আলম, চিটাগাং চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু ও মোরশেদ আকতার চৌধুরী আলোচ্যসূচির উপর তাদের মতামত তুলে ধরেন।

এসময় চসিক প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব ও সিভিল সোসাইটি কো-অডিনেশন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জয়নিউজ/কাউসার/জুলফিকার

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...