৩ মেয়েকে ধর্ষণ করেছে পিশাচ পিতা

0

পাষণ্ড এক পিতার যৌন লালসার শিকার হয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশু। শুধু তাই নয়, তার বড় ও ছোট বোনও পিতার বিকৃত যৌন লালসার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসায়। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিন মেয়ের মা গামেন্টসকর্মী নূর নাহার বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মদুনাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এ ঘটনায় ওই শিশু কন্যার পিতা মো. কাইযুমকে (৫৭)  শিকারপুর এলাকা থেকে আটক করে মডেল থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছেন। আটককৃত কাইযুম হাতিয়া থানার ছালনদি ইউনিয়নের পূর্ব আজমপুর গ্রামের মৃত শামসুল হকের পুত্র। সে পেশায় একজন তরকারি বিক্রেতা।

হাটহাজারী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শামীম শেখ জানান, দীর্ঘদিন ধরে কাইয়ুম তার তিন মেয়েকে নিয়ে উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জিকু কলোনিতে বসবাস করতো। গত তিন মাস ধরে কাইযুম তার মেজ মেয়েকে ধর্ষণ করে আসছিল। গত বুধবার সকালে যথারীতি ধর্ষিতার মা নূর নাহার তার কর্মস্থলে চলে যায়। এ সময় তার (ধর্ষিতার) বাবা তাকে প্রতিবারের মতো ধর্ষণ করে। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি আঁচ করতে পারে এবং ধর্ষিতার মা তার কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে এলে এ ঘটনাটি স্থানীয়রা তার মাকে অবহিত করে। এর পরের দিন (বৃহস্পতিবার) তার মা ফের কর্মস্থলে যাওয়ার সময় কাইয়ুমকে ঘরে তালাবন্দী করে রাখে এবং ধর্ষিতাকে পাশের একটি ঘরের লোকজনের কাছে হেফাজতে রাখে। খবর পেয়ে মদুনাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ওসি) আবদুল করিম কাইয়ুমকে আটক করে আমাদের কাছে সোর্পদ করেন।

এদিকে রাত ৮টার দিকে থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাইযুম এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রায় তিন মাস ধরে সে এ কাজ করে আসছে। শুধু তার মেজ মেয়ে নয় তার আরো দুই মেয়ের সঙ্গে ও এমন জঘন্য কাজ করেছে বলে পুলিশের কাছে দেওয়া লোকহর্ষক বর্ণনায় উঠে আসে। এ কারণে তার বড় ও ছোট মেয়ে এখন আর বাসায় থাকে না। তবে কয়েক বছর আগে তার বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে বলে সে জানায়।

এ ব্যাপারে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বেলাল উদ্দীন জাহাংগীর মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, ধর্ষক কাইযুমকে আমরা আটক করেছি। ধর্ষিত শিশু শুক্রবার চট্টগ্রামের বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করবে। এছাড়া এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদী একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। তবে  মধ্যরাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামালা দায়ের হয়নি।

হাটহাজারীর সার্কেল এসপি আবদুল্লাহ আলম মাসুম জয়নিউজকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা মিলেছে।

জয়নিউজ/জুলফিকার

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...