যাত্রীদের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করতো তারা

0

যানবাহনে আগে থেকেই বসে থাকে প্রতারক চক্রের ২/১ জন সদস্য। কোনো যাত্রী গাড়িতে উঠার কিছুক্ষণ পরে চালক হঠাৎ করে তাদের বলে, ‘ভাই/আপা, আমি পড়ালেখা জানি না। আমার চাচা চিঠিসহ এই স্বর্ণের বারের বক্সটা আমাকে দিয়েছেন/আমি এ স্বর্ণের বারের বক্সটা কুড়িয়ে পেয়েছি। দেখেন তো কী লেখা আছে?’

যানবাহনের যাত্রীরা প্রতারণাপূর্ণ চিঠিটি পড়ে ও স্বর্ণের বারের মতো চকচকে পিতলের তৈরি বারকে মনে করে আসল স্বর্ণের বার। তখন ওই চালক এবং ছদ্মবেশী অন্য সদস্যরা যাত্রীদেরকে নকল বারটি কিনতে উদ্বুদ্ধ করে। যাত্রীরা ফাঁদে পড়লে বারটি কিনে নেন অথবা তাদের কাছে থাকা আসল গহনার বিনিময়ে নিয়ে প্রতারিত হন। এভাবে নকল স্বর্ণের বার দেখিয়ে বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় প্রতারণা করে আসছে সংঘবদ্ধ বেশ কয়েকটি প্রতারক চক্র।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২৫ জুলাই) বিকালে হাটহাজারীর নন্দীর হাটের ধোপার দীঘিরপাড় এলাকা থেকে অটোরিকশায় যাত্রী বেশে প্রতারণা করার সময় এমন একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব।

এ সময় আটককৃতদের দেহ তল্লাশী করে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৩২টি নকল স্বর্ণের বার, পাঁচটি মোবাইল সেট, একটি গহনার বক্স, ১০টি স্ক্রু ড্রাইভার, তিনটি টেস্টার এবং একটি অটোরিকশাসহ নানা সরঞ্জাম জব্দ করে।

আটককৃত প্রতারকচক্রের সদস্যরা হলেন-নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার বলিয়াপাড়ার মৃত মো. হোসাইনের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (৪২), একই এলাকার কুলগাওয়ের মৃত আবুল কালামের ছেলে মো. আবু জাহেদ (৩৬), হাটহাজারীর দেওয়াননগর গ্রামের মৃত ইউনুছের ছেলে মো. ইদ্রিস (৫৮), রাউজান চিকদাইর ইউনিয়নের মো. ফরিদ প্রকাশ বাদলের ছেলে মো. ওসমান প্রকাশ রুবেল (২৯) ও সীতাকুণ্ডের খাদেমপাড়া এলাকার রুস্তম শেখ প্রকাশ ভান্ডারীর ছেলে মো. সোলাইমান (৩৫)।

এসময় সংঘবদ্ধ প্রতারকরা ওই এলাকার জমজম সিএনজি ফিলিং স্টেশনের বিপরীত পাশে নকল স্বর্ণের বার বিক্রয়ের উদ্দেশে অটোরিকশার নিয়ে অপেক্ষা করছিল বলে জানান র্যা বের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এএসপি মাহমুদুল হাসান মামুন।

তিনি আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটককৃত সংঘবদ্ধ একটি প্রতারকচক্রের সদস্যরা একে অপরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে নকল স্বর্ণের বার তৈরি করে সিএনজি বা অটোরিকশায় যাত্রী বেশে বিভিন্ন কৌশলে নকল স্বর্ণের বার দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে নিরীহ জনগণের সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও তারা সাধারণ যাত্রী/পথচারীদের ফাঁদে ফেলে চেতনানাশক মলম ব্যবহার করে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে থাকে। তাদের আটকের পর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, এঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানায় র্যা ব বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ আলম। এছাড়া আটককৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

জয়নিউজ/তালেব/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...