দস্তগীরের ভারমুক্তে তৃণমূলের মুখ ভার

0

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটির দাবি জানিয়ে আসছিলেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ জাকারিয়া দস্তগীরকে ভারপ্রাপ্ত থেকে সাধারণ সম্পাদকের পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় চরম অসন্তোষ শুরু হয়েছে। যদিও করোনা প্রার্দুভাবের কারণে ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ অংশটি আন্দোলনের কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরে নগর ছাত্রলীগ মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটির জন্য সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল।

এর আগে আগ্রাবাদে একটি শিপিং কোম্পানিতে চাঁদা না পেয়ে ভাংচুরের অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল জাকারিয়া দস্তগীরকে। তাকে কীভাবে আবার নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব  দেওয়া হলো- এই প্রশ্ন এখন তৃণমূল নেতাকর্মীদের।

ছাত্রলীগের সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের অক্টোবরের শেষের দিকে ইমরান আহমেদ ইমুকে সভাপতি ও নুরুল আজিম রনিকে সাধারণ সম্পাদক করে নগর কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন নুরুল আজিম রনি। পরে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় জাকারিয়া দস্তগীরকে।

নগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে গত  রোববার (১৯ জুলাই)  ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরকে ভারমুক্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, বিতর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ছাত্রলীগকে বারবার কলঙ্কিত করা হয়েছে। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাচনের সময় অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে বিজিবির হাতে গ্রেফতার হন রনি। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। সেইসঙ্গে কোচিং সেন্টারে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে মালিককে মারধরের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। যার ফলে রনি সংগঠন থেকে অব্যাহতি নিতে বাধ্য হন। এছাড়া বর্তমান নগর কমিটির ৫৬ জন সদস্যই বিবাহিত। দেড়শ’রও বেশি নেতার বয়স সংগঠনের নিয়মসিদ্ধ নয়। ছাত্রনেতা থেকে অনেকেই ব্যবসায়ী। বেশ কয়েকজন নেতা পড়ালেখা ছেড়েছেন অনেক বছর। তারপরও তারা সংগঠনের পদবি ব্যবহার করেন।

বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের  বিরুদ্ধে  একাধিকবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে জানানো হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য শক্তি বলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি। সারা দেশে দলের বিভিন্ন ইউনিটে শুদ্ধি অভিযান চললেও এ ইউনিট থেকে গেছে আগের মতোই।

নগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদ রাসেল জয়নিউজকে বলেন, এ কমিটির আগে আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে বির্তকিতদের ব্যাপারে অবহিত করেছিলাম। কিন্তু মেধাবী ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে অস্ত্রধারী ও দখলদার সন্ত্রসীদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। যার ফলে সংগঠন তাদের কর্মকাণ্ডে কলঙ্কিত হয়েছে। এর দায় মোচনের জন্য পরিচ্ছন্ন ত্যাগী নেতাদের নিয়ে অবিলম্বে নতুন কমিটি ঘোষণা এখন সময়ের দাবি।

উপবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নাছির উদ্দিন কুতুবী বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটির দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সেটি না করে বিতর্কিত একজনকে নগর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছে। এতে নগর ছাত্রলীগের তৃণমূলে কর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য জয়নিউজকে বলেন, শুধুমাত্র সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য  সাংগঠনিক নিয়ম মেনে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকে ভারমুক্ত করা হয়েছে। জাকারিয়া দস্তগীরকে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক  দায়িত্ব দিয়েছি। তবে যারা নতুন কমিটির জন্য দাবি করছেন তাদের দায়িত্ব হচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটিকে লিখিতভাবে জানানো।

তিনি আরো বলেন, আগস্ট মাস হচ্ছে শোকের মাস। এই মাসে অনেক কর্মসূচি থাকে। তাই এই মাসে কোনো কমিটি দেওয়া হবে না। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে জেলা পর্যায়ে সম্মেলন করে কমিটি করা হবে।

জয়নিউজ/পিডি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...