থেমে নেই বাবরের চাঁদাবাজি, এবার আ.লীগ নেতাকে হত্যার হুমকি

0

দুবাই পালিয়ে যাওয়া চট্টগ্রামের কথিত যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরীর চাঁদাবাজি এখনো থেমে নেই। দুবাই থেকে ফোনে ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের হুমকি, মেরে ফেলার হুমকি ও অনুসারীদেরকে দিয়ে ভয় দেখানোরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।  কিছুদিন আগে গাড়ি ফেরত চাওয়ায় শাহ আলম নামে এক ব্যবসায়ীকেও হত্যার হুমকি দিয়েছিল সে।

এবার চাঁদা না দেওয়ায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও ব্যবসায়ী আইয়ূব আলীকে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে বাবর।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে খুলশী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন আইয়ূব আলী।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, আমি একজন ব্যবসায়ী ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক আড়াইটা ও গত ২৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টা ২২ মিনিটে খুলশী থানাধীন আমার বাসায় অবস্থানকালে +৯৭১৫২৩….. ব্যবহারকারী হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর আমার হোয়াটস অ্যাপ নাম্বারে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে নিজেকে বিবাদী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করার পাশাপাশি তার দলবল নিয়ে আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ক্ষতি সাধনসহ মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে। বর্তমানে আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে যায়, গত বছরের ১৩ অক্টোবর র‌্যাবের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সন্ত্রাসী অসীম রায় বাবু মারা যাওয়ার পর পরই বাবর বিদেশ চলে যান। অসীম রায় বাবু এক সময় বাবরের অনুসারী হিসাবে পরিচিত থাকলেও পরবর্তীতে তাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে বাবর আবার দেশে ফিরে আসেন। তবে গত ২৯ মে রাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আরেক সন্ত্রাসী অমিত মুহুরী মারা গেলে বাবর আবার কৌশলে বিদেশ চলে যান। কিন্তু বন্ধ হয়নি তার চাঁদাবাজি। বিশেষ করে আগে থেকেই নির্ধারিত চাঁদার ভাগ তার সেকেন্ড ইন কমান্ডের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে দুবাইতে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা প্রাণের ভয়ে অভিযোগ না করায় তেমন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যেভাবে উত্থান

এমইএস কলেজভিত্তিক ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর। তিনি এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ছিলেন। প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী বাবর ছাত্রলীগের গ্রুপ-রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে রাউজানের আকবর-মুরাদ হত্যা মামলা, বিএনপিকর্মী আজাদ হত্যা মামলা, মির্জা লেনে ডাবল মার্ডার, সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আশিককে গোলপাহাড় মোড়ে হত্যা, তামাকুমুণ্ডি লেনে রাসেল হত্যা, এমইএস কলেজ থেকে ফরিদ নামের একজনকে ডেকে নিয়ে ২নং গেইটে হত্যা এবং সর্বশেষ রেলওয়ের টেন্ডার নিয়ে সংঘটিত ডাবল মার্ডার মামলা ছাড়াও এক ডজনেরও বেশি মামলা ছিল।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে হেলাল আকবর বাবর ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। ওই সরকার ক্ষমতায় আসার এক বছরের মাথায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ও ক্রসফায়ার এড়াতে বাবর পাড়ি জমান থাইল্যান্ড। সেখানে গড়ে তোলেন হোটেল ব্যবসা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার এক বছর পর আবারও দেশে ফেরেন তিনি। একপর্যায়ে থাইল্যান্ডের ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে দেশে ব্যবসা শুরু করেন। শুরু করেন বেনামে ঠিকাদারি।

সূত্র জানায়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের শত কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেন বাবর। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সিআরবিতে ঘটে সংঘর্ষ। এতে আরমান নামে এক শিশু ও সাজু পালিত নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হন। ওই ঘটনায় নিহত সাজুর মায়ের দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয় বাবরকে। কোতোয়ালি থানা পুলিশ এ মামলায় ঢাকা থেকে বাবরকে গ্রেপ্তার করে। ডাবল মার্ডারের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি হওয়ার পর যুবলীগের সদস্য পদ থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। এর কয়েক মাস পরেই তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হন।

স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে লেনদেন

যুবলীগ নেতা বাবর নিজের নামে কোনো ব্যাংক হিসাব পরিচালনা না করলেও স্ত্রী জেসমিন আক্তারের নামে রয়েছে বেশ কয়েকটি ব্যাংক হিসাব। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- এবি ব্যাংক লিমিটেডের অ্যাকাউন্ট। যার নম্বর- ৪১০১৫৭৯৮২৬৩০০। এছাড়া ডাচ-বাংলা, মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংকেও রয়েছে একাধিক অ্যাকাউন্ট।

বাবরের স্ত্রীর এক বোন চট্টগ্রামে একটি ব্যাংকে কর্মরত আছেন। মূলত তার সহায়তায় লেনদেন হয় বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিশাল সম্পদের মালিক বাবর

প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকলেও শত শত কোটি টাকার মালিক বাবর। নামে-বেনামে রয়েছে তার বাড়ি ও ফ্ল্যাট।

চট্টগ্রামের নন্দনকানন এলাকায় ৪৭, বৌদ্ধ মন্দির রোডে রয়েছে পাঁচতলা বাড়ি। ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ডি ব্লকের ২নং রোডের (বড় মসজিদের পাশে) ২৩/১ নম্বরের বাড়ির চারতলায় রয়েছে ফ্ল্যাট। এছাড়া ঢাকার বনানীতে দুটি সাততলা বাড়িও রয়েছে তার। নন্দনকানন ২নং গলিতে তার স্ত্রীর নামে প্রায় তিন হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং স্টেশন রোডে একটি মদের বারসহ নামে-বেনামে রয়েছে বেশ কয়েকটি গাড়িও।

অভিযোগ রয়েছে দুবাইয়েও সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন বাবর। দেশ থেকে পাঠানো চাঁদা দিয়ে কিনছেন গাড়ি, দোকানসহ আরও অনেককিছু।

জয়নিউজ

 

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...