দক্ষিণ জেলা যুবদলের পথেই কি হাঁটছে উত্তর জেলা ছাত্রদল!

0

চট্টগ্রামের দক্ষিণ জেলা যুবদলের ১১ ইউনিটের কমিটি গঠনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কমিটি গঠনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেসব কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্র।

দক্ষিণ জেলা যুবদলের কমিটির মতো উত্তর জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠনে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এখনো ইউনিট কমিটিগুলোর নাম ঘোষণা করেনি ছাত্রদল। তবে কমিটির চূড়ান্ত তালিকা গঠন করে কেন্দ্রকে জমা দেওয়া হয়েছে।

উত্তর জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিট গঠন নিয়ে শুরু হয়েছে নানা সমালোচনা ও অভিযোগ। ইতোমধ্যে হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, মিরসরাইসহ বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি নিয়ম না মেনে কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উত্তর জেলা ছাত্রদলের ইউনিট কমিটি গঠন করা হয় তবে তাদের পরিণামও দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের মতো হবে।

ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে দলকে শক্তিশালী ও আন্দোলনমুখী করে গড়ে তোলার জন্য দেশব্যাপী বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের কমিটি পুনর্গঠনে তৎপর দলীয় হাইকমান্ড। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম বিভাগের উপজেলা, পৌরসভা এবং কলেজ কমিটিগুলোর আহ্বায়ক কমিটি গঠন করার জন্য পাঁচজনের একটি টিম গঠন করা হয়।

ওই টিম জেলা ও মহানগর সভাপতি/সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শন করে ছাত্রদলের কমিটিতে যারা নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী তাদেরকে ফরমের মাধ্যমে আবেদন করতে নির্দেশ দেন। তাতে ছাত্রদলের কমিটিতে বিবাহিত, অছাত্র, মাদকাসক্ত এবং পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্তি না করার নির্দেশনাও দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। সেখানে ২০০৫ সালের পর থেকে এসএসসি পাশ ও বর্তমানে অধ্যায়নরত ছাত্র, মেধাবী ও সাংগঠনিক গুণাবলী সম্পন্ন কর্মীদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব বাছাই করতে বলা হয়। সেই সঙ্গে স্থানীয় সাবেক এমপি, বিএনপির দায়িত্বশীল সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

কিন্তু উত্তর জেলা ছাত্রদলের ইউনিট কমিটিগুলো গঠনকালে কোনো নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কোনো আলাপ- আলোচনা বা পরামর্শ না করে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অনেকে।

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিগত আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখে মামলা, হামলা, গ্রেপ্তারের শিকার হওয়া মেধাবী ও দক্ষ সংগঠকদের বাদ দিয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল আবছার জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম জনি নিজেদের পছন্দের লোক দিয়ে কমিটির তালিকা তৈরি করে টিম নেতাদেরকে ম্যানেজ করে কমিটি চূড়ান্ত করেছেন।

কমিটি গঠনে অনিয়ম প্রসঙ্গে ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবরে হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোলায়মান মঞ্জুসহ সাবেক ও বর্তমান বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকারী ১৫ নেতা অভিযোগ করেন।

নেতাদের স্বাক্ষরিত অভিযোগে বলা হয়, ছাত্রদলের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল। চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আওতাধীন হাটহাজারী উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রদল কমিটিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মীর হেলালের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও গায়েবী নিদের্শনার মাধ্যমে এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম জনির যোগসাজশে ছাত্রদল কমিটির চূড়ান্ত তালিকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দপ্তরে জমা করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ তালিকা অনুযায়ী কমিটি হলে দলের মধ্যে কোন্দল ও হতাশার সৃষ্টি হবে। প্রকৃত কর্মীরা দল বিমূখ হয়ে পড়বে। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যারা নেতৃত্ব দিয়ে মামলা আর হামলার শিকার হয়ে বারবার জেলে বন্দী হয়েছিল তাদের অবমূল্যায়ণ করে সরাসরি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে একইধরনের অভিযোগ করেছে মিরসরাই উপজেলা, পৌরসভা, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির নেতারা।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মহসিন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাত, জেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক মুরাদ চৌধুরী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব ছাফা, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুর শুক্কুর, যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিব, পারভেজ মোশারফ, ছাত্রদল নেতা আব্দুল হালিম, আবু সাঈদ, শোয়াইব কাদের মহসিন ও ইসমাঈল।

এছাড়া মিরসরাই উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দায়েরকৃত অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলমগীর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী নিজাম উদ্দিন ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী।

লিখিত অভিযোগসমূহে বিএনপি নেতাদের অন্ধকারে রেখে কোনো কোনো মহলকে খুশি করার লক্ষে চুপিচুপি কমিটি গঠনের এ প্রক্রিয়া উত্তরের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে দাবি করা হয়। অর্থনৈতিক লেন-দেন, নিজেদের বলয়ের লোকজনকে স্থান করে দেওয়ার অলিখিত চুক্তির মাধ্যমে কমিটি গঠন হলে তা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের কমিটির মতো পরিণতি হবে বলেও নেতারা আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।

এবিষয়ে উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

জয়নিউজ/
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...