নোয়াখালীর প্রভাবে দোর্দণ্ড দীপ্তি, লেনদেনে পকেট কমিটি!

দক্ষিণ যুবদল ইউনিট

0

আর্থিক লেনদেনসহ নানা অভিযোগে স্থগিত করা হয়েছে দক্ষিণ জেলা যুবদলের ১১ ইউনিটের কমিটি। কিন্তু ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিটিগুলো স্থগিত করাই সন্দেহের তীর এখন দায়িত্বপ্রাপ্ত চার নেতার বিরুদ্ধে।

তবে নোয়াখালীর প্রভাব খাটিয়ে যুবদলের বিভাগীয় সহসভাপতি ও নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তিই মূলত কমিটিগুলো করেছেন বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীপ্তির বাড়ি নোয়াখালী হওয়ায় বিএনপিতে বাড়তি সুবিধা পান তিনি। ফলে এক নেতার এক পদ পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি ভাগিয়ে নিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দুইট পদ।

এ তালিকায় শুধু দীপ্তিই নয়, নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো.শাহেদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দুইটি পদ। নগরের পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক তিনি। শাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে দক্ষিণ জেলা যুবদলের ইউনিট কমিটি গঠনে নয়ছয় করার।

এছাড়া ঘোষিত কমিটিগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মী ও সাবেক ছাত্রদল নেতাদের অবমূল্যায়ন করার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ইউনিট কমিটিগুলো করার সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি।

সূত্র জানায়, দক্ষিণ জেলা যুবদলের কমিটি গঠনের দায়িত্ব পান চার নেতা। তারা হলেন, বিভাগীয় সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, যুগ্মসম্পাদক ও নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি মো. শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর। তারা গত ৭ সেপ্টেম্বর যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর উপস্থিতিতে যুবদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় টিমের পর্যালোচনা শেষে কমিটিগুলো ঘোষণা করেন। কিন্তু কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেনসহ নানা অভিযোগ উঠার পর তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্থগিত করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা ছাড়াই কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের বাদ দিয়ে সেখানে গণ্ডামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীর অনুসারীদেরকে দিয়ে করা হয়েছে বাঁশখালীর কমিটি। এ কমিটিকে যুগ্মআহ্বায়ক করা হয় নগরের চকবাজার থানার সহসভাপতি এমদাদুল হক মাসুদকে। যিনি আবার দক্ষিণ জেলার রাজনীতির সঙ্গে কোনো সময়ে জড়িত ছিলেন না। একইভাবে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের অনুসারীদের বাদ দিয়ে করা হয়েছে বোয়ালখালীর কমিটি। সাতকানিয়ার পৌরসভার কমিটির সদস্য সচিব মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া চন্দনাইশ পৌরসভা কমিটিতে এলডিপি গণতান্ত্রিক ছাত্রদলের সভাপতিকে করা হয়েছে যুবদলের আহ্বায়ক।

অন্যদিকে লোহাগড়া উপজেলা কমিটি জেলা বিএনপির সদস্য লায়ন নাজমুল মোস্তাফা আমিনের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়ে তার অনুসারীদের স্থান দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে আলোচনা না করেই ইচ্ছেমতো আর্থিক লেনদেনে এ কমিটি হয়েছে বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম নামের সাবেক এক যুবদল নেতা।

এছাড়া যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহানকে তার নিজ উপজেলা আনোয়ারায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। শাহজাহানকে বিকাশ শাহজাহান উপাধি দিয়ে আনোয়ারা উপজেলা কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব রয়েছে লায়ন হেলাল উদ্দিন ও মোস্তাফিজুর রহমানের অনুসারীরা।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র এক নেতা জানান, সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক আজগর আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এসব কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। ১৫ লাখ টাকা নিয়ে লোহাগড়ায় জেলা বিএনপির সদস্য নাজমুল মোস্তাফা আমিনের অনুসারীদের রাখা হয়েছে। চন্দনাইশ পৌরসভায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে এলডিপি নেতা রায়হানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে, আনোয়ারা উপজেলা কমিটি করার জন্য সাবেক সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজামের কাছ থেকে টাকাও নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সভাপতি মো. শাহাজাহন জয়নিউজকে বলেন, পকেট কমিটি করতে না পারায় অনেকের সমস্যা হয়েছে। তারাই হাইকমান্ডকে বিভিন্ন অভিযোগ দিয়েছে। এখানে কোনো আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম হয়নি। কেন্দ্র অভিযোগগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবে। আপাতত কমিটিগুলোর কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

মোশাররফ হোসেন দীপ্তি জয়নিউজকে বলেন, কমিটিতে আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো আমার জানা নেই। কারণ আমি কমিটি গঠনের দায়িত্বে ছিলাম না। আমার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ ভালো জানবেন। তার সঙ্গে কথা বলেন।

জয়নিউজ/পিডি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...