মিথ্যা মামলা করায় বাদির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

0

মিথ্যা তথ্য ও ঘটনা সৃষ্টি করে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অপরাধে পতেঙ্গার মাদকব্যবসায়ী নুরুল আবছার নামে এক বাদির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

দুদকের ইতিহাসে বাদির বিরুদ্ধে এটিই প্রথম মামলা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মামলা দায়েরের বিষয়টি জয়নিউজকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট কাজী ছানোয়ার আহমেদ। মামলা নম্বর ১২। তারিখ: ১৪-০৯-২০২০।

অ্যাডভোকেট কাজী ছানোয়ার আহমেদ জয়নিউজকে বলেন, দুদকের ইতিহাসে এ প্রথম বাদির বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করা হলো। দুদক আইন-২০০৪ এর ২৮ (গ) ধারা অনুযায়ী হয়রানি করার কুমানসে মিথ্যা ঘটনার সৃষ্টি ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করায় দুদকের উপ সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম এই মামলা দায়ের করেন।

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ১ জুন ৪০ বোতল বিদেশি মদসহ পতেঙ্গার মাদক ব্যবসায়ী নুরুল আবছারকে গ্রেপ্তার করে পতেঙ্গা পুলিশ। পরে মাদক মামলায় আবছারকে কারাগারে পাঠায় আদালত।

কারাগার থেকে বের হয়ে ২০১৯ সালের ২৫ মার্চ পতেঙ্গা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) ও বর্তমান পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া, পতেঙ্গা থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রণয় প্রকাশ, এসআই আবদুল মোমিন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) তরুণ কান্তি শর্মা, এএসআই কামরুজ্জামান ও এএসআই মিহির কান্তি, পুলিশের সোর্স মো. ইলিয়াছ, মো. জসিম ও মো. নুরুল হুদার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত সেই মামলা তদন্তের জন্য দুদককে নির্দেশ দেয়।

মামলা তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। মূলত নুরুল আবছার একজন তালিকাভুক্ত মাদকব্যবসায়ী। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাদকব্যবসায়ীর তালিকায় তার নাম রয়েছে। বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার করাই পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাদেরকে হয়রানি করার জন্যই মূলত এ মামলা দায়ের করা হয়।

নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, নুরুল আবছারের দায়ের করা স্পেশাল মামলা নম্বর ১৩/২০১৯ এর আরজিতে উল্লেখিত আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ রেকর্ডপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রমাণিত না হওয়ায় তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় দুদক। উক্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন এ বছরের ২৫ মার্চ আদালত গ্রহণ করে। এর প্রেক্ষিতে দুদক প্রধান কার্যালয়ের ৮ সেপ্টেম্বরের চিঠি অনুয়ায়ী মিথ্যা মামলা করায় বাদি পতেঙ্গার মৃত বদিউল আলমের ছেলে নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে দুদক আইনের ২৮ (গ) ধারায় মামলা করার নির্দেশ দেয় দুদক।

খবর নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মওলা নকশবন্দী সাক্ষরিত এক চিঠিতে নুরুল আবছারকে দলটির ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য করা হয়। পরে দলীয় পদবী ব্যবহার করে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠে নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে। মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে। সে চট্টগ্রামের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর একজন।

মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটি থেকে নুরুল আবছারকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জয়নিউজকে বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করার কারণে অনেকে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ভুয়া মামলা দায়ের করেছে। এ মামলার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে মিথ্যা মামলা করলে এর শাস্তি আছে। আশাকরি অপরাধীরা আর ছাড় পাবে না।

জয়নিউজ/বিআর

 

 

 

 

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...