মাদারবাড়ি ট্রাক স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিতে যুবলীগ-যুবদল সিন্ডিকেট!

0

চট্টগ্রামের মাদারবাড়ি। এ এলাকাকে বলা যায় দেশের অন্যতম ট্রাক–কাভার্ডভ্যানের হাট। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম হওয়ায় সারাদেশে বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের মার্কেট নিয়ন্ত্রণ হয় মাদারবাড়ি থেকেই।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা পণ্য দেশের অন্যান্য জেলায় নিয়ে যাবার জন্য সাধারণত আমদানিকারক নিজে অথবা সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবহন মালিক প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হয়। মালিক প্রতিষ্ঠান অর্ডার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় গাড়ি সরবরাহ করতে সক্ষম না হলে বন্দোবস্তকারীর দ্বারস্থ হয়। বন্দোবস্তকারী নির্দিষ্ট অংকের কমিশনের বিনিময়ে গাড়ি ভাড়া করে দেন। এছাড়া পরিবহন ঠিকাদারও গাড়ি ভাড়া করে দেয়।

মাদারবাড়ি এ ট্রাক–কাভার্ডভ্যান ভাড়ার হাট ও রাস্তায় ট্রাক–কাভার্ডভ্যান রাখার কর্তৃত্ব–আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সিন্ডিকেট। দিনে ১০–১২ হাজার গাড়ি ভাড়ায় দেশের ৬৪ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পরিবহন করে।

এ এলাকার পরিবহন ব্যবস্থার পুরো নিয়ন্ত্রণ করে দালালেরা। তাদের হাতে সিএনএফ এজেন্ট ও পরিবহন মালিকেরা জিম্মি। দালালদেরকে এখানে ব্রোকার হিসেবে চিনে সবাই। প্রায় তিন হাজার ব্রোকার রয়েছে এখানে। আবার এসব ব্রোকার বা দালালদের নিয়ন্ত্রণে ৮–১০ জনের চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট রয়েছে। এক একজন চাঁদাবাজের অধীনে রয়েছে ১০ থেকে ১৫ জন মাঠ পর্যায়ের দালাল । সব মিলিয়ে দেড় শতাধিক চাঁদাবাজ দিয়ে এ সিন্ডিকেট জিম্মি করে রেখেছে এ পরিবহন খাতকে।

এ চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট আবার যুবলীগ-যুবদল নামধারী। প্রতিদিন দুপুরের পর এ সিন্ডিকেটের প্রতিনিধিরা প্রত্যেক পরিবহন ব্রোকারের কাছে গিযে ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত টাকা নেয় তারা। দালালদের সবাই মাদারবাড়ির স্থানীয় বলে জানিয়েছেন ব্রোকাররা।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, মাদারবাড়ি এলাকায় প্রায় তিন হাজার পরিবহন ব্রোকার রয়েছে। এসব ব্রোকারদের মাধ্যমে সারাদেশে গাড়ি ভাড়া হয়্। তাদের কাছে শিল্প মালিক ও সিএন্ডএফ এজেন্টরা গাড়ি ভাড়া নিতে বাধ্য। ব্রোকারদের থেকে গাড়ি নিতেই হবে না হয়, তাদেরকে  কমিশন দিতে হয়।

সূত্র জানিয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থার বেশ কয়েকটি টিম ব্রোকার ও চাঁদাবাজদের তালিকা করতে মাঠে নেমেছে। ইতিমধ্যে তারা চাঁদাবাজির বিভিন্ন প্রমাণ এবং কারা কারা এসব কাজে জড়িত তাদের তালিকা করেছেন।

এ হাটের কর্তৃত্ব ও চাঁদাবাজি নিয়ে মাদারবাড়িতে বিভিন্ন সময়ে সংঘাতও হয়েছে। এর জেরে এমন সংঘাতে খুন হন যুবদল নেতা হারুন। এছাড়া প্রায় সময় এক পক্ষ অন্য পক্ষকে মারধর করে হাট থেকে বের করে দেয়। ফলে সব সময় একপক্ষ অন্য পক্ষকে ঘায়েল করেত চেষ্টা করে।

নাম প্রকাশে একাধিক চালক জয়নিউজকে বলেন, মাদারবাড়ি ট্রাক-কাভার্ডভ্যান স্ট্যান্ড ব্রোকার ও চাঁদাবাজদের দখলে। তাদের কাছে আমরা সবাই জিম্মি। ব্রোকার ছাড়া গাড়ি ভাড়া হয় না। আবার সেসব ব্রোকার থেকে নিয়মিত চাঁদা নেয় বিএনপি-আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট। আসলে এখানে সব সময় উত্তেজনা বিরাজ করে। চাঁদাবাজির জন্য মারধর নিয়মিত ঘটনা।

র‌্যাব-৭ এর এক কর্মকর্তা জয়নিউজকে বলেন, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে সেখানে। যারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া ব্রোকারদেরও একটি বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। বিষয়গুলো আমাদের নজরে আছে।

সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা জয়নিউজকে বলেন, পণ্য পরিবহনের জন্য ব্রোকারদের মাধ্যমে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ভাড়া নেওয়ার এই প্রথা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।  তবে তাদের কোনো ‍তালিকা ছিল না আগে। এর ফলে যে কেউ গাড়ি ভাড়া নিয়ে দিতে পারত। এলাকার প্রভাবশালী যার ইচ্ছা সে-ই এসে ব্রোকার সেজে ব্যবসা করত। এর ফলে বিরোধে খুনোখুনি পর্যন্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালে তালিকাভুক্ত ৩১৯ জন ব্রোকারের প্রত্যেককে অঙ্গীকারনামা আকারে তৈরি ফরমে নাম-পিতার নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, ছবি, মোবাইল নম্বর এবং মালিক সমিতির সভাপতির সুপারিশসহ বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়েছিল। পরে পরিচয়পত্রও দেওয়া হয়েছিল।

জয়নিউজ/পিডি

ব্রোকার সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের নিয়ে বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন জয়নিউজের দ্বিতীয় পর্বে।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...