পেকুয়ায় কিশোরী বধূকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী আটক

0

কক্সবাজারের পেকুয়ায় যৌতুকের দাবিতে মোছাম্মৎ সালমা বেগম (১৪) নামে এক কিশোরী বধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় আটক করা হয়েছে কিশোরী বধূর স্বামী আলমগীরকে।

নিহত সালমা পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের পন্ডিতপাড়া গ্রামের বাদশার মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, গত তিন মাস পূর্বে কাবিননামা ছাড়াই পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী গ্রামের জাফর আলমের ছেলে, একাধিক মামলার আসামি বনদস্যু আলমগীরের সঙ্গে বিয়ে হয় সালমা বেগমের। অপ্রাপ্ত বয়সী হলেও সালমার মা-বাবা টাকা ও সম্পত্তির লোভে আলমগীরকে কাবিননামা ছাড়াই তাদের মেয়েকে বিয়ে দেন।

বনদস্যু আলমগীরের প্রতিবেশীরা জানান, বিয়ের পর থেকে আলমগীর ও তার পরিবারের লোকজন প্রায় সময় কারণে-অকারণে কিশোরী সালমাকে মারধর করত। গত ২০ সেপ্টেম্বর যৌতুকের দাবিতে সকালে ও রাতে সালমাকে কয়েক দফা হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে লোহার রড ও কাঠ দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতন চালায় আলমগীর ও তার পরিবারের লোকজন। উপর্যপুরি নির্যাতনে সালমা এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে গোপনে চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান আলমগীর, জাহাঙ্গীর ও তাদের পিতা জাফর আলম। সেখানে সালমার অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠিয়ে দেন চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

চকরিয়া হাসপাতালের জনৈক চিকিৎসক জানান, সালমার শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল তাই চমেকে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে চমেকে ভর্তির তিনদিন পর আজ ২৩ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিশোরী সালমা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। কিশোরী সালমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ চমেক হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যায়।

অপরদিকে চমেক হাসপাতাল এলাকা থেকে ঘাতক স্বামী ও বনদস্যু আলমগীরকে আটক করেছে পাঁচলাইশ থানার পুলিশ। বর্তমানে বনদস্যু আলমগীর পাঁচলাইশ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

বারবাকিয়া ইউনিনের পাহাড়িয়াখালী গ্রামের স্থানীয়রা জানান, গত ৭/৮ বছর ধরে উপজেলার পাহাড়ি দুই ইউনিয়ন টইটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ে ত্রাসের রাজত্ব কয়েম করেছে স্থানীয় ডাকাত জাফর আলমের দুই ছেলে বনদস্যু খ্যাত ডাকাত জাহাঙ্গীর আলম ও আলমগীর। আলমগীর বিভিন্ন এলাকা থেকে কিশোরী মেয়েদের রাতের আঁধারে অপহরণ করে এনে তার আস্তানায় আটকে রেখে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে। কাবিননামা ছাড়াই এ পর্যন্ত প্রায় ৭/৮টি বিয়ে করেছে আলমগীর। সর্বশেষ তার বলি হলো সালমা নামের এক কিশোরী।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই বিকালে পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী গ্রামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আনসার উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশে পরিকল্পিতভাবে হামলাও চালিয়েছিল বনদস্যু ওই দুই সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর আলম ও আলমগীরের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীরা এসয়ম চবির মেধাবী ছাত্র আনসার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে উপর্যপুরি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। বর্তমানে আনসার চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে।

স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ওই দুই বনদস্যু চরমভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কিশোরী সালমার পরিবার এ ঘটনায় পেকুয়া থানায় বনদস্যু আলমগীর ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পেকুয়া থানার ডিউটি অফিসার এসআই নুরুন নবী জয়নিউজকে বলেন, পাঁচলাইশ থানা পুলিশ বনদস্যু আলমগীর আটক করেছে পেকুয়া থানাকে জানিয়েছে। নিহত সালমার পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানাকে অবহিত করার পর আসামিকে পেকুয়া থানায় হস্তান্তর করবে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

জয়নিউজ/গিয়াসউদ্দিন/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...