ভারতের কোন ট্রেন কোথায় যায়, ভাড়া কত?

0

ভারত জুড়ে ছড়িয়ে আছে রেল লাইন। ভারতীয়দের প্রধান যাতায়াত ব্যবস্থা হচ্ছে ট্রেন। এই ট্রেন দিয়েই একশ ২৫ কোটি লোক সারাদেশে বিভিন্ন রাজ্যে যাতায়াত করে। আর তাই ট্রেনের টিকিটের চাহিদাও বিপুল। বাংলাদেশের অনেকেই আছেন যারা এই সেবা ইতিমধ্যে পেয়েছেন। ভ্রমণ প্রত্যাশীদের জন্য ভারতের কোন ট্রেন কখন ছাড়ে, কখন পৌঁছায়, ভাড়া কত ইত্যাদি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

ভারতীয় রেল বিশ্বের বৃহত্তম ও ব্যস্ততম রেল পরিবহন ব্যবস্থাগুলির অন্যতম। প্রতিদিন ১ কোটি ৮০ লক্ষেরও বেশি যাত্রী এবং ২০ লক্ষ টনেরও বেশি পণ্য ভারতীয় রেলপথে চলাচল করে। ভারতে রেল ব্যবস্থা চালু হয় ১৮৫৩ সালে। পঁচিশটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে (পূর্বনাম পন্ডিচেরি) প্রায় ৯০০০টি যাত্রীবাহী ট্রেন এক কোটি আশি লক্ষ যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ ও মেঘালয় রাজ্যে কেবল কোনো রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই।

ট্রেনের গন্তব্য: কলকাতার হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশন থেকে প্রতিদিন ৬০০ এর উপর ট্রেন যাওয়া আসা করে বিভিন্ন রাজ্যের দিকে। যেমন:

হাওড়া টু চেন্নাই
হাওড়া টু ব্যাঙ্গালুরু
হাওড়া টু দিল্লি
হাওড়া টু মুম্বাই
হাওড়া টু নিউ জলপাইগুড়ি (দার্জিলিং)
হাওড়া টু গোয়া
হাওড়া টু আগ্রার তাজমহল
হাওড়া টু শীমলা/মানালি
হাওড়া টু আজমির শরিফ (রাজস্থান)

আরো অনেক স্থানে যাওয়া আসা করে। মুলত ইন্ডিয়ানরা এক যায়গা থেকে আর এক যায়গা যেতে ট্রেন ব্যবহার করে থাকে। কারণ ট্রেনের যাতায়াত ব্যবস্থা খুব ভালো এবং ভাড়া ও তুলনামূলক কম।

একটা ট্রেনের সিট চার ধরণের:
AC ( 1A ) মানে 1 tier
AC ( 2A ) 2 tier
AC (3A ) 3 tier
Sleeper

দুরপাল্লা যাওয়ার জন্য একটা ট্রেনের অনেক গুলি বড় বগি থাকে যেমন ২০/২২ টা বগি বা আরো বেশি। আর প্রতিটি ট্রেনের কিছু এসি বগি থাকে যেখানে ৮ টা করে রুম থাকে। প্রতি রুমে ৮ করে সিট থাকে যদি সিটের ধরণ 3A হয়ে থাকে। 3A তে তিনটি বগি যেমন বগি B1, B2, B3 আর প্রতিটি সিটে আপনি বসে, শুয়ে আরাম করে যেতে পারবেন যেহেতু লং জার্নি তাই ট্রেনের সিটের ব্যবস্থাও খুব সুন্দর। প্রতিটি সিটের সাথে বালিশ, চাদর থাকে যাতে ঘুমানোর সময় ইউজ করতে পারেন। এখানে উপর নিচ করে ৩ টা করে মোট ৬ টা সিট এবং পাশে উপর নিচ করে ২ টা মোট ৮ টি সিট থাকে। আর চলাচলের জন্য ২ ফুটের মত ফাকা জায়গা থাকে। মানে ওই রুমে ওই ৮ জনের বেশি যেতে পারবে না। প্রতিজনের আলাদা আলাদা সিট। এসি সিটের ভাড়া বেশি হয়ে থাকে। আর যদি সিটের ধরণ 2A হয় তাহলে প্রতি রুমে ৪ টা করে সিট থাকে আর এক রুম থেকে আর এক রুম দেখা যায় না কারণ পরদা দিয়ে ঢাকা থাকে। সিট থাকে উপর ও নিচ সিস্টেমে অর্থাৎ উপরে পাশাপাশি দুইটা এবং নিচে পাশাপাশি দুইটা মাঝখানে ২ ফুটের মতো ফাকা থাকে নিজেদের চলাচলের জন্য। আর সিটের ধরণ 1A হচ্ছে একদম প্রথম শ্রেণী। চরম ভি আই পি সিস্টেম। একবার গেলেই বুঝবেন, ট্রেনে ও এতো ভি আই পি থাকতে পারে। মোবাইল বা ল্যাপ্টপে চারজ ও দিতে পারবেন প্রতি রুমে সেই ব্যবস্থা করা থাকে তবে থ্রি প্লাগ নিয়ে গেলে আপনার জন্য বেটার নট মাল্টিপ্লাগ। আর নন এসি যে বগি গুলো সেগুলোকে স্লিপার( Sleeper) বলা হয়ে থাকে মানে S1, S2, S3, S4 বগি নামে পরিচিত। এই বগির যে সিট তাতে ও আপনি শুয়ে, বসে, আরামে যেতে পারবেন কিন্তু এসি নেই। আর আপনার ব্যাগ বা লাগেজ আপনার ওই রুমের সিটের নিচে রাখবেন। কোন সমস্যা তেমন হয়না, তারপর ও সাবধান রাখবেন। স্লিপারের সিটের ভাড়া কম।

টিকিটের দাম: এক এক রুটের ভাড়া এক এক রকম এখানে আমরা হাওড়া টু চেন্নাই যাওয়ার ভাড়া নিয়ে বিস্তারিত লিখছি ( ১৮/০২/২০১৭ ইং তারিখ পর্যন্ত )। সাধারনত এই ভাড়াই ফিক্সড থাকে ২ বছর অন্তর অন্তর সামান্য ভাড়া বাড়ে তবে এই ভাড়া ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকবে নিশ্চিত।

১। AC (1A) ৪৩৫০ রুপির মত প্রতি টিকিট তবে সেটা General প্রাইস ক্যাটাগরিতে মানে আপনি এক সপ্তাহ বা ১০ দিন পরে যাবেন কিন্তু আজ টিকিট কেটে রাখতে চাচ্ছেন সেক্ষেত্রে এই প্রাইস। আর একটা ক্যাটাগরি আছে সেটা হলো তৎকাল ক্যাটাগরি। এই ক্যাটাগরিতে টিকিট ম্যাক্সিমাম সময় পাওয়া ইজি। তৎকাল ক্যাটাগরি মানে হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেতে চান সেক্ষেত্রে একদিন আগেই কাটা সম্ভব তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যেতে হবে। তৎকাল ক্যাটাগরিতে টিকিটের দাম একটু বেশি হয়ে থাকে। ৩০০/ ৪০০ রুপি এক্সট্রা আ্যড হবে যেহেতু ইমারজেন্সি।
২। AC (2A) ২৫৪০ রুপি করে প্রতি টিকিট।
৩। AC (3A) ১৭৪৫ রুপি করে
৪। AC (Slepper) ৬৬৫ রুপি করে। কিন্তু তৎকাল -এ কাটলে একটু বেশি নিবে। তবে বাংলাদেশ থেকে যারা ইন্ডিয়া যায় তারা ততকালেই বেশি টিকিট পেয়ে থাকে। এটা হচ্ছে ইমারজেন্সি সিস্টেম।

কিছু ট্রেনের তথ্য:
আপনি যেহেতু নতুন তাই কিছুই জানার তেমন কথা না। টিকিট হলেই হলো সে আপনি স্লিপারে বা এসি যাতে যেতে চান। তারপর ও জেনে রাখা ভালো:

১। গন্তব্য হাওড়া-চেন্নাই:
ট্রেনের নাম: কলকাতা চেন্নাই মেইল
ছাড়ার সময়: রাত ১১:৪৫ মিনিট বাজার সাথে সাথে ইঞ্জিন চালু হবে আর সাথে সাথে ট্রেন ও চালু হয়ে যাবে। নো লেট যদিনা প্রাকৃতিক সমস্যা না হয়ে থাকে। পৌছাবে: ২৮ ঘণ্টা ৫ মিনিটে। (রাত ৩:৫০ মিনিটে )

ভাড়ার তালিকা:
এসি (1A) = ৪৩৬৫ রুপি
এসি ( 2A)= ২৫৪০ রুপি (Tatkal = 3065 rupee)
এসি (3A) = ১৭৪৫ রুপি (Tatkal price = 2105 rupee)
স্লিপার = ৬৬৫ রুপি (Tatkal price = 845 rupee)

ট্রেনের নাম: করমণ্ডল এক্সেপ্রস
ছাড়ার টাইম: দুপুর ২:৩০ মিনিটে
পৌছাবে = ২৬ ঘণ্টা ৫ মিনিটে

২। গন্তব্য হাওড়া-শিমলা
ট্রেনের নাম: কলকা মেল
ছাড়ার সময়: রাত 7: 40 মিনিট।
পৌছাবে: 32 ঘণ্টা ৫0 মিনিটে। ( রাত 4:30 মিনিটে )

ভাড়ার তালিকা:
এসি (1A) = 4500 রুপি
এসি ( 2A)= ২615 রুপি (Tatkal = 3010 rupee)
এসি (3A) = 1795 রুপি (Tatkal price = 2210 rupee)
স্লিপার = 680 রুপি (Tatkal price = 870 rupee)

৩। গন্তব্য শিয়াদহ-দিল্লি
ট্রেনের নাম: শিয়ালদাহ রাজধানি এক্সপ্রেস
ছাড়ার সময়: বিকেল ৪:৫০ মিনিট
পৌছাবে: ১৭ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটে। ( সকাল ১০:২৫মিনিটে )

ভাড়ার তালিকা:
এসি (1A) = ৪৮৭৫ রুপি
এসি ( 2A)= ৪১৮৫ রুপি (Tatkal = ৪৩৫০ rupee)
এসি (3A) = ২৮০৫ রুপি (Tatkal = ২৯৮০ rupee)
স্লিপার = ৭৩০ রুপি (Tatkal = ৯৩০ rupee)

৪। গন্তব্য হাওড়া-আগ্রা ফোর্ট ( তাজমহল )
ট্রেনের নাম: Sealdah Ajmer express
ছাড়ার সময়: রাত ১১:০৫ মিনিটে
পৌঁছাবে: সন্ধ্যা ৬:৩৫ মিনিটে

ভাড়ার তালিকা:
এসি (1A) = ৪১৫০ রুপি
এসি ( 2A)= ২১৪০ রুপি (Tatkal = ২৫৫০ rupee)
এসি (3A) = ১৪৮০ রুপি (Tatkal = ১৯০০ rupee)
স্লিপার = ৫৬৫ রুপি (Tatkal = ৭১৫ rupee)

৫। গন্তব্য হাওড়া-ভেলোর (কাটপাডি)
ট্রেনের নাম: কলকাতা মাহীসূর এক্সপ্রেস
ছাড়ার সময়:বিকেল ৪:১০ মিনিটে
পৌঁছাবে: রাত ১:৫৫ মিনিটে
মোট সময় লাগবে: ২৮ ঘণ্টা
নামতে হবে: Katpadi ( কাটপাডি স্টেশন ) তারপর একটা অটো নিয়ে Vellore CMC Hospital, সময় লাগবে ৩৫/৪৫ মিনিটস।

ভাড়ার তালিকা:
এসি (1A) = ৪৩৫০ রুপি
এসি ( 2A)= ২৫৯০ রুপি (Tatkal = ২৯৮৫ rupee)
এসি (3A) = ১৭৭৫ রুপি (Tatkal = ২১৩৫ rupee)
স্লিপার = ৬৭৫ রুপি (Tatkal = ৮৬৫ rupee)

৬। গন্তব্য শিয়ালদহ-জলপাইগুড়ি
ট্রেনের নাম: শতাব্দী এক্সপ্রেস
ছাড়ার সময়: দুপুর ২:১০ মিনিটে
পৌছাবে: রাত ১০:২৫ মিনিটে
সময় লাগবে: ৮ ঘণ্টা ১৫ মিনিট

ভাড়ার তালিকা:
এসি (1A) = ২১৩৫ রুপি
CC = ১৫৪৫ রুপি
ট্রেনের নাম: কাঞ্চনকন্যা
ছাড়ার সময়: রাত ৮ টা ১০ মিনিটে
পৌঁছাবে: সকাল ৭:৩৫ মিনিটে
সময় লাগবে: ১১ ঘণ্টার মত

ভাড়ার তালিকা:
এসি (2A) = ১৪৫০ রুপি
এসি (3A) = ৯৮০ রুপি
স্লিপার = ৪৫০ রুপি

৭। গন্তব্য ঢাকা-কলকাতা
ট্রেনের নাম: Maitree express
ছাড়ার সময়: সকাল ৮:১০ মিনিটে
পৌঁছাবে: সন্ধ্যা ৭:১০ মিনিটে
সময় লাগবে = ১১ ঘণ্টার মতো
কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ছাড়বে সঠিক সময়ে।

ভাড়ার তালিকা:
চেয়ার = ৬৬০ টাকা
এসি চেয়ার = ১১৩৩ টাকা

৮। গন্তব্য হাওড়া-ব্যাঙ্গালুরু
ট্রেনের নাম: Kolkata Bangalore AC express
ছাড়ার সময়: সকাল ১০:৫৫ মিনিটে
পৌঁছাবে: বিকেল ৪ টায়
সময় লাগবে: ২৯ ঘণ্টা ৫ মিনিট

ভাড়ার তালিকা:
এসি 1A: ৪৮৯৫ রুপি
এসি 2A: ২৮৪০ রুপি
এসি 3A : ১৯৪৫ রুপি ( Tatkal: ২৩৬০ রুপি )

উপরের দূরপাল্লার ট্রেনের সিটের ধরণ যেমন হাওড়া টু দিল্লি, হাওড়া টু চেন্নাই ইত্যাদি। দূর পাল্লার ট্রেনগুলো সাধারণত সন্ধ্যায় ও রাতে ছেড়ে যায়। কিছু ট্রেন দুপুরে ছাড়ে তবে তার পরিমান খুবই কম।

 

 

সরাসরি আপনার ডিভাইসে নিউজ আপডেট পান, এখনই সাবস্ক্রাইব করুন।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...