একমাত্র সরকারি বিদ্যালয়ে জোড়াতালি দিয়ে পাঠদান

জুরাছড়ি

0

রাঙামাটি জুরাছড়ি উপজেলার ভুবনজয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকট লেগেই রয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ে নতুন দুইজন শিক্ষক দেওয়া হলেও তার মধ্যে একজনকে কর্মস্থলে যোগদানের আগেই অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। অন্যজন এখনো যোগদান করেননি। ফলে জোড়াতালি দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ রয়েছে ১১টি। কিন্তু কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে শিক্ষক না থাকায় কোনো শিক্ষার্থীও নেই। নিয়মিত শিক্ষকদের মধ্যে একজন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁকে প্রায় সময় দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। অবশিষ্ট দুইজন শিক্ষক পাঠদান করান ৬৬৬ জন শিক্ষার্থীকে। আর অবকাঠামো সংকটে প্রতিটি ক্লাসে ১৫০ জন শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে বসে।

বিদ্যালয়ে রয়েছে দুইটি ভবন। আর আছে একটি টিন শেড পরিত্যক্ত ভবন। ১নং ভবনে ৬টি কক্ষ রয়েছে। নিচতলায় একটিতে প্রধান শিক্ষক, একিিটতে সহকারী শিক্ষকদের অফিসকক্ষ। একই ভবনে নিচতলায় শেখ রাসেল কম্পিউটার ল্যাব এবং উপরের তলায় ২টি ক্লাস রুম ও ১টি কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। অন্য ভবনটিতে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য হল এবং পরিত্যক্ত টিন শেড ঘরে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নেওয়া হয়।

সরকারি অনুমোদনে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ এখানে ১১ জন শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু সহকারী শিক্ষকের ৮টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। একজন অফিস সহকারী, একজন দপ্তরী, একজন নৈশ প্রহরী ও একটি এমএলএসএস পদ থাকলেও দীর্ঘদিন স্থানীয় জনৈক রবি চন্দ্র চাকমাকে দিয়ে সব কাজ করানো হচ্ছে।

শিক্ষক না থাকায় ইচ্ছা থাকলেও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে পারে না। দীর্ঘ ৮ বছর জীব বিজ্ঞান, গণিত, উচ্চতর গণিত, বাণিজ্য, রসায়ন, পদার্থসহ বেশ কয়েকটি বিষয় শিক্ষক ছাড়াই চলে আসছে। সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী পূর্ণি ও বৈশাখী চাকমা জানান, তাদের শ্রেণিতে সব বিষয় একজন শিক্ষকই পড়ান। অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী উমেন্টেই রাখাইন ও সুদিপ্তা চাকমা জানান, পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় ক্লাসে গাদাগাদি করে বসতে হয়।

দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শান্তিময় চাকমা বলেন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাবে এক বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে অন্য বিষয়ের পাঠদান করা হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার আবেদন করা হয়েছে।

শিক্ষকরা জানান, তাঁদের প্রতিদিন সাত থেকে আটটি ক্লাস নিতে হয়। এ অবস্থায় কিছুতেই ভালোভাবে পাঠদান করা সম্ভব নয়।

কয়েকজন অভিভাবক জানালেন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় পড়াশোনার মান উন্নয়ন হচ্ছে না। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে গত এসএসসি পরীক্ষায় খারাপ ফল হয়েছে। সামনের পরীক্ষায়ও একই অবস্থা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তারা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ স্বীকার করেছেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা ও চিঠি পাঠানো হয়েছে। দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসন করা না গেলে আগামী জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিটন চাকমা বলেন, উপজেলার দুর্গম এলাকা থেকে এসে ছাত্রছাত্রীরা এ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। উপজেলার একমাত্র সরকারি বিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখানে শিক্ষক সংকট লেগেই আছে। ফলে মানসম্মত শিক্ষা থেকে ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চিত হচ্ছে।

জয়নিউজ/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...