অতিবৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

0

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে লক্ষ্মীপুরে জলাবদ্ধতা দেখা গিয়েছে। এতে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে জেলার বাসিন্দরা। অতিবৃষ্টিতে ভেসে গেছে মাছের খামার ও ফসলি ক্ষেত। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে শীতকালীন শাক-সবজির বীজতলার। এতে আবারও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে মৎস্য খামারী ও কৃষকরা।

এদিকে বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে ক্রটি দেখা দেওয়ায় অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎহীন ছিল পৌর এলাকাসহ পুরো জেলায়। কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে গত বৃহস্পতিবার ভোর রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর রাত পর্যন্ত জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি উঠে গেছে। ডুবে গেছে রাস্তা-ঘাট এবং মাঠ।

এছাড়া আমন ধানের জমিতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে আমন ধানের ক্ষেত ডুবে গেছে। এতে ধান গাছে পচন ধরার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এছাড়া পুকুরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ ভেসে গেছে।

পৌর এলাকার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষিকা নুর নাহার জানান, অতি বৃষ্টিতে পানি নামতে না পারায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাস্তা-ঘাট পানির নীচে তলিয়ে যায়। বিভিন্নস্থানে ড্রেনেজ সমস্যার কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। আর দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বাসিন্দাদের।

এদিকে সদর উপজেলার চর আলী হাসান গ্রামের কৃষক নুরুল আলম জানান, অতিবৃষ্টিতে তার উঠানে পানি উঠেছে। বৃষ্টিতে বিস্তৃর্ণ আমনের মাঠে অতিরিক্ত পানি জমে আছে। এতে কাঙ্খিত ফলন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

একই এলাকার মৎস্য খামারী মনির হোসেন জানান, কয়েকদিনের আগের মতো এবারও তার মাছের খামার ও পুকুরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ বের হয়ে গেছে।

মৎস্য খামারী কৃষক মিয়া জানান, কয়েকদিন আগেও মেঘনার অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে মাছের খামার ভেসে যায়। এতে দুই দফা আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন তিনি।

সদর উপজেলা পিয়ারাপুর গ্রামের সবজি চাষী আবদুর রহমান জানান, অতিবৃষ্টিতে তার লাউয়ের ক্ষেতে পানি জমে গেছে। ফলে লাউ গাছগুলো কেটে শাক হিসেবে বাজারে বিক্রি করে দেন তিনি। এছাড়া শীতকালীন বিভিন্ন প্রজাতির সবজিসহ লাল শাক, ফুল কপি ও মুলার বীজ তলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকার মজুপুর গ্রামের মৎস্য চাষী সাইফুল ইসলাম জানান, দু’দিনের টানা বৃষ্টির পানি বেড়ে তার পুকুরের মাছ বের হয়ে গেছে। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে শনিবার দিনব্যাপী বৃষ্টিপাত না হলেও আকাশ ছিল মেঘাছন্ন। কোথাও আবার হালকা এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে দেখা গেছে।

জয়নিউজ/মনির/এসআই

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...