প্রতিদিন শত টন মাছ বিক্রির ঘাট

0

ব্যস্ততা আর ব্যস্ততা, কথা বলার ফুরসত নেই। কাকডাকা ভোরে শুরু এ ব্যস্ততা। দূরদূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন ক্রেতারা। আর ফিরেন মাছ কিনে।

কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে ওঠা চট্টগ্রামের নতুন ডিজিটাল ফিশারিঘাটের চিত্র এটি। দেশের সবচেয়ে বড় মাছের পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত নতুন ডিজিটাল ফিশারিঘাট। যেখানে প্রতিদিন কেনাবেচা হয় একশ’ টনেরও বেশি- মাছ।

দাম যা-ই হোক, পছন্দের মাছটি কেনার জন্য দাম কষাকষি করেন না অনেক ক্রেতা। যেন পছন্দের মাছটি বাড়ি নিয়ে যেতে পারলে তারা খুশি। বাজারে আসা পান্না রানী দাশ জয়নিউজকে জানালেন, এখানে সব ধরনের মাছ পাওয়া যায়। টাটকা মাছের জন্য মূলত এখানে আসা। আর বাজারের পরিবেশটাও ভালো।

জানা যায়, এই বাজারে প্রথম আড়ত বসায় পর্তুগিজরা। আগে এটি পাথরঘাটার পুরাতন ফিশারিঘাট নামে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে এটি পরিচিত চাক্তাইয়ের নতুন ডিজিটাল ফিশারিঘাট নামে। ১০৩টি আড়ত নিয়ে নতুন এ ফিশারিঘাট। নতুন এই ঘাটের বয়স দুই বছর।

বাজারের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সোনালী যান্ত্রিক মৎস্যশিল্প সমবায় সমিতির তত্ত্বাবধানে ২২ জন স্বেচ্ছাসেবী এখানে কাজ করে। প্রতিদিন ভোর ৪টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বাজারে বিকিকিনি চলে। তবে ইলিশ মাছ কেনাবেচা হয় বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

বাজারজুড়ে পাইকারি ক্রেতাদের আনাগোনা। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোর থেকেই বাজারে ছুটে আসেন্ শুধু পাইকারি ক্রেতা নন, দূর-দূরান্ত থেকে আসেন খুচরা ক্রেতারাও।

ভারত, মিয়ানমার, চীন, ওমানসহ মধ্য এশিয়ার দেশগুলো থেকে প্রতিদিন মাছ আসে এখানে। তবে মিয়ানমার আর ওমান থেকে বেশি মাছ আসে। মিয়ানমার থেকে কাটা মাছ, চাপাপুরি, পোয়া, লাল মাছ ও কই মাছ আসে সবচেয়ে বেশি। ভারত থেকে আসে রুই, চীন থেকে আসে রূপচাঁদা। পাওয়া যায় লাক্ষা, ইলিশ, কোরাল, দাতিনা কোরাল, রেড স্নাপার, ভেটকি, সুরমা, ক্যাট ফিশ, স্কুইড, ম্যাকারে, শ্রিম্প, টুনা, স্যামন, ম্যাকরেল, সারডিন, লবস্টার, টুনা কড, ছুরি, পোপা, ফাইস্যা, লইট্যা, চাপা, চাপিলা, রিকসাসহ হরেক রকমের মাছ।

বিক্রেতা আব্দুর রশিদ জয়নিউজকে বলেন, এখানে পাইকারি বিক্রির সঙ্গে চলে খুচরা বিক্রিও। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় যায় আমাদের মাছের চালান। দেশের প্রায় সব জেলা থেকে আমাদের এখানে মাছ আসে। আবার এখান থেকে দেশের সব অঞ্চলে মাছ কিনে নিয়ে যান বিক্রেতারা। ক্রেতাদের কাছে চাহিদা রয়েছে এখানকার লইট্টা ও ইলিশ মাছের।

এদিকে ফিশারিঘাটে যে শুধু সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়, তা নয়। পাওয়া যায় মিঠা পানির মাছও। বিভিন্ন জেলা-উপজেলার পুকুর বা খামার থেকে সংগ্রহ করা রুই, কাতাল, বোয়াল, কই, মাগুর মাছও নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। জোয়ার আসার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটে ভিড়তে শুরু করে মাছবোঝাই ট্রলার। বিভিন্ন জেলা থেকে  ট্রাকযোগে মাছ এনে আড়তের সামনে রাখা হয়। সেখান থেকে বিক্রেতারা মাছ সরবরাহ করেন পাইকারদের।

ফিশারিঘাটে প্রতিদিন একশ’ টনেরও বেশি মাছ বিক্রি হয় উল্লেখ করে সোনালী যান্ত্রিক মৎস্যশিল্প সমবায় সমিতির সভাপতি আমিনুল হক বাবুল সর্দার জয়নিউজকে বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি ও জমজমাট বাজার এটি। বন্দর কর্তৃপক্ষ ১৫ বছরের জন্য চুক্তিস্বরূপ ভাড়া দেয় বাজারটি। এখানে তিন লাখ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এ বাজারে মাছ লোডিং-আনলোডিং সহজভাবে এবং অল্প সময়ের মধ্যে করা হয়। পূর্বের বাজারে জায়গা সংকট হওয়ায় ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্তে বড় করা হয় বাজারটি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় এখানে সারাদেশ থেকে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে আসেন। এখানে কেনাবেচা ভালো হয়। সুন্দর পরিবেশ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ায় পাইকারি ক্রেতাদের পাশাপাশি খুচরা ক্রেতাদের আনাগোনা বেশ এখানে।

জয়নিউজ/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...