টাকা দিয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করছে কেডিএস

0

মুনির হোসেন খাঁন, কেডিএস গ্রুপের মালিকানাধীন কেওয়াই স্টিল মিলের নির্বাহী পরিচালক। এক বছর আগে তিনি চাকরি নেন অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে। এর পর থেকেই শুরু হয়রানি।  একে একে ২৬টি মামলা দায়ের করা হলো মুনিরের বিরুদ্ধে। এক সময়ের কেডিএসের এ কর্মকর্তার এখন দিন কাটছে কারাগারে।

শুধু মুনির হোসেন খাঁনই নয়, কেডিএস গ্রুপের এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে তার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন খাঁন ও ছোট ভাইকেও। অথচ কেডিএস এর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্কই নেই!

বুধবার (২৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কেডিএস গ্রুপের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করেন মুনিরের বাবা চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেন খাঁন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন লিখিত বক্তব্যে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ২০০৭ সালে মুনির হোসেন তার স্কুলবন্ধু কেডিএস গ্রুপের কেওয়াই স্টিলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমানের অনুরোধে দেশে এসে কেওয়াই স্টিল মিলের নির্বাহী পরিচালক হিসাবে যোগদান করে। অল্প সময়ে কোম্পানির উন্নতিতে ভূমিকা রাখায় মুনিরকে নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে পেইড ডিরেক্টরও করা হয়। তার রক্ত-ঘাম-মেধায় এই প্রতিষ্ঠান দেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় টিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে (মুরগি মার্কা ঢেউটিন) পরিণত হয়।

তিনি আরো বলেন, ২০০৭ সালে মুনির কেডিএস গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠানটিতে যখন যোগ দেন তখন এর মূলধন ছিল ৩০০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে তা দাঁড়ায় দেড় হাজার কোটি টাকায়।’

জানা যায়, ভারতীয় নাগরিককে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজায় থাকা কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের দ্বিতীয় ছেলে ইয়াসিন রহমান টিটু কারাগারের ভেতরই বোর্ডসভা করে। সেই বোর্ডসভার একপর্যায়ে মুনিরকে কিল-ঘুষি-লাথি মারে টিটু। খলিলুর রহমান এবং সেলিম রহমানের কাছে এর বিচার না পেয়ে চাকরি ছেড়ে দেন মুনির।

মোয়াজ্জেম বলেন, ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল বিকালে প্রতিষ্ঠানের একাউন্টস ইনচার্জ ইমরান হোসেন এবং জিএম আবদুল কালামসহ ১০ কর্মকর্তা কেন্দ্রীয় কারাগারে বোর্ড মিটিং করেন। মিটিংটি বসে জেল সুপারের কক্ষের পাশে কনফারেন্স রুমে। সেসময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সবার সামনে মুনিরকে মারধর করেন টিটু। এ সময় টিটু হুমকি দেয়, “তুই (মনির) যদি কেডিএস গ্রুপের আশপাশে যাস, তোকে এবং তোর সন্তানকে শেষ করে দেব।”

মোয়াজ্জেম আরও বলেন, ২০১৮ সালের জুন থেকে কেডিএস গ্রুপের চাকরি ছেড়ে দেয় মুনির। বেশ কিছুদিন বেকার থাকার পর আমেরিকান পাসপোর্টধারী মুনির ২০১৯ সালে এ্যাপোলো স্টিলের পরামর্শক হিসাবে যোগ দেয়। কোম্পানিটি পরবর্তীতে মুনিরের নেতৃত্বে কেওয়াই স্টিলের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে তারা। প্রথমে ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর বায়েজিদ থানায় একটি গাড়ি চুরির মামলা দিয়ে মুনিরকে গ্রেফতার করায়। অথচ মামলায় যে সময় উল্লেখ করা হয়েছে সে সময় মুনির ঢাকায় আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ছিল। ওইসময়ের সিসিটিভি ফুটেজ স্কুল থেকে সংগ্রহ করে আদালতে জমা দেওয়া হয়। মামলায় জামিনের জন্য উপস্থাপিত হলে তারা আরো দুটি ফৌজদারি মামলা দিয়ে তাকে জেলে পাঠিয়ে দেয়। সেই থেকে মুনির জেলে আছে।

মোয়াজ্জেম বলেন, আমার ছেলের একটি মামলায় জামিন হলে তার আগেই আরেকটি মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানায় ৫টি, ঢাকার গুলশান থানায় একটি এবং চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমানের কোর্টে ১৯টি মামলা করেছে কেডিএস গ্রুপ। এর মধ্যে ১৯টি মামলায় জামিনে আছে মুনির।

তিনি আরও বলেন, বায়েজিদ থানার গাড়ি চুরির মামলা ছাড়া বাকি সব মামলা প্রায় একই রকম- প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। কেডিএস গ্রুপের এসব হয়রানিমূলক মামলায় আমাকে এবং আমার ছোট ছেলেকে যুক্ত করা হয়েছে। তারা মামলায় বলছে, আমার ছেলে সিআই কয়েল (ঢেউটিনের কাঁচামাল) আমদানির সময় কমিশন নিয়েছে। আমি এবং আমার ছোট ছেলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ কেডিএসের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এতেই স্পষ্ট  মামলাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হয়রানিমূলক।

কেডিএসের টাকা আছে। তারা টাকার বিনিময়ে প্রশসানের একটি অংশকে ব্যবহার করে আমাদের হয়রানি করছে। আমাদের পুরো পরিবার আজ বড় অসহায়। আমরা এর থেকে মুক্তি চাই।

জয়নিউজ

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...