শীতের করোনায় শঙ্কায় চট্টগ্রাম, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

0

শীতে করোনার প্রকোপ বাড়বে- এমন হুঁশিয়ারি আগেই জারি করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা। বাংলাদেশে এর প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামেও হু হু করে বাড়ছে করোনা রোগী।

শীতের আগে চট্টগ্রামে যেখানে প্রতিদিন করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা ছিল একশ’র নিচে, এখন সেটি দুইশ’ কিংবা তিনশ’র কাছাকাছিও পৌঁছে যাচ্ছে!

গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৬৮৪টি নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্ত হয়েছে ১৯৯ জন। এর আগের দিন ১ হাজার ৪০৪টি নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৯১ জন! সবমিলিয়ে এখন চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজার ৩৫০ জন।

এদিকে শীতের শুরু থেকেই করোনায় মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। শীতের আগে টানা ১৪ দিনও করোনায় কোনো মৃত্যু না থাকার রেকর্ড হয়েছিল। অথচ শীতের শুরুতেই বেড়ে গেছে মৃত্যু। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছে ৩১৯ জনের। এর মধ্যে ২২৪ জন নগরের এবং ৯৫ উপজেলার বাসিন্দা। এ অবস্থায় শীতে করোনা পরিস্থিতি কোথায় ঠেকে তাই এখন শঙ্কার বিষয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস মোট চার রকমের -যা সাধারণ সর্দিজ্বরের লক্ষণ সৃষ্টি করে। প্রতিটিই সহজে ছড়ায় শীতের সময়। তাই ঠাণ্ডা বাড়লে সর্দি-কাশির প্রকোপ বেড়ে যায়।

যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের জন্য চার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশেষ অনুকূল। করোনাভাইরাস পরিবারের অন্য যেসব ভাইরাস রয়েছে সেগুলোও ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বিস্তার বেশি ঘটে।

তবে এ বিষয়ে একমত নন বাংলাদেশে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ রওশন আরা খানম। তিনি বলেন, যেসব গবেষণা হয়েছে, ঠাণ্ডার সঙ্গে এই ভাইরাসের বিশেষ সম্পর্ক আছে। তবে ঠাণ্ডা বাড়লে করোনার বিস্তার বাড়বে, এমন কিছু এখনো পাওয়া যায়নি। করোনার বিস্তারে ঠাণ্ডা বেশি দায়ী, নাকি মানুষের আচরণ- এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিমত আছে।

অপরদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অণুজীব বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সানিয়া তাহমিনা বলেন, যে তাপমাত্রায় এই ভাইরাসটি বাড়ে শীতকাল সেটার জন্য আদর্শ। এ কারণেই ধারণা করা হচ্ছে শীতকালে এই ভাইরাসের বিস্তার বেশি হতে পারে।

এদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবসহ চট্টগ্রামে ৯টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ৯৪৭ নমুনা পরীক্ষায় ২২ জন এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ২৩৬ নমুনা পরীক্ষায় ৪৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ১০৮ নমুনা পরীক্ষায় ৪০ জন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ৮২ নমুনা পরীক্ষায় ৮ জন এবং জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবরেটরিতে (আরটিআরএল) ৩৬ নমুনা পরীক্ষায় ২০ জনের দেহে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে।

এছাড়া বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ৬৮ নমুনা পরীক্ষায় ২৩ জন, শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ৯২ নমুনা পরীক্ষায় ২৮ জন এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ৩১ নমুনা পরীক্ষায় ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের ৮৪ নমুনা পরীক্ষায় ১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১৯৯ জনের মধ্যে ১৭৮ জন নগরের এবং ২১ জন উপজেলার।

জয়নিউজ

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...