পরিত্যক্ত ভবনে ইউএনও’র বসবাস, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

0

বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন তিন বছর ধরেই বসবাস করছেন পরিত্যক্ত এক ভবনে। ১১ মাস আগে ভবনটি ভাঙার টেন্ডার হলেও তা এখনো ভাঙা হয়নি।  এদিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা হওয়ায় তিন বছর ওই ভবনের পৌরকরও পায়নি সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনসহ (বিহঙ্গ) চারটি ভবনকে ২০১৭ সালের শুরুর দিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ওই বছরের ৮ নভেম্বর সিনিয়র সহকারী সচিব মো. জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে জেলা কনডেমশন কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের আলোকে উপজেলা পরিষদের পুরাতন ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় এগুলো নিলামে বিক্রির প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। ৩ লাখ ২৬ হাজার ৪৩ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যে সর্বোচ্চ দর নিশ্চিত করে বিক্রির কথা উল্লেখ করা হয় সেই চিঠিতে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বিহঙ্গ, ছায়াবীথি, ছায়াকুঞ্জ ও ছায়ানীড় নামে চারটি ভবন ভাঙার টেন্ডার দেয় উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর। কার্যাদেশ অনুযায়ী চলতি ২৫ মার্চ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা তিনটি ভবন ভেঙে নিলেও ভাঙলেও ভাঙা হয়নি ইউএনও’র বাসভবন বিহঙ্গ। অথচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় তিন বছর ধরে ওই ভবনের পৌরকর থেকেও বঞ্চিত হয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন আছিয়া খাতুন। তখন থেকেই তিনি পরিত্যক্ত ভবন বিহঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে বাস করছেন।

উপজেলা পরিষদে ইউএনও’র জন্য সরকারি কোনো বাসা বরাদ্দ না থাকায় বাসস্থান সুবিধা নিয়েও ঘরভাড়া পরিশোধ করতে হয়নি ইউএনও’র। ফলে তিন বছর ধরে রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্র জানায়, ১৯৬৫ সালে পটিয়া মহকুমার আওতায় তৎকালীন থানা সার্কেল কর্মকর্তার জন্য বর্তমান ইউএনও’র বাসভবনটি নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতা পরবর্তীতে থানা নির্বাহীর বাসভবন হিসেবে এটি ব্যবহার হয়ে আসছে। ১৯৮০ সালে এরশাদ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উপজেলা পরিষদ গঠনের পর আরো বেশকয়েকটি বাসভবন নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৩ সালে বোয়ালখালীকে উপজেলা ঘোষণা করা হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার জন্য গড়ে তোলা হয় ছায়াবীথি, ছায়াকুঞ্জ ও ছায়ানীড়সহ আরো বেশ কয়েকটি ভবন।

এ ব্যাপারে বাসা বরাদ্দ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আলম জয়নিউজকে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২০১৭ সালে যোগদানের পর থেকে এ ভবনে বাস করছেন। কিভাবে পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস করছেন তার জবাব তিনিই ভালো দিতে পারবেন। কেননা তাঁর নামে কোনো বাসা বরাদ্দ নেই। ফলে ঘরভাড়াও সরকার তার কাছ থেকে নিচ্ছেন না। ভবন ভাঙার টেন্ডার হওয়ার পরও পরিত্যক্ত ভবনটি কেন ভাঙা হয়নি তা বোধগম্য নয়।

ইউএনও আছিয়া খাতুন বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জয়নিউজকে বলেন, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর ভাঙার টেন্ডার হয়েছে যা চলামান রয়েছে। নতুন বাসভবন নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমার নামে বাসা বরাদ্দ না থাকলেও গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল ব্যক্তিগতভাবে পরিশোধ করতে হচ্ছে।

জয়নিউজ/মাসুদ/বিআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...