হতভাগা এক বীর ‘রতন’

0

লাল-সবুজের একটি পতাকার জন্য অসংখ্য বাঙালি নিজের জীবনকে তুচ্ছ ভেবেছিলেন। নয় মাসের যুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীন হলো, বীর বাঙালি পেল লাল-সবুজের ‘বাংলাদেশ’। কিন্তু যে বীরদের কারণে স্বাধীনতা, তাঁদের অনেকেই এখনো পাননি স্বীকৃতি। হতভাগা সেই বীরদের একজন রতন।

একাত্তরের উত্তাল সময়ে যখন প্রাণ বাঁচাতে স্বজনরা পাড়ি জমিয়েছিলেন ভারতে তখন রণভূমিতে যাওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রতন। কিন্তু লজ্জার বিষয়, স্বাধীনতার অর্ধশতক বছর পরও এই বীরকে আমরা সম্মান জানাতে পারিনি। মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে একাত্তরের এই বীর এখনো ঘুরছেন সরকারি অফিসে। মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আকুতি জানালেও তা এখনো পৌঁছায়নি সংশ্লিষ্টদের কানে।

একাত্তরের টগবগে তরুণ রতন দে এখন ৬৭ বছরের বৃদ্ধ। থাকেন রাউজানের ডাবুয়া ইউনিয়নের কেউকদাইর গ্রামে। সেখানেই কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

মুক্তিযোদ্ধা রতন জয়নিউজকে বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমার ভাই অজিত, কাকা হরিলাল, জেঠাত ভাই অনিল ও সুনিল প্রাণ বাঁচাতে ভারত চলে যান। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিই যুদ্ধে যাওয়ার। ভারতের হরিনায় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা নীহার কান্তি বিশ্বাস মন্টুর নেতৃত্বে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিই। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমি রাউজান পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সাহা নগর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ফিরোজ আহম্মদ এবং সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত মুক্তিযোদ্ধা নীহার কান্তি বিশ্বাস মন্টুর নেতৃত্বে পাক হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি।

তিনি আরও বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধ করছি এ খবর পাওয়ার পর রাজাকাররা আমার, জেঠার এবং কাকার ঘরবাড়ি ও মালামাল নিলামে বিক্রি করে দেয়। আমাদের বসতভিটা দখল করে নেয় ফয়েজ আহম্মদ ও কবির আহম্মদ। তবে যুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীন হলে যখন ফিরে আসি তখন তৎকালীন ডাবুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও দৈনিক আজাদীর বার্তা সম্পাদক প্রয়াত সাধন কুমার ধরের সহায়তায় বসতভিটা ফিরে পাই।

মুক্তিযোদ্ধা রতন বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সম্পর্কিত আমার একটি সনদ ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর দেশে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি সক্রিয় হয়ে উঠলে নির্যাতনের ভয়ে সেই সনদটি ছিঁড়ে ফেলি। মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগের কাছে আবেদন করেছি। তবে এখনো মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তত এই দাবিটুকুও কী আমি করতে পারি না- প্রশ্ন করেন মুক্তিযোদ্ধা রতন।

এ ব্যাপারে জয়নিউজ যোগাযোগ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগের সঙ্গে। ইউএনও সোহাগ জয়নিউজকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে অনেকেই আবেদন করেছেন। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কারো নাম যাতে বাদ না পড়ে সেজন্য যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। সব আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

জয়নিউজ/বিআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...