মামুনুল হকের পরিকল্পনায় মুনিরের নেতৃত্বে শফীকে হত্যা

0

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের পরিকল্পনা এবং আরেক যুগ্ম মহাসচিব নাসির উদ্দিন মুনিরের নেতৃত্বে আল্লামা আহমদ শফীকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শিপলু কুমার দের আদালতে ৩৬ জনের বিরুদ্ধে শফীর শ্যালক মো. মাঈন উদ্দিন মামলাটি করেন।

মামলায় আসামিদের বেশিরভাগই হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আমির জুনাইদ বাবুনগরীর অনুসারী। আসামিরা হলেন— হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা মীর ইদ্রিস, হাবিব উল্লাহ, আহসান উল্লাহ, জাকারিয়া নোমান ফয়েজীও।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, অসুস্থ হলেও আল্লামা আহমদ শফীকে হাটহাজারী মাদরাসায় তাঁর কক্ষে আটকে রাখা হয়। তাঁর কক্ষে আসামিদের ইন্ধনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। মাদরাসা মাঠে আহমদ শফীকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটিও আটকে রাখা হয়েছিল।

এতে বলা হয়, আসামি নাছির উদ্দিন মুনির ও মামুনুল হকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় মাদরাসায় ভাঙচুর করে শাহ আহমদ শফীকে উত্তেজিত করার মাধ্যমে এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে না দেওয়ার মাধ্যমে প্রাণে হত্যা করা হয়েছে। মাদরাসা অবৈধভাবে গ্রাস করার জন্য পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববরেণ্য এ ইসলামী চিন্তাবিদকে হত্যা করা হয়েছে।

যদিও হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়জী বলেন, মাদ্রাসার ছাত্ররা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছে। এটি হাটহাজারী মাদরাসার বিষয়। এখানে হেফাজতের কোনো নেতার ইন্ধন কিংবা ভূমিকা নেই।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হেফাজতে ইসলামের আমীর ও হাটহাজারী মাদ্রাসার দীর্ঘদিনের পরিচালক আল্লামা আহমদ শফী মারা যান। সেদিনই ঢাকায় সাংবাদিকদের শফীপুত্র আনাস মাদানি বলেছিলেন, আগের দিনের ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনার কারণে ‘টেনশনের’ কারণে ‘হার্টফেইল’ করে তার বাবা মারা গেছেন।

মামলার বাদী আল্লামা শফীর শ্যালক মাঈন উদ্দিন বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নবনির্বাচিত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের পরিকল্পনা এবং আরেক যুগ্ম-মহাসচিব নাসির উদ্দিন মুনিরের নেতৃত্বে আল্লামা আহমদ শফীকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আল্লামা শফীকে হত্যার অভিযোগে মামুনুলসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মাঈন উদ্দিন অভিযোগ করেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর মামুনুল হক ঢাকা থেকে ফটিকছড়িতে এসে জুনায়েদ বাবুনগরীর বাসায় বসে ওয়ালিমার অনুষ্ঠানের নাম দিয়ে অন্য আসামিদের নিয়ে মিটিং করেন। পরে সেখান থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, হুজুরের ছেলে আনাস মাদানীকে বহিস্কার করা না হলে হুজুরকে চরম মূল্য দিতে হবে। তারই অংশ হিসেবে ১৬ তারিখ হাটহাজারী মাদরাসায় আন্দোলন শুরু হয়।

‘মামুনুল হক তাহলে চরম মূল্য বলতে কী বুঝিয়েছিলেন সেদিন, হুজুরের মৃত্যু? এটা বলা মানে তো হত্যার পরিকল্পনা’ বলেন মাঈন উদ্দিন।

‘পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হুজুরকে অক্সিজেন খুলে নিয়ে, রাইস টিউব খুলে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। যখন মেডিকেলে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছিল, তখন তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা মাদরাসার দরজায় আটকে রাখা হয়েছিল। এসময় মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনিরের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে হুজুরের অক্সিজেন খুলে নেওয়া হয়। এসব আমরা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছি।’

যে মাদরাসায় ৮ হাজার ছাত্র ফ্রি খায় সেখানে আবার কীসের আন্দোলন প্রশ্ন রেখে মাঈন উদ্দিন বলেন, হাটহাজারী মাদরাসায় কোনো আন্দোলন ছিল না। ৫১ বছর বয়সে কওমি মাদরাসায় আমি সর্বপ্রথম আন্দোলন দেখলাম হাটহাজারীতে। আল্লামা শফীকে হত্যার পেছনে ‘উগ্রবাদী’ শক্তির হাত রয়েছে।

বর্তমান হেফাজতের যে কমিটি করা হয়েছে সেখানে এই উগ্রবাদীদের নামও আছে। ৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের কায়দায় সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আমার ভগ্নিপতিকে হত্যা করা হয়েছে। আমার ছোট ভাগনে আনাস মাদানীকে বাবার জানাজায় পর্যন্ত আসতে দেয়নি— বলেন তিনি।

বাদীর আইনজীবী অ্যাড. মোহাম্মদ আবু হানিফ বলেন, পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে হত্যা করা হয়েছে। যে মানুষটি অক্সিজেন ছাড়া চলতেই পারেন না, সেটা আবার হাই ফ্লো অক্সিজেন। সেখানে তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা অক্সিজেন ছাড়া আটকে রাখা হয়েছে।

‘এ কারণে তাকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তখন তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে বাদী নিজস্ব ব্যবস্থায় হুজুরকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা জানান, হুজুর ততক্ষণে কোমায় চলে গেছেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।’

আন্দোলনের নামে হাটহাজারী মাদরাসায় লুটতরাজ হয়েছে অভিযোগ করে আইনজীবী হানিফ বলেন, ওইদিন শুধু হুজুরের ওপরই হামলা চালানো হয়নি, বরং তার কক্ষে ভাঙচুরের পাশাপাশি ৬০ লাখ ৮০ হাজার নগদ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণ লুট করেছে।

তিনি বলেন, আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...