গামছায় বাঁধা ছিল হাত, মুখে রক্তের দাগ

0

তাদের হাতগুলো ছিল গামছায় পিছমোড়া করে বাঁধা। বাঁধা ছিল রক্তাক্ত মুখটাও। ভেজা টি-শার্ট আর প্যান্টে লেগে ছিল ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। নাফনদে ভেসে আসা সেই কিশোরদের লাশের অবস্থা দেখে শিউরে উঠেছেন ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশসহ সর্বস্তরের মানুষ।

টেকনাফে নাফ নদীর সীমান্ত এলাকা থেকে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় এক রোহিঙ্গাসহ দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধায় ৬টার দিকে থানায় এসে নিহতদের পরিবার লাশ দুটি শনাক্ত করে।

বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ছাড়িয়ং এলাকা সংলগ্ন স্থলবন্দরের জালিয়াদ্বীপের কাঠের জেটির পাশ থেকে ওই দুই কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন টেকনাফ উপজেলার শামলাপুর ইউনিয়নের মনখালী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হকের ছেলে সরোয়ার আবছার (১৫) ও একই ইউনিয়নের আছার বনিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ব্লকের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে সৈয়দ ইসলাম (১৬)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জালিয়ার দ্বীপের পাশে নাফনদের তীরে মৃতদেহ দুটি ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে গামছা দিয়ে হাত-মুখ বাঁধা মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। নিহতদের পরনে ছিল প্যান্ট এবং টিশার্ট, তাদের মুখ ও কান ছিল রক্তাক্ত। পরে সন্ধ্যায় তাদের পরিবার থানায় এসে লাশ দুটি শনাক্ত করে। তারা দু’দিন আগে নিখোঁজ হয়েছিল বলে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

নিহত সারোয়ার আবছারের মা ছবুরা খাতুন বলেন, গত মঙ্গলবার তার ছেলে ঘর থেকে বের হয়। এর পরের দিন অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার কোন খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার এলাকার মানুষের কাছ থেকে শুনে থানায় এসে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন তিনি।

টেকনাফ মডেল থানার (ওসি-তদন্ত) এবিএম এস দোহা বলেন, নাফনদ তীর থেকে দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথমে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে সন্ধ্যায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে একজন রোহিঙ্গা, আরেকজন স্থানীয়। এ ঘটনার পিছনে ইয়াবার লেনদেন সংক্রান্ত কোন ব্যাপার আছে কিনা সেটি মাথায় রেখে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়য়া বলেন, ‘নাফনদ থেকে এক রোহিঙ্গাসহ দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

জয়নিউজ/জুলফিকার

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...