মা আসছে

0

জগতের কল্যাণী মায়ের আগমনে প্রকৃতি আর শহুরে জীবনে লেগেছে খুশির রঙ। ধুলো আর অট্টালিকাময় শহরে এখনো শীতের আমেজ বোঝা যায় না। কিন্তু ভোরে একচিলতে উঠোনের শিউলি গাছতলায় ছড়িয়ে থাকা ফুলে মুক্তোর মত শিশির দেখেই বোঝা যায়, মা আসছে।

বসন্তকালে দেবীর পূজার বিধান থাকলেও রাবণকে পরাজিত করতে অসময়ে অর্থাৎ শরৎকালে স্তুতি করে দেবীকে জাগ্রত করেছিলেন বনবাসী রাজা রামচন্দ্র। তাই এই শারদীয়া পূজাকে বলা হয় অকালবোধন।

সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন শারদীয়া দুর্গাপূজা হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে দুর্গাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষটিকে বলা হয় দেবীপক্ষ। দেবীপক্ষের সূচনার অমাবস্যার নাম মহালয়া। দেবীপক্ষের শেষ দিনটি কোজাগরী পূর্ণিমা। মহালয়ার দিন থেকে মূলত দুর্গা পূজা শুরু। আসছে মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) মহালয়া। এরপর ১৫ অক্টোবর থেকে দেবীর বোধন শুরু।

আর কয়েকদিন পর দেবী আসবেন এই বসুন্ধরায়। মৃৎশিল্পীদের চোখে ঘুম নেই। হাত থেকে তুলি রাখার ফুরসত নেই। সাজাতে হবে মা’কে, মনোমুগ্ধকর আয়োজনে সাজবে মঞ্চ। অবশ্য মণ্ডপের সমিয়ানা টাঙানো হয়েছে অনেক আগেই।

চট্টগ্রামের মৃৎশিল্পী জীবন পালের অধ্যায় শেষ হয়েছে একবছর হলো। জীবন পালের পরম মমতায় তৈরি করেছেন হাজারি গলির মহামায়া স্টুডি। এখন সেখানে তাঁর রেখে যাওয়া স্বপ্নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জীবন পালের দুই ছেলে গৌতম পাল ও উত্তম পাল। দুই ভাই মিলে দিন-রাত পরিশ্রম করে চলেছেন।

উত্তম পালের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পড়তে হলো কিছু বিড়ম্বনায়। তিনি বলেন, এই সময়ে সাংবাদিকদের অনেকেই আসেন। আমাদের কথা জানতে চান। কিন্তু কাজের খুব চাপ। চলেন, কাজ করতে করতেই কথা বলি। পাশে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলাম তাঁর হাতের নিপুণ শৈলী। রঙ লেগেছে প্রতিমায়, চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। এরপর মাটির প্রতিমাগুলোর রঙ শুকালে পরানো হবে শাড়ি। সবশেষ পূজা করে ত্রিনয়না দুর্গার দেওয়া হবে প্রাণ!

তাঁদের তৈরি প্রতিমার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। নগরের হেমসেন লেইন, চট্টেশ্বরী কালীবাড়ি, নবগ্রহ মন্দির, রঘুনাথবাড়ি, টেরীবাজার, দক্ষিণ কাট্টলিসহ বিভিন্ন জায়গায় তাদের তৈরি প্রতিমা দিয়ে হবে দুর্গাপূজা। এর বাইরেও অন্য মণ্ডপের প্রতিমা বানানোর অর্ডার পেয়েছেন।

উওম পাল জানালেন, ফটিকছড়ি, রাঙামাটি, গাছবাড়িয়া, চাঁদপুরে গিয়েও এইবার প্রতিমা বানিয়েছেন। প্রতিটা প্রতিমা বানিয়ে কতটুকু আয় হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাভের কথা কখনোই ভাবি না। আমাদের যে পরিমাণ শ্রম-ঘাম দিতে হয়, এর অর্থমূল্য ঠিক করা কঠিন। পেশাদার কারিগর হিসেবে এবং যেহেতু অন্য কারিগরদের বেতন দেওয়া লাগে, তাই লাভ-লসের কথা ভাবতে হয়। কিন্তু সেটা এত অল্প যে বললে বিশ্বাস করবেন না।

তিনি বলেন, তাদের হাজারি গলির মহামায়া স্টুডিওতে মোট ১০ জন পেশাদার কারিগর কাজ করেন। পূজার এই সময়ে এ সংখ্যা আরো বেড়েছে। যদিও বছরজুড়েই এখানে প্রতিমা বানানো হয়। সরস্বতী, কালী, শীতলা, মহালক্ষ্মী, জগদ্ধাত্রী, মনসা, বিপদনাশিনী, গৌরনিতাই, লোকনাথসহ বিভিন্ন মূর্তি বানানো হয়।

দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা এই ধরার অনিয়ম-অবিচারকে নাশ করবেন। ঘুচবে মনের অন্ধকার, নব আনন্দে প্রফুল্ল হবে মন। দুর্গাকে স্তুতি মানেই নারীকে স্তুতি। এই পূজার মধ্য দিয়ে সমাজ নারীকে সম্মান ও মর্যাদার সর্বোচ্চ আসনে বসাবে।

জয়নিউজ

সরাসরি আপনার ডিভাইসে নিউজ আপডেট পান, এখনই সাবস্ক্রাইব করুন।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...