বাম্পার ফলন, ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না চাষি

জুমের মিষ্টি কুমড়া

0

নানাবিধ পুষ্টিগুণ সম্মৃদ্ধ সবজি হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। পাহাড়ে উৎপাদিত হালকা মিষ্টি স্বাদের মিষ্টি কুমড়া পাওয়া যায় সারাবছর। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় বলে মিষ্টি কুমড়ার চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। বান্দরবানের পাহাড়ে জুমের পাশাপাশি বাড়ছে মিষ্টি কুমড়ার চাষও। কিন্তু বাম্পার ফলনের পরও নায্যমূল্য পাচ্ছে না চাষিরা।

কৃষি বিভাগের মতে, বান্দরবানের রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি সহ সাত উপজেলায় চলতি বছর মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে ৫৫০ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে পাহাড়ের ঢালুতে জুম চাষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এখানে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯ হাজার মেট্রিকটনের মত মিষ্টি কুমড়া।

গত বছরের তুলনায় এ বছর চাষ বেড়েছে ৫০ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদন বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার মেট্রিকটনের মত। পাহাড়ে জুম চাষে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে এবার। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বাজার জাতকরণের সহজ উপায় না থাকায় নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, এমনই অভিযোগ কৃষকের।

টংকাবতীর চাষি মেনথং ম্রো ও থনলক ম্রো বলেন, টংকাবর্তী, মাঝেরপাড়া, সুয়ালক, চিম্বুকসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে জুমে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে এবছরও। ভালো ফলন হওয়ার পরও নায্যমূল্য পাচ্ছেন না তারা। লোকসান কমাতে বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে কেজি ৭ থেকে ৮ টাকায় এবং মণ ৩শ’ টাকায় বিক্রি করছি।

স্থানীয় শিক্ষক রেংরুই ম্রো বলেন, পাহাড়ে জুম চাষে উৎপাদিত পুষ্টিকর মিষ্টি কুমড়া চট্টগ্রাম হয়ে বিদেশেও যাচ্ছে। শ্রমিকের মজুরির টাকা না ওঠায় অনেক চাষি ক্ষেতের মিষ্টি কুমড়া বিক্রির জন্য বাজারেই তোলেনি। রাস্তার দুপাশে জুম ক্ষেতগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মিষ্টি কুমড়া।

মধ্যস্বত্ব ব্যবসায়ী মেনইয়া ম্রো বলেন, উৎপাদন বেশি হওয়ায় লাভবান হতে পারছে না কৃষক। পাহাড়ের টংকাবতী থেকে মণ ৩শ’ থেকে ৩২০ টাকায় মিষ্টি কুমড়া কিনে গাড়িতে করে চট্টগ্রামে নিয়ে প্রতিমণ ৫ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকায় বিক্রি করছি। গতবছর আমার ত্রিশ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।

এবছরও লাভবান হতে পারব বলে মনে হচ্ছে না। আমি মিষ্টি কুমড়াগুলো না কিনলে চাষি-রা কি করবে? কার কাছে এগুলো বিক্রি করবে? সবাই বিপদে পড়বে, তাই ব্যবসায় নেমেছি এ বছরও।

এ ব্যাপারে বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চাষি উৎপাদিত সবজি সরাসরি বাজারে বিক্রি করতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমস্যা উত্তরণে চাষিদের কৃষক সংগঠন করে নিজেরাই নিজেদের পণ্য বাজারজাতকরণে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাহলে লাভবান হতে পারবে কৃষক।

জয়নিউজ

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...