মিতু হত্যা: যেকারণে বাদী থেকে আসামি হলেন সাবেক এসপি বাবুল

0

চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খাতুন মিতু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নিয়েছে নাটকীয় মোড়। মিতুর স্বামী পুলিশের সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে নগরের পাঁচলাইশ থানায় নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। যিনি আগের মিতু হত্যা মামলার বাদী ছিলেন। এরপর ওই মামলায়ই প্রাক্তন পুলিশ সুপারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাবুল আক্তার কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে গায়ত্রী অমর সিংয়ের সাথে পরকীয়ায় জড়ান। ওই ঘটনায় পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি হলে বাবুল আক্তার তার স্ত্রী মিতুকে হত্যার আগেও শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালাতেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন, কামরুল ইসলাম শিকদার প্রকাশ মুসা, এহতেশামুল হক ভোলা, মোতালেব মিয়া, আনোয়ার হোসেন, খায়রুল ইসলাম কালু, সাইফুল ইসলাম শিকদার ও শাহজাহান মিয়া।

পাঁচলাইশ থানায় নতুন মামলাটি দায়েরের পর মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘টাকার বিনিময়ে খুনীদের দিয়ে আমার মেয়েকে হত্যা করিয়েছিল বাবুল আক্তার। পিবিআই মামলার তদন্ত শুরু করার পর সেসব বিষয় বেরিয়ে এসেছে। তাই তাকেসহ আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছি।

মামলা দায়েরের আগে বুধবার সকালে মামলাটির এখনকার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা আছে বলেই তার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। আমরা সেরকমই সন্দেহ করছি।

বাবুল আক্তারের ওপর সন্দেহের কারণ হিসাবে পিবিআই প্রধান বলেন, ”কামরুল শিকদার মুসাকে বাবুল আক্তার চিনতেন। হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজে তাকে পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে। কিন্তু তাকে তিনি শনাক্ত করেননি কেন? কেন তিনি আরেকজনের দিকে (জঙ্গিদের দায়ী করে) দায় দিলেন?

এটা দেখার পর তার দিকে আমাদের সন্দেহ তীব্র হয়। কারণ মুসাকে তিনি খুব ভালো ভাবে চিনতেন, তার সঙ্গে যোগাযোগও ছিল। তাহলে তিনি অস্বীকার করলেন কেন?

বাবুল আক্তার চট্টগ্রাম অফিসে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি।

এছাড়া এই ঘটনায় বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা জানিয়ে তার দুইজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি সাক্ষ্যও দিয়েছেন। তাদের একজন বাবুল আক্তারের একজন বন্ধু। তারা এই ঘটনায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন।

এরপর বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। এরপরই পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারসহ আটজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন ভিকটিম মাহমুদা খাতুন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

পিবিআই প্রধান জানান, বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পিবিআইয়ের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পর পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদেরকে বলা হয়েছে যে পিবিআইয়ের আর তো ব্যাক করার সুযোগ নেই। তখন তারা বলেছেন, তদন্ত যা আসবে, তাই হবে। এরপর তারা বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখানোর সিদ্ধান্ত নেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে।

ঘটনার সময় পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। চট্টগ্রামে ফিরে তিনি পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এর কিছুদিন পর বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন মিতু হত্যাকাণ্ডের জন্য বাবুল আক্তারকেই দায়ী করেন। প্রথম দিকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব ডিবি ওপর থাকলেও ২০২০ সাল থেকে মামলাটির তদন্তে নামে পিবিআই।

জয়নিউজ/পিডি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...