বাংলাদেশ থেকে ভারত কী নিয়ে যায়?

মতামত

0

বাংলাদেশে অবস্থানরত বৈধ এবং অবৈধ প্রায় ১০ লক্ষ ভারতীয় নাগরিকেরা গতবছর ১০ বিলিয়ন (গড়ে মাথাপিছু ১০ হাজার ডলার) মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ তাদের দেশে পাঠিয়েছে। ভারতের প্রবাসি নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশ ৪র্থ আয়ের উৎস (আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরবের পরেই বাংলাদেশের স্থান) অন্যদিকে, সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা দেড় কোটি (সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব নয়) বাংলাদেশি বছরে মাত্র ১৪ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে প্রেরণ করে, যার মধ্যে বিলিয়ন আসে ভারতে বৈধ/অবৈধভাবে অবস্থানরত কয়েক লক্ষ (সঠক নাম্বার জানা সম্ভব হয়নি) বাংলাদেশিদের মাধ্যমে। অর্থাৎ লেনদেন দুইমূখী ভাবেই হচ্ছে, যদিও বাংলাদেশি প্রবাসিরা মাথাপিছু বছরে মাত্র ১০০ ডলার পাঠায়, যা কিনা প্রতিটি ভারতীয় প্রবাসির তুলনায় ১০০ ভাগের ভাগ! এই হিসাব থেকে কয়েকটা জিনিষ পরিস্কার, আর তাহলো এই যে, ভারতীয় প্রবাসিরা হয় প্রত্যেকে বেশি টাকা দেশে পাঠায় নয়তো ভারতীয় প্রবাসীরা বাংলাদেশি প্রবাসিদের তুলনায় অনেক অনেক বেশি টাকা বেতনের চাকুরী করে।

ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশিদের তুলনায় বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয়রা যে কয়েকগুণ বেশি রোজগার করে তা বলাই বাহুল্য। ফেইসবুকে প্রকাশিত মন্তব্য থেকে বুঝা যায় যে ভারতীয়রা যে বিপুল পরিমাণ টাকা বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যায় (বাংলাদেশি প্রবাসিদের পাঠানো টাকার প্রায় ৭০% ভারতে চলে যায়) তাতে তারা বেশ নাখোশ। দেশের ভিতরেই যেখানে কোটি কোটি মানুষ বেকার সেখানে ভারতের নাগরিকরা বাংলাদেশ কাজ করে টাকা নিয়ে যাবে তাতে ক্ষুব্ধ হওয়ার হয়তো কারণ আছে। কিন্তু আমি জিনিষটি দেখি সম্পূর্ণ অন্যভাবে। প্রথমতঃ পুঁজিবাদি বাংলাদেশের শিল্প কারখানার মালিকেরা যাদেরকে কাজে নিয়োগ দিলে তাদের বেশি লাভ হবে তাদেরকেই তারা নিয়োগ দিবে।

শোনা যায় বাংলাদেশিদের তুলনায় ভারতীয় কিংবা শ্রীলঙ্কার প্রবাসিরা বিদেশিদের সাথে লেনদেন করাতে অনেক বেশি সক্ষম এবং পারঙ্গম, তাই শিল্প কারখানার বিভিন্ন পদে তাদেরকেই বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। আরো শোনা যায় যে বিদেশিরা বাংলাদেশিদের তুলনায় কারিগড়ী জ্ঞান অনেক বেশি রাখে। এটা সত্য হলে মালীকদের দোষ দেওয়া যায়না। একইভাবে আমরা অনেক প্রবাসি বাংলাদেশিরাও বিদেশে চাকুরী করছি, তাই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ভাল নয়। এখানে সরকারের ভুমিকাটি প্রধান। তারা ঠিক করে দেবে অবৈধ প্রবাসিরা কাজ করতে পারবে কিনা, করলে কি জরিমানা বা শাস্তি হবে।

 

অন্যদিকে, সরকারের উচিৎ দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ব্যাপারে আরো বেশি মনোযোগী হওয়া এবং শিক্ষা খাতের মান উন্নয়নের জন্য আরো অনেক বেশ বরাদ্দ দেওয়া। ভারতবাংলাদেশের মানুষের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং জিনপুল একই, তাহলে তারা কিভাবে আমাদের চেয়ে দক্ষ হয়ে উঠলো, বিষয়টি আশা করি নীতি নির্ধারকেরা অনুধাবন করবেন। তাছাড়া, আমাদের ছাত্রদের প্রয়োজন হচ্ছে নিজের চেষ্টায় হলেও ম্যানেজারিয়াল, কারিগড়ী, এবং ইংরাজী ভাষার দক্ষতা বাড়িয়ে নিজেদেরকে বিশ্ব পরিসরে প্রতিযোগিতা করার মতো যোগ্য করে গড়ে তোলা।

 

অধ্যাপক ড. মো: খালেকুজ্জামান
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লক হ্যাভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষকতা করেন

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...