চন্দনাইশে চমক দেখাবে কে?

চট্টগ্রাম-১৪

0

চন্দনাইশ দিয়ে বয়ে চলছে খরস্রোতা শঙ্খনদী। যার উপকূলজুড়ে চরে চরে সবজি চাষ। যা স্বাবলম্বী করে তুলেছে সহস্রাধিক কৃষককে। রেলওয়ে স্লিপার, কাঠের ফার্নিচার, পেয়ারা আর লেবুর জন্য বিখ্যাত এই চন্দনাইশ। চট্টগ্রাম-১৪ সংসদীয় আসনটি চন্দনাইশের আটটি ইউনিয়ন, দু’টি পৌরসভা এবং সাতকানিয়ার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ পাঁচ হাজার একশ’ ৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ সাত শ’ ২৯ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ চার হাজার চারশ’ তিনজন। আগামী একাদশ নির্বাচনে খরস্রোতা শঙ্খনদীর বুকে কি পাল তুলবে নৌকা? নাকি, নদী পাড়ের ধানের শীষ মাতম তুলবে জয়ের? নাকি খনস্রোতা এই নদী ভিন্ন গন্তব্যে রওনা দিবে? এইসব নিয়ে পড়ুন চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি এম এ রাজ্জাক রাজ’র বিশেষ নির্বাচনী প্রতিবেদন:

আগামী জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে মনোনয়ন পাওয়া নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে লবিং শুরু করছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। জোট মহাজোটের প্রার্থী হতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌঁড়ঝাঁপ লক্ষ্যনীয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের প্রার্থী হতে সংসদীয় এলাকাজুড়ে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনের মাধ্যমে নিজেদের প্রচার-প্রচারণা এবং নিয়মিত সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। আছে বিরোধী দলের প্রচারণার নানা দৃশ্যও।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী ছাড়াও মনোনয়নের মাঠে আছেন ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগরীর সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, তরুণ শিল্পপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা, রিহ্যাব চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ুম চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ উদ্দীন আহমদ আসিফ, চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, জাপান আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রফেসর ড. নাসির উদ্দীন জয় এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বাচ্চু। এই আসনের একমাত্র মহিলা মনোনয়ন প্রত্যাশী দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য শাহিদা আক্তার জাহান।

নজরুল ইসলাম চৌধুরী ২০১৪ সালে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকার ৬টি ইউনিয়নের অভুতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। সাঙ্গু নদীর ভাঙ্গণ প্রতিরোধক বাঁধ নির্মাণ, অবহেলিত রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন করার কারণে সাধারণ মানুষ এবং ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আগামী নির্বাচনেও তিনি এ আসনে বিজয়ীর বেশে ঘরে ফিরবেন এমন আশা ব্যক্ত করেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান।

সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী জয়নিউজকে বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সংসদীয় এলাকায় যথেষ্ট কাজ করেছি। ভোটাররা এসব কাজের মূল্যায়ন করলে তিনি অবশ্যই পুনরায় বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ আসনটি উপহার দিবেন।

রিহ্যাবের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ুম চৌধুরী বলেন, আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। ছোটবেলা থেকেই রাজনীতি করে আসছি। প্রধানমন্ত্রী যদি মনোনয়ন দেন তাহলে নির্বাচন করবো। আমাকে ছাড়া দলের অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে তার জন্য কাজ করে যাবো। তিনি বলেন, আমি রাজনীতির পাশাপাশি নানা সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকা- নিয়ে কাজ করছি। আমার মনে হয় বর্তমান সময়ে নেত্রী ক্লিন ইমেজের প্রার্থীর খোঁজ করছেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই জানেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ উদ্দীন আহমদ আসিফ বলেন, মনোনয়ন পাই বা না পাই, দল ও মানুষের জন্য কাজ করে যাবো। তিনি বলেন, ২০০১ সালে দেশে আসার পর থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আমি বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলা করেছি। আওয়ামী লীগের সকল কর্মকা-ে আছি। তাই আমি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি।

চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, উপজেলা সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় দলকে সংগঠিত করে তোলার পাশাপাশি সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকা-ে জড়িত আছি। যে কারণে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

চন্দনাইশের রাজনীতির মাঠে নতুন মুখ ড. নাসির উদ্দীন জয় বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা আমাকে মনোনয়ন প্রত্যাশী করেছে। মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

এদিকে এলডিপি ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরাসহ ২০ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আসনে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ডাঃ মহসিন জিল্লুর করিম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মিজানুল হক, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম সওদাগর ও দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম রাহী।

এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে চট্টগ্রাম মহানগর জাপার প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক আনিসুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা আ জ ম ওয়াহিদুল্লাহ চৌধুরী মাসুদ, দক্ষিণ জেলা জাপার সহসভাপতি আবদুল গফুর চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক একেএম বাদশা, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের যুগ্ম মহাসচিব সেহাব উদ্দীন মোহাম্মদ মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...