চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নারীর স্তনে টিউমার-ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে ম্যামোগ্রাফি মেশিন চালু হচ্ছে।
আগামী সোমবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে মেশিনটির সেবা উদ্বোধন করবেন। একইসময় মেয়র হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের মুক্তিযোদ্ধা ব্লক উদ্বোধন করবেন এবং ক্যান্সার (রেডিওথেরাপি) ওয়ার্ডের ব্র্যাকিথেরাপি মেশিন স্থাপনে বাংকারের ভিত্তিও স্থাপন করবেন। চমেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন জয়নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রেডিওলজি বিভাগ সূত্র জানায়, মেশিনটি হাসপাতালে পৌঁছায় প্রায় দেড় বছর আগে। কিন্তু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিউটেক জিটি লিমিটেড-এর সেবা চালু করতে পারেনি। বাক্সবন্দি ছিল মেশিনটি। কর্তৃপক্ষের দাবি, মেশিন চালুর পাশাপাশি অপারেটর, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের। তাদের গাফিলতির জন্য এতদিন সেবাটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
রেডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. সুভাষ মজুমদার জয়নিউজকে বলেন, বুধবার (১ আগস্ট) মেশিনটির পরীক্ষামূলক সেবা চালু করেছে হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগ। বিভাগের একজন চিকিৎসককে ইতালি থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া বিভাগের তিনজন চিকিৎসক,একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা বলেন, মহিলাদের স্তনে যে কোনো ধরনের টিউমার ও ক্যান্সার নির্ণয়ে ম্যামোগ্রাফ করা হয়। এছাড়া ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রত্যেক নারীর স্তনের পরীক্ষায় হয় ম্যামোগ্রাফ টেস্ট।
রেডিওলজি বিভাগের তথ্যমতে, চমেক হাসপাতালে একটি স্তনের ম্যামোগ্রাফ টেস্টে ৪০০ টাকা এবং দুটি স্তনের টেস্টে ফি ৮০০ টাকার বেশি নয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজকে একটি করে মেশিন বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইতালি থেকে আমদানিকৃত দুটি মেশিনের খরচ পড়ে ৩ লাখ ৮১ হাজার ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৩ কোটি ৩২ লাখ ৩ হাজার ৯২১ টাকা। এ হিসাবে প্রতিটির মূল্য ১ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি।
জয়নিউজবিডি/এইচইউআর